২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘আমাদের পয়েন্ট দরকার’- জামাল ভূঁইয়া


রুমেল খান ॥ ‘প্রতিপক্ষ হিসেবে জর্দান অবশ্যই অনেক ভাল দল। তারা ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়। নইলে ঠিকই তারা মূলপর্বে খেলতে পারত। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ম্যাচটি যেহেতু অনুষ্ঠিত হবে আমাদের মাটিতে, তাই আমরা চেষ্টা করব তাদের সঙ্গে বেটার ফুটবল খেলতে। মোট কথা, জর্দানের বিরুদ্ধে আমাদের পয়েন্ট দরকার। সেটা যেভাবেই হোক।’ কথাগুলো জামাল ভূঁইয়ার। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার তিনি। গত বছরের নবেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০ ফুটবলারের মধ্যে একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেকড়ের টানে এসেছিলেন বাংলাদেশে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলার স্বপ্নপূরণ হয় ডেনমার্কপ্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলার জামাল ভূঁইয়ার। সেটা ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালের কথা। কাঠমা-ুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে অভিষেক হয় জামালের। কিন্তু সেই ম্যাচে ০-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। জামালের বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। পরিবারের সবাই ডেনমার্কে থাকেন। সেখানেই ছোট থেকে বড় হওয়া। পড়াশোনার বাইরে ফুটবলকে পেশা হিসেবে নিতে তৈরি করছেন নিজেকে। এর আগে কোপারহেগেন ফুটবল ক্লাব ও ফিলিপাইনের স্ট্যালিয়ং ফুটবল ক্লাবেও খেলেছেন। এখন খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে। ক্লাব পর্যায়ে খেলেন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডে।

শেখ জামাল ক্লাব মাঠেই রবিবার বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করে দলের হেড ও ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের অধীনে। সাধারণত অনুশীলন শেষ হওয়ার পরেই মিডিয়ার মুখোমুখি করা হয় কোচ, অধিনায়ক বা কোন ফুটবলারকে। তবে এদিন নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটান জাতীয় দলের টিম লিডার ইকবাল হোসেন। তিনি জামাল ভুঁইয়াকে অনুশীলন শুরুর আগেই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। এতে কোচেরও সায় ছিল। ক্লাব মাঠের বাইরে আরেকটি ছোট মাঠ আছে। সেখানেই বসে জামাল উপরোক্ত মন্তব্য করেন। ফিফা ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইপর্বে এশিয়া অঞ্চলের ‘বি’ গ্রুপের এ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে মোকাবেলা করার জন্য শনিবার বিকেলে বিমানযোগে ঢাকা পৌঁছে জর্দান জাতীয় ফুটবল দল। আগামীকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। রবিবার শেখ জামাল ক্লাব মাঠে জর্দান-বাংলাদেশ উভয় দলই পালা করে অনুশীলন করে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর পার্থে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-৫ গোলে হেরে দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ প্রসঙ্গে জামালের স্মৃতিচারণ, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলায় আমাদের মূলত ফোকাস ছিল এক অর্ধের খেলা নিয়ে। বুঝতেই পারছেন দ্বিতীয় অর্ধের কথা বলছি। আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ভাল খেলতে। ম্যাচের ফল যাই হোক, আমরা এই ম্যাচটি খেলে যথেষ্ট মোটিভেশন পেয়েছি। তবে সার্বিকভাবে ম্যাচটি খেলে পূর্ণ সন্তুষ্ট নই। আপনারা হয়ত বলতে পারেন অস্ট্রেলিয়া তো র‌্যাঙ্কিয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তাহলে তাদের সঙ্গে তো বড় ব্যবধানে হারাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বলব, এটা ফুটবল। দলীয় সমন্বয় ভাল হলে এখানে যে কোন প্রতিপক্ষকেই হারানো সম্ভব।’

অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে এশিয়ার এক নম্বর দল। চার বারের বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের সঙ্গে এর আগে কখনই খেলেনি বাংলাদেশ। স্বভাবতই এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ। কেমন দল অস্ট্রেলিয়া? জামালের উত্তর, গতি, স্কিল, স্ট্যামিনা, ফিটনেস, বল নিয়ন্ত্রণ... অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য সবক্ষেত্রেই। প্রথমার্ধে ওরা যেভাবে খেলে, তার সঙ্গে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারিনিু রীতিমতো অসহায়ই ছিলাম বলতে পারেন। ফলে চারটি গোল হজম করি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের সামলে নেই এবং একটির বেশি গোল খাইনি।’

জামাল আরও যোগ করেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বড় ব্যবধানে হারলেও ওই ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এখন জর্দানের সঙ্গে আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে চাই।’ আরেকটি প্রশ্নের জবাবে জামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাঠ স্বল্পতা। আমি ড্যানিশ লীগে খেলেছি। দেখেছি সেখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের লীগে প্রতিটি ক্লাবেরই কমপক্ষে তিনটি করে মাঠ বা স্টেডিয়াম আছে অথচ বাংলাদেশে একটি স্টেডিয়ামেই সব ধরনের ফুটবল খেলা হয়। এটা আমাকে অবাক করেছে।’

সবশেষে জামাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আপনার যদি জেতার মানসিকতা না থাকে, তাহলে কখনই জেতা সম্ভব নয়। আমি আশা করব, আমার সতীর্থদের মধ্যেও জর্দানের বিরুদ্ধে খেলায় এই মানসিকতাটা থাকবে।’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: