২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউরো বাছাই ফুটবল ॥ গোলবন্যায় মূলপর্বে ইংল্যান্ড, প্রতিশোধ স্পেনের


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তিন ম্যাচ হাতে রেখেই ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। প্রথম দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে ওয়েন রুনির দল। শনিবার রাতে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে অতিথি ইংল্যান্ড ৬-০ গোলে পরাজিত করে স্বাগিতক সান ম্যারিনোকে। ইংলিশদের হয়ে জোড়া গোল করেন থিও ওয়ালকট। এক গোল করে ইংলিশ কিংবদন্তি স্যার ববি চার্লটনের পাশে নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক রুনি।

অন্যদিকে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রতিশোধের জয় পেয়েছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নিজেদের মাঠে স্প্যানিশরা ২-০ গোলে পরাজিত করে সেøাভাকিয়াকে। বিজয়ী দলের হয়ে গোল করেন জর্ডি এ্যালবা ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। এই জয়ে নিজেদের গ্রুপ থেকে ফ্রান্সে খেলার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর সেøাভাকদের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল স্পেন। এবার তাই মধুর প্রতিশোধ নিতে পেরেছে ইকার ক্যাসিয়াসের দল। পরশুর অন্যান্য ম্যাচে লুক্সেমবার্গ ১-০ গোলে মেসিডোনিয়াকে, ইউক্রেন ৩-১ গোলে বেলারুশকে, এস্তোনিয়া ১-০ গোলে লিথুনিয়াকে, সুইজারল্যান্ড ৩-২ গোলে সেøাভেনিয়াকে, রাশিয়া ১-০ গোলে সুইডেনকে, অস্ট্রিয়া একই ব্যবধানে মলদোভাকে ও মন্টেনিগ্রো ২-০ গোলে পরাজিত করে লিচেনস্টেইনকে। এবারের ইউরো বাছাইপর্বে রীতিমতো বিধ্বংসী মেজাজে আছে ইংল্যান্ড। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে চলেছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। পরশু তারা টানা সাত ম্যাচে জয় পেয়েছে। বাছাইপর্ব পেরিয়ে সবার আগে ইউরোতে নাম লেখানোর হাতছানিতে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নামে ইংল্যান্ড। ছিল সহজ সমীকরণ, জিতলেই তিন ম্যাচ হাতে রেখে আগামী বছর ফ্রান্সে হতে যাওয়া মহাদেশ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে খেলা নিশ্চিত করার সুযোগ। গত সেপ্টেম্বরে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম লেগে ৫-০ গোলে জেতার সুখস্মৃতিও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছিল। সেই সঙ্গে রুনির সামনে ছিল দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্যার ববি চার্লটনকে ছোঁয়ার হাতছানি। সব মিলিয়ে পরশু রাতটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য ছিল বড় এক উপলক্ষ। সব লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ইংল্যান্ডের জন্য রাতটা শতভাগ সফল হয়ে বলা যায়। নিজ দেশের ফুটবলের কিংবদন্তিকে ছোঁয়ার স্বপ্নপূরণে দেরি করেননি রুনি। ম্যাচের ১২ মিনিটে স্বাগতিক ডিফেন্ডার মার্কো বেরার ডি বক্সে জন স্টোনসকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পরের মিনিটে স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে মাইলফলক স্পর্শ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চার্লটন এবং রুনি, দুজনেরই ইংল্যান্ডের হয়ে এখন গোলসংখ্যা ৪৯টি করে। মাইলফলক ছোঁয়ার পর চার্লটনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিলেন রুনি। কিন্তু বাকি সময়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি দলীয় অধিনায়ক। ম্যাচের ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। গোলটি অবশ্য আত্মঘাতী। লুক শ’র ক্রস ডি বক্সে মধ্যে বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান ম্যারিনো ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান ব্রোল্লি। বিরতির পর প্রথম মিনিটেই ব্যবধান ৩-০ করে জয় নিশ্চিত করে ফেলে ইংল্যান্ড। এ্যালেক্স অক্সল্যাড চেম্বারলেইনের ক্রসে হেড করে গোলটি করেন মিডফিল্ডার রস বার্কলি। জাতীয় দলের হয়ে এটাই প্রথম গোল এভারটনের মিডফিল্ডার বার্কলির। ৬৮ মিনিটে ফ্যাবিয়ান ডেলফের ক্রসে খুব কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান থিও ওয়ালকট। এরপর ৭৭ ও ৭৮ মিনিটে আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে ইংলিশরা। প্রথম গোলটি করেন হ্যারি কেইন। শেষ অর্থাৎ দলের ছয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওয়ালকট।

নিজেদের মাঠ কার্লোস টারটিয়েরেতে সেøাভাকিয়ার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে জর্র্ড এ্যালবার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ইউরোর টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ৩০ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে দিয়াগো কোস্টাকে অতিথি গোলরক্ষক মাটুস কোজাচিক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। তা থেকেই লক্ষ্যভেদ করেন ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে একমাত্র গোল করা এই মিডফিল্ডার। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ পেয়েছিল ভিসেন্টে ডেল বস্কের দল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তার শিষ্যরা। ফলে দুই গোলের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্পেনকে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: