২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি


ক’দিন বাদেই ঈদ-উল-আজহা। এ দিনটিকে ঘিরে প্রতিটি মুসলমান পরিবারেই রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। সামর্থ্যবান পরিবার এ দিনে পশু কোরবানি দেন। যাদের সামর্থ্য নেই তারা পশু কোরবানি দেন না। তবে এ একটা বিষয় ছাড়া অন্যান্য পর্ব প্রায় একই। প্রতিটি ঘরে ঈদের দিনে ভোরবেলাতেই সেমাই রান্না শুরু হয়ে যায়। তারপর পরিবারের পুরুষেরা ঈদের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে রওনা হয়। দুপুর বেলায় খাবার মেন্যুতে হয়ে যায় ব্যাপক পরিবর্তন। প্রতিটি বাসা থেকে পোলাও, কোরমাসহ মজাদার খাবারের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও অধিকাংশ নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের ঘরেই ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন হয়ে থাকে। তবে এর পূর্বেই আরেকটি আয়োজন সম্পন্ন করতে হয়; যা ঈদের দিনের আনন্দ পরিপূর্ণ করে তোলে। খাবার মেন্যু পছন্দ অনুসারে করার জন্য কোরবানির কিছুদিন পূর্বেই কাঁচাবাজার সংগ্রহের ধুম পড়ে যায়। আর তা সম্পন্ন করতে ঝাক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। এ সময় কাঁচাবাজারের অধিকাংশ পণ্যদ্রব্যের মূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কয়েকটি পণ্য ছাড়া মূল্য তেমন একটা আকাশছোঁয়া হয়নি এমনটাই বললেন মধ্য মনিপুরে অবস্থিত মামুন জেনারেল স্টোরের কর্ণধার মোঃ মামুন বলেন, ‘কিছুদিন ধরে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিতে বাড়লেও এখন কমে আসছে কিছুটা।’ মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও অনেকে আনন্দ পাবার উদ্দেশ্যে এ সময় ঈদের বাজার ক্রয় করতে বাজারমুখী হয়ে যায়। মহা-আনন্দের এদিন পোলাওয়ের চাল, সেমাই, চিনি, ঘি, আদাসহ অনেক পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে হয়। এসব সামগ্রীর মূল্য প্রায় সকল স্থানে একই রকম।

পারিবারিক বাজেট : এ ঈদে সামর্থ্যবান পরিবারে প্রথমেই প্রাধান্য পায় পশু ক্রয়ের বাজেট। কারণ জমাকৃত অর্থের ওপর নির্ভর করে কোরবানির পশু বাছাই। আর নিজেদের সামর্থ্যর উপর ভিত্তি করে গরু বা ছাগলের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। কোরবানির পশুর জন্য টাকা রাখলেই শেষ নয়। ঈদের জন্য বাজারের টাকাও পরিমাণ মতো প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে সকল পরিবারকেই কম বেশি বাজেট করতে হয়।

ঈদের বাজার : ঈদের বাজারের লিস্টে অসংখ্য পণ্যের নাম থাকে। অবশ্য এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সেমাই, চিনি, দুধ, পোলাওয়ের চাল, মুরগির মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, তেল, ঘি, লবণ, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি।

সেমাই : ঈদের দিন সকালে যে খাবারের মাধ্যমে আনন্দের সূচনা হয়, তা হলো সেমাই; যা বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির রয়েছে। মূলত সেমাইয়ের মধ্যে লাচ্ছা সেমাই বেশ জনপ্রিয়। কুলসুম সেমাই ২০০ গ্রামের মূল্য ৩৫ টাকা, বনফুল লাচ্ছা সেমাই পড়বে ৩৫ টাকা ২০০ গ্রাম। এ ছাড়াও অন্যান্য লাচ্ছা সেমাই ও সাধারণ সেমাইয়ের মূল্য প্রায় একই মাত্রায় হয়ে থাকে।

পোলাওয়ের চাল : বছরের অন্যতম আনন্দের এদিনে দুপুরবেলা পোলাও, কোরমা ছাড়া যেন ডাইনিং টেবিল শোভা পায় না। তাই প্রতিটি ঘরে এ খাদ্যসামগ্রীটি রান্না হয়ে থাকে। অধিকাংশ মুদি সামগ্রীর দোকানে কয়েকটি ভালমানের পোলাওয়ের চাল পাওয়া যায়। চিনিগুঁড়া চালের মূল্য পড়বে ৮০ টাকা প্রতিকেজি, কালিজিরা চালের মূল্য ৮০ টাকা কেজি। এছাড়া প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চালও মিলবে। যার মধ্যে প্রতিকেজি প্রাণ পোলাওয়ের চাল ১১০ টাকা এবং চাষী ১১০ টাকা পড়বে।

