২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঘরের সাজে উৎসবের ছোঁয়া


যে কোন উৎসবে নিজেকে নতুন করে সাজাতে কে-না চায়? তাইতো উৎসব এলেই চারদিকে পড়ে যায় সাজসাজ রব। আর যখন দুটো বড় ধরনের উৎসব পাশাপাশি থাকে তখন সাজসজ্জা নিয়ে অনেকেই দীর্ঘ পরিকল্পনা করেন। যেমন ধরুন- শারদীয় দুর্গোৎসব আর ঈদ-উল আযহা। দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব প্রায় পরপর বলে দীর্ঘদিন এ দুটো উৎসবের আমেজ থাকে। তাই পূজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে সাজ-পোশাক নিয়ে কেউ ভাবছেন না এমনটা হতেই পারে না। কিন্তু শুধু নিজেকে সাজালেই কি চলবে? উৎসবে আপনি সাজবেন আর আপনার অন্দর মহল রয়ে যাবে মলিন তা কি হয়। এই উৎসবে নিজের সঙ্গে সঙ্গে তাই আপনার গৃহকোণটিকেও নতুন করে সাজিয়ে নিতে পারেন। অনেকেরই হয়ত এজন্য টুকটাক প্রস্তুতি আছে। আবার কেউ কেউ হয়ত একটু ঝাড়ামোছা কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ঘরের গোছগাছ সারবেন বলে আগেই ভেবে রেখেছেন। গৃহসজ্জায় আপনার পরিকল্পনা যাই হোক না কেন আপনি চাইলে খুব সহজে ঘরে একটা নতুন রূপ আনতে পারেন। যা উৎসবে আপনার ঘরকে অন্যের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

বলা যায় গৃহসজ্জাই নাকি অতিথিদের কাছে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিচয় তুলে ধরে। তাই এ উৎসবে নিজের ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি ঘরের ব্যক্তিত্বটাও ফুটিয়ে তুলতে একটু চেষ্টা করতেই পারেন।

কিভাবে করবেন :

* গৃহসজ্জায় যদি দীর্ঘ পরিকল্পনা থাকে তবে সে ক্ষেত্রে উৎসব সামনে রেখে বাড়িতে নতুন করে রং করিয়ে নিতে পারেন। এতে করে গোটা বাড়ির চেহারাই পাল্টে যাবে।

* ঘর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে প্রতিটি ঘরই নতুন আর ভিন্ন মনে হবে।

* বাড়ি রং করা ছাড়াও আসবাবপত্রে নতুন বার্নিশের প্রলেপ দিয়ে নিতে পারেন।

* পুরনো ফুলের টবগুলোতেও রং করিয়ে আনতে পারেন নতুনত্ব।

* পুরনো কার্পেট বদলিয়ে নতুন কার্পেট নিতে পারেন। এক্ষেত্রে রঙের পরিবর্তন করতে পারেন।

* উৎসব সামনে রেখে দরজা জানালার নতুন পর্দা লাগাতে পারেন। বিছানার চাদর, কুশন কভার এমনকি ডাইনিং টেবিলেও নতুন কভার লাগাতে পারেন।

* বাড়িতে নতুন করে রং না করেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন সহজেই আসবাবপত্রের সজ্জায় কিছুটা পরিবর্তন করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন। পুরনো আসবাবের স্থান পরিবর্তন বা পুনঃবিন্যাস করে ঘরে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। তবে জায়গা বুঝে আসবাবে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন ঘর ছোট হলে অধিকসংখ্যক আসবাব না রাখাই ভাল। সে ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে খানিকটা ফাঁকা জায়গা রাখা যেতে পারে। এতে করে ছোট ঘরকেও অনেকটা বড় দেখাবে।

* ঘরের দেয়ালে নতুন রং না করেও বৈচিত্র্য আনা যায়। দেয়ালে টানানো ছবির স্থান পরিবর্তন করে খুব সহজেই ভিন্নতা আনতে পারেন। ছবি টানানোর ক্ষেত্রে অনেকেই বসার ঘরকে প্রথম প্রাধান্য দেয়। তবে অন্দর মহলে ব্যতিক্রম চেহারা দিতে আপনি উঠার সিঁড়ি এবং করিডরের দেয়ালেও ছবি টানাতে পারেন।

