মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দেশে নতুন করে গুম-খুন শুরু হয়েছে ॥ অভিযোগ বিএনপির

প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে আবারও নতুন করে গুম-খুন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নেতাদের গুম ও অপহরণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে মহড়া চলছে এই আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। সরকার এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তবায়ন করছে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দলের ছয় কর্মীকে গুম করেছে। অবিলম্বে এসব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিপন এই দাবি জানান। বলেন, গত ২২ থেকে ৩০ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছয়জনকে গুম করা হয়েছে। তাঁরা এখনও নিখোঁজ। রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তাদের আদালতে পাঠানো হয়নি। তাদের সবাইকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ারও জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিপন।

ড. রিপন উল্লেখ করেন, সরকারী দলের দু-একজনকে বন্দুকযুদ্ধে হত্যার ঘটনার পর বিএনপি আশঙ্কা করেছিল, এরপর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুন করা শুরু হবে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে। ছাত্রলীগের ক্যাডার আরজু মিয়ার ক্রসফায়ারের ঘটনার পরপরই বিএনপি এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কারণ সরকারী দলের ক্যাডারদের লোক দেখানো কয়েকটি ক্রসফায়ারের পরই তারা একে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে বিরোধীদের দমনে। সে আশঙ্কা এখন সত্যে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়ী করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, যখন আওয়ামী লীগের গায়ে লাগে তখন তাদের দলের লোকজন ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু সব সময় সকল প্রকার বিচারবহির্ভূত হতাকা-ের বিরোধিতা করে আসছে। আমরা সকল প্রকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হতাকা-ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি শুরু থেকেই করে আসছি।

তিনি বলেন, ইউরোপের একজন শিশু আয়লান সারা বিশ্বকে নাড়া দিলেও বাংলাদেশে মায়ের গর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সরকারকে নাড়া দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। গুম-খুন বেড়ে যাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে দেশের সব গুম-খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই।

রিপন বলেন, গণমাধ্যমসহ কোন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে ভীতির বাইরে কাজ করতে পারছে না। মার্শাল ল’ সরকার যতটা সহ্য করত বর্তমান সরকার তাও করে না। প্রতিবাদ করলেই গুম, গুলি করছে। বিএনপির নেতকর্মীদের আটকের দুই তিন মাস পর গ্রেফতার দেখানো হয়। এটা সংবিধান স্বীকৃত নয়। এসব অধিকার সংবিধানে দেয়া নেই। অথচ সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব কাজ করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রিপন বলেন, দেশে অন্ধকার যুগ চলছে। সম্প্রতি সরকারের পার্টনাররাই সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন দেশের সাধারণ মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না। তাদের ভোটের অধিকার নেই। এরশাদের বক্তব্য আমলে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান। রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও বলছেন। আমরাও আগে থেকেই বলে আসছি দেশের কেউ নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতি স্বৈরাচারী এরশাদের সামরিক শাসনকেও হার মানিয়েছে। বিরোধী নেতাকর্মীরা গুমগুলির আতঙ্কে কোন কর্মসূচীও পালন করতে পারছে না।

অথচ আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। তাই তার নাম মুখে আনতে চাই না। এরপরও যেহেতু তিনি সরকারের অংশীদার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও মন্ত্রীর মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী। তার এ বক্তব্য এবং তার দায় এড়াতে পারেন না প্রধানমন্ত্রী ও সরকার। সরকারের অংশীদার যখন অভিযোগ তোলেন তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিত। এরশাদ যে অভিযোগ করেছেন সেই অভিযোগ থেকে সরকার বাঁচতে পারবে না। সরকার প্রধানের বিশেষ দূত হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এরশাদ। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি বলেছেন, দেশে অন্ধকার যুগ চলছে, ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি যখন এমন কথা বলেন, তা নিবন্ধিত হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাম্মী আক্তার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৮/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: