১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পটুয়াখালীতে পাউবোর টাকা যাচ্ছে পানিতে...


নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী, ৬ সেপ্টেম্বর ॥ পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাট। কোনভাবেই ঠেকাতে পারছে না স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ৮০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের মধ্যে মাত্র ৩৮ মিটার টিকে আছে। বাকি ৭৬২ মিটারের ৪০০ মিটার গত বছর ভেঙে যায়। আর ৩৬২ মিটার কোমেনের তা-বে পায়রার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চলতি বছর। এই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লেবুখালীর এ ফেরিঘাটটি দফায় দফায় স্থানান্তর করতে হয়েছে। এর ফলে যে কোন মুহূর্তে লেবুখালী ফেরিঘাটটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে পর্যটন নগরী কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালী-বরগুনা জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই লেবুখালী ফেরিঘাট রক্ষার্থে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে রয়েছে লেবুখালী ফেরিঘাট। এ ফেরিঘাট পর্যটন নগরী কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথ। এ ফেরিঘাটকে ঘিরে সেখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় দুই শতাধিক দোকানপাট এবং এর আশপাশে রয়েছে শতাধিক বাড়িঘরসহ গাছপালা ও ফসলি জমি। এসব সম্পদ রক্ষার্থে পায়রার ভাঙনরোধে লেবুখালী ফেরিঘাটের ৮০০ মিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সে লক্ষ্যে ১৯৮৪-৮৫’র অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড লেবুখালী ফেরিঘাটের পশ্চিম পার্শ্বে ৫০০ মিটার এবং পূর্ব পার্শ্বে ৩০০ মিটার ব্লক দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু ২০০৭ সালে সুপার সাইক্লোন সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ওই প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে পায়রার প্রবল স্রোতে ওই বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে আরও ভাঙন দেখা দেয়।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, লেবুখালী ফেরিঘাটের ভাঙন খুবই ভয়াবহ। সেখানে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য জাইকাকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাইকার প্রতিনিধি দল প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাচাইয়ের কাজও শুরু করেছেন।