১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জামায়াতের সাবেক দুই এমপিসহ গ্রেফতার ১৩


জামায়াতের সাবেক দুই এমপিসহ গ্রেফতার ১৩

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক নাশকতা চালিয়ে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত জামায়াতের সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২০টি তাজা বোমা ও বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা উদ্ধার হয়েছে। খুবই মজবুত ও ভারি লাঠিসোটাগুলো চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ঢাকা আনা হয়েছিল। মূলত গার্মেন্টস খাতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পরিকল্পনা করছিল তারা। মজিবুর রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির এবং খুলনার সাবেক সংসদ গোলাম পরওয়ার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব আছেন। তাদের কাছে ২০টি বোমা ও অস্ত্র পাওয়া যায়। নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হচ্ছে পল্লবী থানায়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। ডিবি ও পল্লবী থানা পুলিশ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পল্লবী থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডিবি ও থানা পুলিশের একটি দল ১১ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে আটক করে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ও মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১৩ জনকে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকার জামায়াত নেতাদের নিয়ে তারা গোপনে বৈঠক করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দেশজুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করতেই বৈঠক করছিল জামায়াত নেতাকর্মীরা। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই নাশকতার অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের ৫ নবেম্বর মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একটি মামলায় আদালতে তাদের বিচারও চলছে। জামায়াতের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মজিবুর ও পরওয়ারসহ কয়েকজনই সাম্প্রতিক সময়ে দল চালিয়ে আসছিলেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পল্লবী থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আটক করে জামায়াত নেতাদের। এদের মধ্যে রাজশাহীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান এবং খুলনা-৫ আসনের সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারও আছেন বলে জানায় পুলিশ। আটক জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও জামায়াত নেতা অধ্যাপক হারুন অর রশিদসহ তিনজন জামায়াত নেতা রয়েছেন। সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধাপরাধীর মামলার রায় বানচাল ও রায় ঘোষণার পর সহিংস সন্ত্রাস চালানোসহ বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন আটক জামায়াত নেতারা। তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, তা এখন বলা সম্ভব নয় বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

পল্লবী থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা বলেন, আটক জামায়াত নেতাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: