২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

হিলারি কি ছিটকে পড়বেন?


হিলারি ক্লিনটন নিশ্চিতভাবেই খুব বাজে একটি গ্রীষ্ম কাটিয়েছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারে বার্নি স্যান্ডারসের কাছে হেরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলাদের কাছে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। আইওয়াতেও বার্নির পেছনে পড়ে যাচ্ছেন তিনি। কুইন্নিপিয়াক জনমত জরিপে দেখা যায়, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে মাত্র চার পয়েন্ট এগিয়ে। তার পয়েন্ট ৪৫ আর ডোনাল্ডের পয়েন্ট ৪১ এবং মারকো রোবিও মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে তিনি। এ রকম বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পেছনে বেশিরভাগই সরকারী কাজে তার ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহারকে দায়ী করছেন। ই-মেইলের এই অপব্যবহার তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হলেও, এটাই সব নয়। তার ব্যক্তিগত আরও অনেক দুর্বলতাও এর পেছনে কাজ করছে।

এপি কিংবা জিএফকে’র জনমত জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৪০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন হিলারি সদয়। মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, হিলারি সৎ। বিভিন্ন জনমত জরিপ থেকে বোঝা যায়, অনেক ভোটারই তাকে পছন্দ করেন না। তবে এসব সমস্যার জন্য তিনি একাই দায়ী নন। এই সময়ে এস্টাবলিশমেন্টবিরোধী যে মনোভাব মানুষের মাঝে বিরাজ করছে, সেখানে এস্টাবলিশমেন্টের একজন সদস্য হিসেবে ক্যাম্পেন পরিচালনা করা সত্যই কঠিন। ক্লিনটনের ক্যাম্পেনে কোন সুরভি তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে না। মাইকেল ডুকাকিসের মতোই এই ক্যাম্পেন। সম্ভবত বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এই ক্যাম্পেনটি সবচেয়ে কম রোমান্টিক।

ক্যাম্পেনগুলোতে হিলারিকে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লিনটনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তাকে ডিফেন্স করতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে তিনি স্ক্যান্ডাল নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ছেন। তাকে হোয়াইট ওয়াটার এবং দ্য রোজ ল’ ফার্মের বিষয় এবং ই-মেইল সার্ভারের বিষয়টি বিব্রত করছে। অনেক সময়ই তাকে মিডিয়ায় তার স্বামীর বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০০৮ সালে তিনি যখন ওবামার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতা করেন, সেই সময়ও এসবের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এ সকল ক্ষেত্রে ছিলেন রক্ষণাত্মক। যদিও তিনি সেরা ক্যাম্পেন চালিয়েছিলেন, তবু এসবের কারণে হেরে গিয়েছিলেন ওবামার কাছে।

তার রক্ষণাত্মক কৌশল তাকে কিন্তু শক্তিই জুগিয়েছে। তিনি সহ্য করেছিলেন, তবে ভেঙ্গে পড়েননি। কিন্তু এই রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমার কারণে তিনি বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছেন। তার ক্যাম্পেনের বক্তব্যে তিনি রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে যেমন কথা বলেছেন, তেমনি হিংস্র হয়ে ওঠা বিশ্ব নিয়েও কথা বলেছেন। তার বক্তব্যগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলোÑ তিনি সম্ভাব্য শত্রুদের কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে, তার হিসাব-নিকাশই তুলে ধরেছেন। তার সব বক্তব্যের সারমর্ম ‘যুদ্ধ’। তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেনে যুদ্ধ বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তার বক্তব্যগুলোর মধ্যে সেরা বক্তব্য সেটাই, যেখানে তিনি একজন মা, যে কিনা তার সন্তানের ডে কেয়ার ফি দেয়ার উপায় খোঁজার বিষয়টি তুলে ধরেন কিংবা কলেজ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বৃদ্ধির বিষয়ে তার উদ্বিগ্নতার কথা বলেন। তবে বক্তব্যে তিনি হাস্যরসও করেন। তিনি তার বক্তব্যে হাস্যরস আনতেই পারেন। তবে তার হাস্যরস আসলে কাউন্টার এ্যাটাক। তার ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা সাধারণ রিপাবলিকান, প্রেস এবং তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়টি হলোÑ তিনি বিল ক্লিনটনের চেয়েও বেশি স্ক্যান্ডালের ভার মাথায় নিয়ে আছেন। বিল ক্লিনটনের স্ক্যান্ডালগুলো মারাত্মক হলেও তিনি ক্রোধ প্রকাশ করেননি। তাকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি আবেগিকভাবে হেরে গেছেন। কিন্তু হিলারির ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি এ রকম কোন ভাব প্রকাশ করেননি। তাকে ক্রুদ্ধই মনে হয়।

তার ক্যাম্পেনের অঙ্গভঙ্গির মাঝে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমাই মূলত দৃশ্যমান। তিনি তার চারপাশে শক্ত দেয়াল তৈরি করে রেখেছেন। মার্টিন ম্যালি এ বিষয়ে যথার্থই বলেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ডেমোক্র্যাটকদের প্রাথমিক প্রক্রিয়া কেবল চারটি বির্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রথম চারটি রাজ্যের ভোটে ফ্রন্ট রানারের দেয়াল ভেঙ্গে দেয়া হবে। হিলারিকে বেশ শক্তই মনে হয়। তিনি যখন সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাকে বেশ কঠোরই মনে হয়। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার মধ্যে কোন ধূম্রজাল নেই। কিন্তু এই ক্যাম্পেনটি এ্যাডলাই স্টিভেনসনের আশাব্যঞ্জক ক্যাম্পেন, জন কেনেডির ভবিষ্যত আকাক্সক্ষামূলক ক্যাম্পেন, লিনডন জনসনের উচ্চাকাক্সক্ষামূলক ক্যাম্পেন, বিল ক্লিনটনের নতুন প্রজন্মের প্রতি আবেগিক ক্যাম্পেন, এমনকি বারাক ওবামার আশাবাদী ক্যাম্পেন থেকে অনেক পিছিয়ে।

আমরা উদ্বিগ্ন এক সময়ে বাস করছি। আপনি এই সময়টাতে অধিক র‌্যাডিকাল রাজনৈতিক পোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চাইবেন। বার্নি স্যান্ডার্রস তাই করছেন। আপনি এন্টি এস্টাবলিশমেন্ট ক্যাম্পেনের সঙ্গে একাত্মতা করতে চাইবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাই করছেন। অথচ হিলারি ক্লিনটন এখনও ভোটারদের মাঝে কোন মহাকাব্যিক পরিবর্তন আনতে পারেননি। তেমন কোন স্বপ্নও দেখাতে পারেননি। তিনি এখনও প্রেসিডেন্ট নমিশনপ্রাপ্তির সম্ভাব্যদের তালিকায় এগিয়ে। কিন্তু তিনি যদি ক্যাম্পেনে ভোটারদের মাঝে রোমাঞ্চ জাগাতে না পারেন, তাদের মাঝে কোন নতুন এজেন্ডা হাজির করতে না পারেন, তবে তিনি ছিটকে পড়তেও পারেন- এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

অনুবাদ : আরিফুর সবুজ

নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে