২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সরকারী কেনাকাটায় পরিবর্তন আসছে


হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ পরিবর্তন আসছে সরকারী ক্রয়ে। ২০০৬ সালে প্রণীত ক্রয় আইন এবং বিধিমালায় ফাঁক-ফোকরের সুযোগে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকারী ক্রয় কার্যক্রমে সিন্ডিকেট করে কাজ বাগিয়ে নেয়াসহ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ক্রয় আইন এবং বিধিমালা সংশোধনীর বিষয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকার কারণে একদিকে বিদেশী কোম্পানি উচ্চ দরে কাজ পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্প ব্যয় বিশে^র অন্যন্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রয়ে যোগসাজশে উচ্চ দরে কাজ নিচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি। স্থানীয় কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। এজন্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের ৩৮টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে সরকারী কেনাকাটায় নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হবে না। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকারী ক্রয় আইন ও বিধিমালায় যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে এতে করে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থার (আইডা) অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেননা কোন পরিবর্তন যদি আইডার গাইড লাইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আইডা অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পে আইডার গাইড লাইনই অনুসরণ করা হবে। এ বিষয়ে ২০০৯ সালে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করা আছে। তবে সরকারী তহবিলের অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে হয়ত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিন্তু সে বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে বলা ঠিক হবে না।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ কেনাটাকায় এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এজন্য আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব একই সঙ্গে নেয়া হয়। এরপর কারিগরি মূল্যায়ন করে আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়। এজন্য সিন্ডিকেট করে উচ্চ দর দেয়ার সুযোগ থাকে না। তবে আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব নেয়া হয়। এখানে যারা বিবেচিত হয় তারা আর্থিক প্রস্তাব দেয়। এর ফলে কারিগরি প্রস্তাবে নির্বাচিত কয়েকটি কোম্পানি আর্থিক প্রস্তাব দেয়ার সুযোগ পায়। এভাবে বিদ্যুত বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিন্ডিকেট করে উচ্চ দর দেয়ার অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিদ্যুত বিভাগের নজরে আসায় আন্তর্জাতিক কেনাকাটায় এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে।

এছাড়া বড় বড় প্যাকেজ করে চিহ্নিত বা পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেয়া হচ্ছে এতে বাস্তবায়নেও ব্যাপক বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে একাধিক ঠিকাদারের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ আরম্ভ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।