১১ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে এনজিওকে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এনজিও/এনপিওদের অনুসরণীয় নির্দেশনাবলী জারী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এনজিও ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইনের রিপোটিং এজেন্সি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ওই প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি এনজিওকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি এনজিও/এনপিও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা করবে যা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সকল এনজিও/এনপিও তাদের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী (টার্গেট গ্রুপ, ব্যক্তি বা সংগঠন/প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) যারা এক বছরে ২০ হাজার টাকার অধিক অংকের নগদ অর্থ/পণ্য/সেবা গ্রহণ করেছে, তাদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতির তথ্য এবং সমর্থিত দলিলাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী এনজিওসমূহের যে সকল গ্রাহকের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত ঋণ বা ঐ প্রতিষ্ঠানে যাদের আমানত স্থিতি ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা বা তার ঊর্ধ্বে রয়েছে সে সকল গ্রাহকের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং সমর্থিত দলিলাদি সংগ্রহ করতে হবে এবং পরিদর্শন ও অন্যান্য মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক এনজিও/এনপিও তাদের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর পরিচিতি ও লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ন্যূনতম ৫(পাঁচ) বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে। যাদের নিয়ন্ত্রণে অথবা নির্দেশনায় এনজিও/এনপিও পরিচালিত হয় তাদের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং উক্ত তথ্যাদির সমর্থনে দলিলাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।

এতে আরও বলা হয়, দাতা এনজিও/এনপিও তার সহযোগী এনজিও/এনপিও এর লক্ষ্য এবং কার্যক্রম, প্রকল্প/কর্মসূচীর এলাকা, পূর্ব অভিজ্ঞতা, আয়ের উৎস, যেমনঃ সরকারী অনুদান, ব্যক্তি পর্যায়ের দান বা বাণিজ্যিক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। প্রত্যেক এনজিও/এনপিও প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রধান কার্যালয়ে ও শাখা/প্রকল্প কার্যালয়ে সংরক্ষণ করবে। উক্ত তথ্যাবলী জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। সকল এনজিও/এনপিও নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন/আর্থিক বিবরণী (প্রতিষ্ঠানের ও প্রতিটি প্রকল্পের) ও আয়-ব্যয় হিসাব বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ এ সম্পর্কিত দলিলাদি ন্যূনতম ৫(পাঁচ) বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে।

প্রতিটি এনজিও/এনপিও ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা বা এর অধিক অংকের লেনদেন সম্পাদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করবে এবং এর ব্যতিক্রম হলে এনজিও এর নিজস্ব কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করবে। এনজিও/এনপিওসমূহ তাদের সকল আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পাদনে অগ্রাধিকার প্রদান করবে। এনজিও/এনপিও এর পরিচালনা পর্ষদ/বোর্ড অব ট্রাস্টি (সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ) ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির তহবিল উক্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে নিশ্চিত করবে। এ প্রেক্ষিতে বার্ষিক ভিত্তিতে বহিঃ নিরীক্ষা সম্পাদন করবে।