ঘি : খাবার মজাদার করে তুলতে ঘি বিশেষভাবে সাহায্য করে। তেলের পরিবর্তে ঘি দিয়ে খাবার রান্না হয় ঈদের বেশকিছু আইটেম। পণ্যটি কিছুটা মূল্যবান তেলের তুলনায়। বিভিন্ন কোম্পানির ঘি বাজারে পাওয়া গেলেও মূল্য প্রায় এক। আড়ং ২০০ গ্রাম ২২৫ টাকা, প্রাণ ঘি কিনতে লাগবে ২২০ টাকা। এছাড়া রয়েছে মিল্ক ভিটা, আড়ং, রেড কাউ, ডিপ্লোমা ঘিÑ প্রতিটি কোম্পানির ঘিয়ের দাম প্রায় একই।

চিনি : সেমাই রান্নায় চিনির বিকল্প নেই। কয়েকরকম চিনি রয়েছে দেশে। যার মধ্যে ভারতীয়টি প্রতি কেজির মূল্য ৩৮ টাকা, দেশী লাল চিনি পড়বে ৪০ টাকা।

আদা : কাঁচাবাজার সামগ্রীর মধ্যে আদা অন্যতম। চায়না আদার মূল্য প্রতিকেজি ৯০ টাকা এবং দেশী আদা পড়বে ১০০ টাকা কেজি।

রসুন : আসছে কোরবানির ঈদ। প্রতিটি ঘরেই থাকবে গরু কিংবা খাসির মাংস। মাংস রান্নার জন্য আদার পাশাপাশি রসুনও প্রয়োজন আর দেশী রসুন সংগ্রহে প্রয়োজন পড়বে প্রতিকেজিতে ৬০-৭০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১০০-১১০ টাকা কেজি।

পেঁয়াজ : কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের মূল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কখনও কিছুটা কমে যায়। তবে তেমন একটা হ্রাস পায়নি। দেশী পেঁয়াজ প্রতিকেজি মিলবে ৭০-৮০ টাকায় এবং ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ পড়বে ৮০-৯০ টাকা।

সয়াবিন তেল : ঈদ-উল-ফিতরের চেয়ে ঈদ-উল-আজহায় চাহিদা বৃদ্ধি পায় সয়াবিন তেলের। এছাড়া প্রতিটি খাদ্যসামগ্রী রন্ধনে সয়াবিল তেল প্রয়োজন। বাজারে অনেক ধরনের বোতলজাত তেল থাকায় পছন্দ অনুসারে ক্রয় করা বেশ সহজ হয়ে যায়। রূপচাঁদা প্রতি লিটারের মূল্য ১০০ টাকা, তীর লিটার প্রতি মূল্য পড়বে ৯৭ টাকা, ফ্রেশ সয়াবিন তেল প্রতি লিটার মিলবে ৯৭ টাকায়।

মুরগির মাংস : এ ঈদে গরু ও খাসির মাংস দিয়ে ঘরভর্তি থাকে। তাই অধিকাংশ মেন্যুই মাংসের মাধ্যমে রান্না হয়ে থাকে। কিছুটা পরিবর্তন ও সমস্যার জন্য অনেকে আগেই ঈদের জন্য মুরগির মাংস ক্রয় করেন। কেউ কেউ দেশী মুরগি সংগ্রহ করে। বিশেষ কারণে মুরগির মাংস কিনতে হলে প্রতিকেজি ব্রয়লার পড়বে ১৩৫ টাকা এবং লেয়ার মাংস মিলবে ১৫৫ টাকা। এবং দেশী মুরগি সাইজের ভিন্নতায় হালি পরবে ৬০০-১০০০ টাকা।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে উপভোগ করার জন্য অধিকাংশ মানুষই নতুন পোশাক, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, ফার্নিচারসহ অনেক পণ্যদ্রব্য ক্রয় করেন। সঙ্গে কোরবানি দেয়ার উদ্দেশ্যে হাটে যাচ্ছেন কোরবানির পশু ক্রয় করতে। এত ব্যস্ততার মাঝেও নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যদ্রব্য ও কাঁচাবাজার ক্রয় সম্পন্ন করার ধুম পড়ে যায়। ঈদের বাজার সম্পর্কে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এসএম এমরান আলী বলেন, ঈদের কিছুদিন আগেই যতটুকু সম্ভব বাজার করা উচিত। না হলে চাঁদরাতে ও তার আগেরদিন ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি পায়। সবার আশা, সময়মতো সবকিছু করার মাধ্যমে ঈদকে পরিপূর্ণ করতে হবে।

মডেল : সনি ও রিংকি