* সেটি করা না গেলেও সিঁড়িতে ঢোকার মুখে ফুলের টব কিংবা মাটির বড়সড় শো-পিস দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন।

* বসার ঘরে লাইটিং এ পরিবর্তন এনে ঘরের চেহারায় এনে দিতে পারেন নতুন রূপ। দেয়ালে লাগানো বাতির বদলে ঘরের কোণে একটি ল্যাম্পসেড বসিয়ে নিতে পারেন। চাইলে বাতির রঙে ভিন্নতা রাখতে পারেন।

* ঘরের দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দরজা-জানালার নতুন পর্দা লাগাতে পারেন। তা না করা গেলেও পুরনোগুলো ভাল করে ধুয়ে লাগাতে পারেন।

* সোফার ও কুশনের কভারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে আপনি চাইলে কুশনের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। চাইলে বাজার ঘুরে নতুন ডিজাইন ও আকারের দু-চারটি কুশন এবং কিনে নিতে পারেন।

* উৎসবের কথা মাথায় রেখে পুরনো কার্পেট, ফ্লোরম্যাট পরিষ্কার করিয়ে নিন। এতে ঘরে এক ধরনের সজিবতা ফিরে আসবে।

* উৎসবের দিন ঘর সাজাতে তাজা ফুল ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আগের দিনই ফুল কিনে নিতে পারেন। বসার ঘরের সেন্টার টেবিলে সাজিয়ে রাখা ফুল অতিথিদের স্নিগ্ধতার পরশ বুলিয়ে যাবে।

* ডাইনিং টেবিলের কভার নতুন নিলে সেক্ষেত্রে রঙের ব্যাপারে ভিন্নতা আনতে পারেন। উৎসবের কথা মাথায় রেখে হাল্কা রঙের কভার বেছে নিতে পারেন। এতে খাবারের পরিবেশন ও খাবার দুটিই আকর্ষণীয় দেখাবে।

* অতিথি আপ্যায়নের কথা বিবেচনা করে ডাইনিংটাকেও একটু গুছিয়ে নিতে পারেন। চামচ, প্লেট, কাপ-পিরিচসহ অন্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ধুয়ে-মুছে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। অতিথি আপায়নের সময় অযথা খোঁজাখুঁজি করতে হবে না।

* ডাইনিং সংলগ্ন বেসিনে নতুন কিংবা পরিষ্কার তোয়ালে রাখুন। আর সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে অবশ্যই ভুলবেন না।

* বসার ঘর আর ডাইনিং ছাড়া বেডরুমে সাজসজ্জায় ও কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে পারেন। নতুন না হলেও পুরনো বিছানার চাদর ধুয়ে ভরাবুট দিয়ে নিতে পারেন। ঘরের পর্দার সঙ্গে মিলিয়ে বিছানা এবং বালিশের কভার ব্যবহার করতে পারেন। আলোর ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। খাটের পাশে দেয়ালে ঘেঁষে স্ট্যান্ড লাইট রাখতে পারেন।

* দেয়ালে টানিয়ে দিতে পারেন দু’একটা পারিবারিক ছবি। তবে ছবি লাগানোর ক্ষেত্রে আই-হাইট বিবেচনায় রাখতে হবে।

এছাড়াও গৃহসজ্জায় বৈচিত্র্য আনতে মাটির কিংবা সিরামিকের শো-পিস। টেরাকোটা প্রভৃতি দিয়ে সাজানো যেতে পারে। স্থানভেদে, মানিপ্লান্ট, পাতাবাহার কিংবা ছোট ও মাঝারি আয়তনের কাক্টাস, অর্কিড ব্যবহার করতে পারেন। গাছের ব্যবহার ঘরের পরিবেশে সজিবতা ও স্নিগ্ধতা এনে দেয়। তাহলে আর দেরি কেন? এখনি মনের মতো করে সাজিয়ে নিন আপনার অন্দরমহল।

যাপিত ডেস্ক