২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কোরবানির পশুর হাট


পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে প্রতিবারই কোরবানির পশুর হাট বসে। এমনিতেই ঢাকা শহর মানুষ, যানবাহন এবং ভবনের ভিড়ে ভারাক্রান্ত। তবু লাখো মানুষের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর আমদানি ঘটে এ সময়ে। পশুর সঙ্গে পশুবিক্রেতা বা পশু ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রাজধানীতে আসেন। ফলে ওই সময়টায় মহানগরীর যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এসব অসুবিধা মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই মেনে নেয় বটে। যদিও মানুষের স্বাভাবিক রুটিন কর্মকা- পরিচালনার ক্ষেত্রে শহরের ভেতরে স্থাপিত পশুর হাটগুলো বরাবরই বিঘœ ঘটায়। এমনিতেই যানজট ঢাকাবাসীর জন্য নিত্য বিড়ম্বনা ও সমূহ সঙ্কটের কারণ। তার ওপর পশুর হাটের কারণে অতিরিক্ত মানুষ ও পশুর যাতায়াতের ফলে ঢাকায় অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

কোরবানির বেশ আগে থেকে পশুর হাট বসা নিয়ে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা শোনা যায়। বিগত কয়েক বছরের এসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা এবং হাট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে আকাক্সক্ষা ও বাস্তবতার মধ্যে ফাঁক কতটা বড়। এবারও কোরবানির হাট নিয়ে মাসাধিককাল আগে থেকেই জল্পনাকল্পনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা পর্যন্ত বিরাজমান সমস্যা ও তার সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ ও প্রস্তাবনা দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যের ভেতর সদিচ্ছাই যে প্রকাশ পেয়েছে তাতে কোন সংশয় নেই। সম্প্রতি ঢাকা পেয়েছে দু’জন নতুন মেয়র। দায়িত্ব গ্রহণের পর উভয়ের জন্য প্রথম কোরবানি ঈদ। তারাও হাট বিষয়ে সচেতন। কোরবানির পশুর হাট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, মানুষের দুর্দশা সীমিত পর্যায়ে থাকুকÑ সবার ভেতরেই এ ধরনের শুভ চিন্তা কাজ করছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতরের আপত্তির কারণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ বছর জনবহুল এলাকায় পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে আগেভাগেই। তবে যেসব জায়গায় পশুর হাট বসানোর কথা বলা হচ্ছে তার কোন কোনটি জনবহুল এলাকাসংলগ্ন কিংবা জনঅধ্যুষিত অঞ্চলের নিকটবর্তী। অবশ্য ঢাকার কোন্ এলাকা জনবহুল নয়? যেমন কোরবানির হাটের জন্য নির্ধারিত মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা। ঢাকার সবচাইতে জনবহুল এলাকার মধ্যে প্রথমেই যে নামগুলো চলে আসে তার ভেতর অবধারিতভাবে রয়েছে মিরপুর। তাই সেখানকার কোন একটি খালি জায়গায় হাট বসানো হলে কি বলা যাবে ঢাকাকে চাপমুক্ত রাখা কিংবা ঢাকার চাপ অতিরিক্ত না বাড়ানোর লক্ষ্যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে? আবার ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা যাক। মূলত সেখানকার খেলার মাঠ কিংবা স্কুল মাঠগুলোতেই পশুর হাট বসানোর কথা রয়েছে। হাটের জন্য খালি জায়গা পাওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই খালি জায়গার আশপাশেই তো রয়েছে জনাকীর্ণ অঞ্চল। তাই শহরের ভেতরে নয়, বরং শহরের প্রান্তবর্তী কিংবা নগর-সীমানা ঘেঁষে দশটি দিকে এসব হাট বসানো সম্ভব হলে সেটাই উত্তম হতো।

অতীতে দেখা গেছে রাজধানীতে নির্দিষ্টভাবে এক কুড়ির কম বা বেশি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হলেও পথেঘাটে যেখানে-সেখানে, এমনকি গলির ভেতরে পর্যন্ত সেইসব হাটের সম্প্রসারণ ঘটেছে। এমনকি অনুমোদিত হাটের জায়গা থেকে বেশ দূরেও ছোটখাটো পশুবাজার বসে যেতে দেখা গেছে। এবার এসব অনির্ধারিত, অবৈধ এবং অননুমোদিত ছোট ছোট হাট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা গেলে নগরবাসীর যন্ত্রণা যে অনেকখানি লাঘব হবে, তা বলাই বাহুল্য। আমরা আশা করব, রাজধানীতে বসবাসকারী দেড় কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে অচল, বিপন্ন বা বিপর্যস্ত করে যত্রতত্র পশুর হাট বসানো বন্ধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।