২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঠাকুরগাঁও নিউ স্কয়ার হাসপাতালে অপারেশনের পর রোগীর মৃত্যু


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাঁও শহরের নিউ স্কয়ার হাসপাতালে রবিবার রাতে আবারো অপারেশনের পর ভুল চিকিৎসায় এক সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, সদর উপজেলার আখানগর এলাকার চন্ডি দাসের স্ত্রী প্রতিমা রানীকে বৃহস্পতিবার প্রসব বেদনায় শহরের নিউ স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে প্রতিমার সিজারিয়ান অপারেশনে জমজ বাচ্চা জন্ম নেয়। অপারেশনের পর রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

এতে সিজারিয়ান ডা. আবিদা সুলতানা ওই রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রংপুরে যাওয়ার পথে খোচাবাড়িহাট নামক স্থানে রোগী মারা যায়।

ডা. আবিদা সুলতানা জানান, অপারেশনে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। তাই রোগীকে কয়েকদিন রক্ত দেওয়ার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রক্তের গ্র“প মেচিং না করে রোগীকে রক্ত প্রদান করে। এতে রক্তের অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

রোগীর স্বামী চন্ডি দাস জানান, অপারেশনের দিন রোগীর অনেক রক্তক্ষরণ হয়। আবার রোগীকে রক্ত দেওয়ার জন্য বললে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রবিবার সন্ধ্যায় রক্ত দেয়। রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রক্ত চাপ বেড়ে যায়। এ সময় ক্লিনিকের লোকজন রোগীকে রংপুর রেফার্ড করে। রংপুরে যাওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু হয়।

ক্লিনিক মালিক শাহিন জানান, রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রোগীর রক্ত চাপ বেড়ে যায়। পরে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে রংপুর রেফার্ড করা হয়। এই ক্লিনিকে আরো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এমন প্রশ্ন করলে শাহিন জানান, মানুষের জীবন একমাত্র আল্লাহর হাতে। আমরা দায়িত্ব সহকারে রোগীর সেবা দিয়ে থাকি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মাস আগে নিউ স্কয়ার হাসপাতালে ভুল অপারেশনে এক রোগী মৃত্যু হয়। এ ঘটনা প্রশাসন ক্লিনিক সিলগালা করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ক্লিনিকের একজন নার্স বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকে। পরবর্তীতে ক্লিনিক মালিক শাহিন হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ক্লিনিকের সিলগালা খুলে নেয়। তার পরে চলে আবার সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, ওই ক্লিনিকের ম্যানেজার, বয়-আয়া নিজেরাই অনেক সময় অনেক অপারেশন করেন।