২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সিরিয়ায় সংঘাত বাড়বে


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধির খবর নিয়ে মস্কোর কাছে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। পররাষ্ট্র দফতর একথা জানায়। মার্কিন প্রচার মাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাশিয়া সিরিয়ার উপদেষ্টা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের সম্প্রসারণ বলে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা ব্যক্ত করছে। কেরি শনিবার ফোন করে তার রুশ প্রতিপক্ষ সের্গেই লাভরভকে বলেন, এরূপ কোন ঘটনা সিরিয়ায় যুদ্ধের মাত্রাকে আরও চড়িয়ে দেবে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা অনলাইনের।

পররাষ্ট্র দফতর শনিবার হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে যে, যদি এরূপ খবর সত্য হয়, তা হলে সেই তৎপরতা সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে, আরও নিরীহ মানুষের জীবনহানি ঘটবে, শরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সিরিয়ায় তৎপর আইএসবিরোধী কোয়ালিশনের সঙ্গে সংঘাত দেখা দেয়ার ঝুঁকি দেখা দেবে। দফতর বলেছে, সিরীয় সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা চলতি মাসে নিউইয়র্কে অব্যাহত থাকবে। নিউইয়র্কেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসবে। রাশিয়া চার বছরের সিরীয় গৃহযুদ্ধকালে সিরিয়ার অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, রাশিয়া সিরিয়ায় এক অগ্রবর্তী সামরিক দল এবং এক বিমান ঘাঁটিতে শত শত লোকের জন্য হাউজিং ইউনিট ও একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টার পাঠিয়েছে। কোন কোন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাময়িক গৃহনির্মাণ থেকে মনে হয়, রাশিয়া বিমানবন্দরটিতে ১ হাজার উপদেষ্টা ও অন্যান্য সামরিক কর্মী মোতায়েন করতে পারে। বিমান বন্দরটিই সিরিয়ার প্রধান বন্দর-শহর লাতাকিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। শহরটি আসাদের পূর্বপুরুষদের বাসভবনের কাছে অবস্থিত। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় একথা বলা হয়। পত্রিকাটি জানায়, রাশিয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থলসৈন্য মোতায়েনের ইচ্ছা পোষণ করছে বলে কোন আভাস দেখা যায় না, কিন্তু সামরিক সরবরাহ পাঠানো বা আসাদের সমর্থনে বিমান হামলা চালানোর ঘাঁটি হিসেবে সম্ভবত বিমানবন্দটিকে প্রস্তুত করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøদিমির পুতিন শুক্রবার বলেন যে, মস্কো সিরিয়ায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িত হচ্ছে একথা বলার সময় এখনও আসেনি।সিরিয়া প্রশ্নে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া সিরীয় সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট আসাদের অপসারণ চায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরীয় সঙ্কট নিরসনের উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টায় ব্যাপক কূটনৈতিক সলাপরামর্শ চলে। শীর্ষ মার্কিন, রুশ ও সৌদি কূটনীতিকরা ৩ আগস্ট কাতারের দোহায় এক বৈঠকে মিলিত হন। পরে সৌদি ও ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মস্কোকে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। সিরিয়ার বিভিন্ন বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরাও মস্কোতে বৈঠক করেন। রাশিয়া ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে এক সম্প্রসারিত কোয়ালিশন গঠনের ধারণার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। এ কোয়ালিশনে ঐ অঞ্চলের দেশগুলো এবং সিরিয়ার নিয়মিত সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সৌদি বাদশা সালমানের সঙ্গে সিরিয়া প্রশ্নে কথা বলেন। তারা এমন এক রাজনৈতিক সমাধান সমর্থন করেন, যাতে আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বলা হয়েছে।

সিরিয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় সুবেইদা প্রদেশে শনিবার সরকারবিরোধী সহিংসতা দেখা দেয়। প্রদেশটি শক্তিশালী দ্রুজ সম্প্রদায়ের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। এর আগে শুক্রবার বোমা বিস্ফোরণে এক বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা নিহত হন। এ বিস্ফোরণে অন্য অন্তত ২২৫ ব্যক্তিও প্রাণ হারায়। মানবাধিকার কর্মীরা ও সরকারপন্থী মিডিয়া এ খবর জানায়।