২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

১৩ বছরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


হাঁটি হাঁটি করে ১৩ বছরে পদার্পণ করল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। এখানে তিনটি অনুষদের অধীনে ১৬টি বিভাগে (ডিপার্টমেন্টে) তিন সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। প্রকৌশল উচ্চ শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে দ্বাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলো গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচীর।

দ্বাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহব্বত খান বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বৃক্ষরোপণ, রক্তদাতা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ, টেকনিক্যাল পোস্টার সেশন, টেকনিক্যাল সেমিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্মিত শর্টফিল্ম প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, শিক্ষক-ছাত্রদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি আয়োজন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যন্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

খুলনা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফুলবাড়ী গেট এলাকায় গ্রামীন পরিবেশে ১০১ একর এলাকা নিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) অবস্থিত। কুয়েটের ইতিহাস বিভিন্নভাবে ঐতিহ্য বহন করছে। এটি ১৯৬৭ সালে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনা শাখায় রূপান্তরিত হয়। খুলনা বিআইটি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার প্রায় দেড় যুগ পর ২০০৩ সালের ০১ সেপ্টেম্বর খুলনা বিআইটি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

বর্তমানে কুয়েটে তিনটি অনুষদের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেক্ট্রোনিক কৌশল, যন্ত্র কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, ইলেক্ট্রোনিক্স ও কমিউনিকেশন কৌশল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইজ্ঞিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, বায়ো-মেডিক্যাল ইজ্ঞিনিয়ারিং, এনার্জি টেকনোলজি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও মানবিক বিভাগ চালু রয়েছে। এই ১৬টি বিভাগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তিন সহস্রাধিক। দুই শতাধিক শিক্ষক, এক শতাধিক কর্মকর্তা এবং আড়াই শতাধিক কর্মচারী দিয়ে চলছে কুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও কয়েকটি বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট) চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ও লোকবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালায়ে দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রী ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় একাধিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উন্নত টেলিকমিউনিকেশন, ইন্টারনেট, ওয়াইফাইসহ ক্যাম্পাস বিস্তৃৃত ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের সুবিধাও রয়েছে এখানে।

কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রকৌশল শিক্ষায় কুয়েট বাংলাদেশের অনন্য এক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্নের এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন এক মাত্রা নিয়ে এসেছে। দেশে-বিদেশে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কুয়েট দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।