২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নোট বাছাইয়ের নির্দেশনা মানছে না ব্যাংক


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ যথাযতভাবে নোট বাছাই (সর্টিং) করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার নির্দেশনা মানছে না দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। নতুন, পুরনো কিংবা ছেঁড়া, ফাটা সব নোটের ক্ষেত্রেই হযবরল পাকিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করছে ব্যাংকগুলো। এতে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের। ব্যাংকগুলোর এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য আজ মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। জানা গেছে, বৈঠকে নোট সর্টিংয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন, লেনদেন ও এটিএমে টাকা ঢোকানোর আগে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহার ও ছোট মূল্যমানের নোট গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

নোট সর্টিং, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়া ও নেয়া, নোটে তোড়া বাঁধার নিয়ম-কানুন, জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে করণীয়, ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের জন্য পর্যাপ্ত ধাতব মুদ্রার ব্যবস্থা রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে এ বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগ থেকে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়ার সময় প্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোট আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা মানছে না। সাধারণত প্রতিদিনের লেনদেন শেষে ব্যাংকগুলোকে ভল্ট লিমিটের অতিরিক্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলো যথাযতভাবে নোট বাছাই না করার কারণে পুনঃপ্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোটে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের সঙ্গে অপ্রচলনযোগ্য নোট মিশিয়ে ফেলছে। আবার প্রচলনযোগ্য নোটের পাশাপাশি ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ, ময়লা ও বাতিল নোটের তোড়া বাঁধার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ফলো করছে না ব্যাংকগুলো। এতে মহাঝামেলায় পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট পরীক্ষকদের। পাশাপাশি তাদের পুনরায় নোট সর্টিং করতে হওয়ায় সময় ও শ্রম দুটোই বেশি বেশি ব্যয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক পরিমল চন্দ্র চক্রবর্ত্তী বলেন, ব্যাংকগুলো নোট সটিংয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় আমাদের নোট এক্সিমেনারদের ভোগান্তি ও ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই মূলত মঙ্গলবারের বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে বৈঠকে কম মূল্যমানের বিশেষ করে ২, ৫, ১০ টাকা এবং ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েন ব্যাংকের শাখাগুলো যাতে গ্রহণ করে সে বিষয়ে জোর দেয়া হবে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জালনোট চক্রের অপতৎরতা রোধে লেনদেন ও এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর সময় জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহারের বিষয়ে জোর দেয়া হবে।