২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

স্টোকস-বিতর্কের ম্যাচে অসিদের জয়


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা জন্ম দিল অনেক বিতর্কের। ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’- বিরল হলেও, ক্রিকেটে নতুন নয়। তবে শনিবার অসি-ফিল্ডার মিচেল স্টার্কের থ্রোয়ে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান বেন স্টোকসের আউট নাড়িয়ে দিয়েছে গোটাবিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে। প্রশ্ন উঠেছে ইংলিশ ক্রিকেটারের স্পোর্টিং মানসিকতা নিয়ে। এ নিয়ে মাঠে বাগ্-বিত-ায় জড়িয়েছেন দুই অধিনায়ক ইয়ন মরগান আর স্টিভেন স্মিথ। ৬৪ রানের বড় জয়ে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ২-০তে এগিয়ে যাওয়াকেও ম্লান করে দিয়েছে এ ঘটনা। অতিথি অধিনায়ক স্মিথ অবশ্য নিয়ম-কানুনের দোহাই দিয়ে নিজের পক্ষেই যুক্তি দেখিয়েছেন।

‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’, খাঁটি বাংলায় যেটিকে ফিল্ডিংয়ে বাধা দেয়ার অভিযোগে ব্যাটসম্যানের আউটকেই বোঝায়। সর্বশেষ এই ম্যাচে যেটির শিকার ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান স্টোকস। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে জয়ের জন্য ৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিল স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ড ইনিংসের ২৬তম ওভারের ঘটনা এটি। অসি পেসার স্টার্কের একটি বল খেলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন স্টোকস। স্টার্ক রান আউটের সুযোগ দেখে স্টাম্পের দিকে বল ছুড়ে মারেন। রান আউটের হাত থেকে বাঁচার জন্য উল্টো দিকে ঝাঁপ দেন স্টোকস। কিন্তু কি বুঝে বলের দিকে আরেকটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন...! সঙ্গে সঙ্গে আউটের আবেদন স্মিথদের। মাঠের দুই আম্পায়ার টিভি আম্পায়ারের শরণাপন্ন হলে আউট ঘোষণা করা হয় স্টোকসকে।

ওয়ানডে ইতিহাসের ৪৪ বছরের ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে এভাবে আউট হলেন স্টোকস। এই ঘটনায় কার্যত বিতর্কে বিভক্ত ক্রিকেটবিশ্ব। ইংল্যান্ড ভক্তদের মতো দেশটির বেশ কয়েক সাবেক ক্রিকেটারের মতে, স্টোকস ইচ্ছে করে বল আটকাতে এমনটা করেননি বরং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাঁর। অধিনায়ক মরগানের বক্তব্য, ‘এটা মোটেও ইচ্ছাকৃত ছিল না। মাঠের আম্পায়াররাও আমাকে তাই বলেছেন। আপনার দিকে দ্রুতগতিতে বল ছুটে এলে, আপনি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেনই। আমার মনে হয় স্টোকস সেটাই করেছিল, দুর্ভাগ্য যে বল ওর হাত ও লাইনের বরাবর ছুটছিল।’ দ্বিমত পোষণ করে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্মিথ বলেছেন, ‘উইকটরক্ষক হিসেবে ম্যাথু ওয়েড ঘটনাটি পরিষ্কার দেখেছে। ও বলল, বলটি স্টোকসের কাছে ছিল না, বরং সেটা সোজা স্টাম্পের দিকেই যাচ্ছিল। আমরা তাই আপীল করেছি এবং আম্পায়ার আউট দিয়েছেন। আমারও মনে হয় সে এটা ইচ্ছা করেই করেছে।’

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন। স্মিথের জায়গায় হলে মরগান নাকি আবেদন তুলে নিতেন! ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। ১৯৮৭ সালে করাচীতে রমিজ রাজাকে একইভাবে আউটের ফাঁদে ফেলেছিলেন ইংলিশ ফিল্ডাররা। ২০০৮Ñএ ওভালে রান নেয়ার সময় নিউজিল্যান্ডের গ্র্যান্ট ইলিয়ট ইংল্যান্ড বোলার রায়ন সাইডবটমের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পিচে পড়ে গেলেও তাঁকে ক্ষমা করেননি ইংলিশ অধিনায়ক পল কলিংউড। নিজেদের অতীত ইতিহাস বলে মাঠে ইংলিশদের আচরণ কখনই অতটা ভদ্র নয়। টেস্টে এমন ঘটনার একমাত্র কীর্তিও ইংল্যান্ডের, ১৯৫১ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এভাবে সাজঘরে ফিরেছিলেন লেন হটন! ওয়ানডেতে বাঁকি পাঁচবারে চারজনই পাকিস্তানীÑ রমিজ রাজা (বনাম ইংল্যান্ড, ১৯৮৭), মহিন্দর অমরনাথ (বনাম শ্রীলঙ্কা, ১৯৮৯), ইনজামাম-উল হক (বনাম ভারত, ২০০৬), মোহাম্মদ হাফিজ (বনাম দ. আফ্রিকা, ২০১৩) ও আনোয়ার আলি (বনাম দ. আফ্রিকা, ২০১৩)।

ম্যাচে ফেরা যাক। স্মিথ (৭০) জর্জ বেইলি (৫৪) ও ম্যাচসেরা মিচেল মার্শের (৬৪) সৌজন্যে ৪৯ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৪২.৩ ওভারে ২৪৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি অধিনায়ক মরগানের (৮৫)। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তৃতীয় ওয়ানডে মঙ্গলবার।