১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ ১১ সেপ্টেম্বর


তৌহিদুর রহমান ॥ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এবারের ‘নিরাপত্তা সংলাপে’ সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলা, বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা, মানবপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ। এছাড়াও সংলাপে কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করবে দুই দেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানায়।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে চতুর্থ নিরাপত্তা সংলাপ শুরু হচ্ছে। এবারের নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিবছর বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপ হয়ে থাকে। নিরাপত্তা সংলাপ সামনে রেখে ইতোমধ্যে কয়েকবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা অংশ নেন। একাধিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া এবারের নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে সব বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

চতুর্থ নিরাপত্তা সংলাপে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলা, বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা, দুই দেশের নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা, মানবপাচার প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ। এছাড়াও রাজনৈতিক সহযোগিতা, যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পরে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে আসছে। সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। সমুদ্র নিরাপত্তায় মার্কিন সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীকে বিএনএস ‘সমুদ্রজয়’ জাহাজ দিয়েছে দেশটি। এছাড়া দেশটির সহায়তায় শীঘ্রই বাংলাদেশে আরও একটি জাহাজ আসছে ।

দু’দেশের মধ্যে পরপর তিনটি নিরাপত্তা সংলাপ এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সংলাপের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে তথ্য আদান-প্রদান, সামরিক বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘নিরাপত্তা সংলাপ’ শুরুর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ধরনের সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া যেত, তিন দফা সংলাপের পর সে সব সহযোগিতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে সামরিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পরিধি ও মান বেড়েছে।

নিরাপত্তা সংলাপের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমন চুক্তি সই হয়েছে। দুই বছর আগে ঢাকায় সই হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আধুনিক কলাকৌশল বিনিময়, উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সম্মতিক্রমে আইনগত সহায়তা প্রদান, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সম্মতিক্রমে সাইবার অপরাধ দমনে সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

গতবারের নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশের সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যেই দুই দেশ যৌথভাবে সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্র নিরাপত্তায় আরও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর ভূ-কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে চীনের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তবে সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয়ে চীন-বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতায় কোন প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী টম কেলি। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তাদের ঘাঁটি করার কোন পরিকল্পনাও নেই।

ঢাকার মার্কিন চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স ডেভিড মিলি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর নেতৃবৃন্দ আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা সংলাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট এখন নিরাপত্তা সংলাপে অংশগ্রহণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এই সংলাপের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহায়তার ক্ষেত্র বাড়াবে।

আসন্ন নিরাপত্তা সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মিজানুর রহমান। এর আগে দুই দেশের মধ্যেই প্রথম নিরাপত্তা সংলাপ ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকায় ও দ্বিতীয় নিরাপত্তা সংলাপ ২০১৩ সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়। আর সর্বশেষ গত বছর ২২ এপ্রিল ঢাকায় তৃতীয় নিরাপত্তা সংলাপ হচ্ছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: