মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চসিকের ১৬৩২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে জলাবদ্ধতা নিরসন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং গ্রিন ও ক্লিন সিটি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১৬৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চসিকের নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সোমবার দুপুরে এ বাজেট ঘোষণা করেন। ঘোষিত বাজেটে কর্পোরেশনের নিজস্ব উৎস এবং উন্নয়ন অনুদান ও বকেয়া কর আদায়কে আয়ের মূল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বাজেট বক্তব্যে তিনি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কর্পোরেশনের কর্মকা- পরিচালনায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাজেট বক্তব্যে চসিক মেয়র বলেন, নগরীর ভোটার ১৮ লক্ষাধিক হলেও চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। এই নাগরিকদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর। কোন নির্দিষ্ট গ-ির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বন্দরনগরীকে মেগাসিটির নাগরিক সুবিধায় উন্নীত করতে যা করা দরকার সব কিছুই করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। নগরীর উন্নয়ন কর্মকা- সুচারুভাবে পরিচালনা করতে সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমন্বয় করা গেলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ঘোষিত বাজেটে এবারও গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতাকে মুক্ত করার পরিকল্পনা। এর সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে চসিক মেয়রের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’। এসব খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাজেটে। চসিকের ২০১৫Ñ২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে আয়ের খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছেÑ বকেয়া কর ও অভিকর, হাল কর ও অভিকর, ফিস, সম্পদ হতে অর্জিত ভাড়া ও আয়সহ কয়েকটি প্রধান খাতকে। ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী নিজস্ব উৎস থেকে আয় হবে ৬২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর ত্রাণ সাহায্য, অনুদান এবং অন্য উৎস থেকে আয় হবে ১০১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রধান ব্যয়ের খাত কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও পারিশ্রমিক। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এরপরেই রয়েছে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ। এক্ষেত্রে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পুরনো খাল উদ্ধার, সংস্কার ও খননের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

চসিক মেয়র জানান, একনেক ইতোমধ্যেই তিনটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩২৬ কোটি ২৪ লাখ টাকায় বহদ্দারহাট বারইপাড়া খাল হতে খাজা রোডের সমান্তরালে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত প্রাইমারি খাল খনন। ১৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে অ্যাসফল্ট প্লান্ট ধারা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন। ২২১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার প্রস্তাবিত একটি প্রকল্প, যার অধীনে জাকির হোসেন রোড, এয়ারপোর্ট রোড, গুপ্তখাল, মেরিনার্স রোড, চাক্তাই খালের ওপর পিসি গার্ডার, মহেশখাল, ডাইভারশন খাল ও মীর্জাখালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়াও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় বেশকিছু প্রকল্প জরুরী ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে বলে মেয়র তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ ৭৪ কোটি টাকায় চসিক নগর ভবন নির্মাণ, ৪শ’ কোটি টাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, ২৫ কোটি টাকায় বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নতুন গাড়ি ক্রয়, ১৩৪ কোটি টাকায় হিজরা খাল সম্প্রসারণ, ৩২৫ কোটি টাকায় নগরীর বিভিন্ন কালভার্ট, ড্রেন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৬৪৯ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, স্টাফ কোয়ার্টার এবং ওয়ার্ড অফিস কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ক্লিন ও গ্রিন চট্টগ্রাম শুধু স্বপ্ন নয়, এটি আমার দৃঢ় প্রত্যয়। প্রথমত, ক্লিন চট্টগ্রামের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে গ্রিন চট্টগ্রামর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ক্লিন চট্টগ্রাম বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে ময়লা আবর্জনা নিকটস্থ ডাস্টবিনে, কন্টেইনার বা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৮/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: