মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ঠাকুরগাঁওয়ে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক বোরো সংগ্রহ : বিপাকে চালকল মালিকরা

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৪:১৮ পি. এম.

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও॥ চলতি বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে গত ৯০ দিনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চাল সংগ্রহ করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য দফতর।

চলতি বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে ঠাকুরগাঁওয়ে ৬৭ হাজার ৭২২ মেট্টিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়। গত ৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট কথা থাকলেও নানাবিধ জটিলতা, প্রতিকূল আবহাওয়া, সংগ্রহিত চাল গুদামে সংরক্ষণের জায়গার অভাব, উপরের নির্দেশ না থাকায় এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর না করায় জেলার ১২টি ক্রয় কেন্দ্রের ৫৪টি গুদামে ৫৫ হাজার ৫৫০ মে: টন গুদামজাত হয়ে পড়ে। অথচ উল্লেখিত গুদামগুলোর সংরক্ষণ ক্ষমতা ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

চলতি বোরো চাল সংগ্রহের লক্ষ্যে জেলার ১ হাজার ৬৫৩ জন চাল কল মালিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক ৩১ আগস্টের মধ্যে ৬৭ হাজার ৭২২ মেট্টিক টন চাল সরবরাহের কথা থাকলেও জায়গা ও গুদামের অভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মিল মালিকরা হাজার হাজার মেট্টিক টন চাল তৈরী করে সরকারী গুদামগুলোতে দিতে না পারায় এখন চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছে এবং মজুদকৃত চাল তাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা খাদ্য দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, জেলার ১২টি ক্রয় কেন্দ্রের গুদামগুলোতে জায়গা নেই এবং মুভমেন্টের নির্দেশ না আসায় তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এদিকে চালকল মালিকরা তৈরী করা চাল গুদামজাত করে চরম অর্থ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস জানায়, জেলার পীরগঞ্জ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা তায়েবুর রহমান ও সদর খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ৫০ জন মিল মালিকের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয় করে। ফলে সরকারী রিতীনীতি তোয়াক্কা না করা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে রংপুর বিভাগীয় খাদ্য কনট্রোলার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তায়েবুর রহমান উভয়কে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার ও বদলীর নির্দেশ দিয়েছে। ৩১ আগস্ট মওসুমের নির্ধারিত পরিমাণ চাল সংগ্রহের শেষ দিন হলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় হতে রবিবার পর্যন্ত কোন নির্দেশ এখানে পৌছায়নি। যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ কার্যক্রমের মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মিল চাতাল মালিকদের আশ্বস্ত করছেন।

মিল মালিক রওশন আলী জানান যদি সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে চাল ও মিল মালিকদের পুঁজি সর্ম্পূন্ন ভাবে হারিয়ে যাবে এবং ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে বলে তিনি আশংকা করছেন।

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৪:১৮ পি. এম.

০৬/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: