২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যার ক্ষমা করবেন


শিক্ষকতা পেশায় যাঁদের নিয়ে গর্ব করি তাঁদের মধ্যে জাফর ইকবাল স্যার অন্যতম। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং তাঁর সহধর্মিণী দেশের সকল ছাত্রছাত্রীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। সবার কাছে আদর্শ। উপাচার্য হিসেবে যিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও একজন শিক্ষক। শিক্ষকবৃন্দ যখন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন তখন তিনি হয়ে যান প্রশাসক। আর এই প্রশাসক হওয়ার কারণেই কি এই হেন কর্ম করতে দ্বিধাবোধ করেন না? শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদিন যা ঘটল এবং যার পক্ষে ঘটানো হলো তা থেকে অনেকটা এ কথাই স্পষ্ট। তাহলে কি কেবল পদ, পদবি এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের অপ্রত্যাশিত কাজটি করা হলো? তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময় একটি বিশেষ সংগঠনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর সাইদুর রহমান খান স্যারের বাসায়। তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি আহূত শিক্ষক ধর্মঘট চলছিল। প্রফেসর রহমানকে অপমান করলে ভয়ে হয়ত ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়ে যাবে কিন্তু ধর্মঘট আরও বেগবান হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি রাতের অন্ধকারে উপাচার্যের আসন গ্রহণ করতে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, শিক্ষক যখন উপাচার্য হয়ে যান বা প্রশাসক হন তাঁদের চরিত্রের পরিবর্তন হয়ে যায়। এমন অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে, সেটা নিজের গায়ে থুথু ফেলার মতো দেখাবে। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয় এখনও নৈতিকভাবে ঐ চেয়ারে থাকতে পারেন কি? অনুরোধ করব আসুন আমরা আবার শিক্ষক হই।

ড. ইয়াসমিন হককে ছাত্ররা যেভাবে অপমান করেছেন এবং জাফর ইকবাল স্যার শহীদ মিনারে বসে যেভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। আমাদের লজ্জা, আমরা যারা শিক্ষকতা পেশায় আছি অথচ জাফর ইকবালের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম না? অবশ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু স্যার পরের দিন ছাত্রদের প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন তার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত নই। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কেউ ছাত্রদের উস্কে দিল আর শিক্ষকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবেÑ অপমান করতে হবে এরা অত ছোট নয়। এরা অতি উৎসাহী ছাত্রলীগে নতুন আগন্তুক।

যারা দলে নতুন আসে নিজেদের পরিচয় জানান দেয়ার জন্য অনেক সময় বাহুবলী প্রদর্শন করে এবং নিজের দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।

জাফর ইকবাল স্যারকে বলব, স্যার আপনার অতটা ভালমানুষ হওয়ার প্রয়োজন নেই, যারা অপমান করেছে এবং নেপথ্যে থেকে যিনি এই অপমান করার জন্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন তাদের ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কোন অধিকার নেই। স্যার ক্ষমা করবেন, আমরা পারিনি আপনার মর্যাদা রক্ষা করতে।

লেখক : সভাপতি, শিক্ষক সমিতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়