১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টাইগারদের সঙ্গেই থাকছেন হাতুরা


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মারভান আতাপাত্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই গুঞ্জন উঠে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের দিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের নজর আছে। কিন্তু এমন গুঞ্জন পুরোপুরিই উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বলেছেন, ‘কোন সম্ভাবনাই দেখছি না।’

বিদেশী কয়েকটি গণমাধ্যমেই জোর গলাতেই বলেছেÑ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের নজর এখন হাতুরাসিংহের দিকে। তালিকায় গ্রাহাম ফোর্ড থাকলেও অনেক সংবাদমাধ্যম বলছে হাতুরাকেই কোচ করতে চায় লঙ্কানরা।

এমন সব খবরের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক আলোচনা। খবরের শিরোনামে শুধুই চান্দিকা হাতুরাসিংহে। এ বিষয়ের সত্যতা জানতে গণমাধ্যমগুলো হন্যে হয়ে ঘুরছে। কিন্তু বিসিবির সিইজও বিষয়টিকে এক প্রকার উড়িয়েই দিলেন। বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আর এমন কোন সম্ভাবনাই আমরা দেখছি না। বাংলাদেশে সে ভাল আছে। তাকে নিয়ে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে। আমার মনে হয় না এমন কোন কিছু হতে যাচ্ছে।’

এ বছরের শুরু থেকে টানা সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। তাই ক্রিকেটারদের মতো ব্যস্ত সময় কেটেছে লঙ্কান এই কোচেরও। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে ছুটিতে গেছেন তিনি। এখনও ফেরেননি বাংলাদেশে। তার ফেরা নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বললেন, ‘সে ছুটিতে আছে। আজ-কালই বাংলাদেশে চলে আসবে।’

এই বিষয়টি নিয়ে কোচের সঙ্গে কোন কথা বলবে না বিসিবি। নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলছেন, ‘না এ বিষয়ে তাকে আমরা কিছুই জিজ্ঞাস করব না। এ বিষয়ে তাকে কেন জিজ্ঞাস করব? কারণ সে তো এ নিয়ে আমাদের কিছুই বলেনি। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এমন কোন কিছুই সে আমাকে বলেনি।’

বাংলাদেশ এখন দুর্দান্ত অবস্থায় আছে। হাতুরাসিংহের তত্ত্বাবধানে দলটি সেই গত বছর নবেম্বর থেকেই জয়ের ধারায় আছে। জিম্বাবুইয়েকে টেস্ট, ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এরপর দেশের মাটিতে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও সিরিজ জিতেছে মাশরাফি বাহিনী।

স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের এমন অভাবনীয় সাফল্যে চোখ রেখেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও। যেহেতু বাংলাদেশের কোচ শ্রীলঙ্কানই, তাই হাতুরাসিংহের দিকে শ্রীলঙ্কার নজর থাকাটাও স্বাভাবিক। নিজ দেশের সহকারী কোচের পদে এর আগেও ছিলেন হাতুরাসিংহে। প্রধান কোচ হওয়ার বাসনার কথা জানিয়েও রেখেছেন। লঙ্কান গ্রেট ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারাও এক মন্তব্যে হাতুরাসিংহেকে আর সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন। সব মিলিয়েই হাতুরাকে নিয়ে এত আলোচনা। শ্রীলঙ্কার প্রস্তাব হাতুরাসিংহের কাছে যাওয়াটাও স্বাভাবিকই ধরা হচ্ছে। তবে বিসিবির সিইও মনে করছেন, হাতুরাসিংহের শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

সেরেনা-বাউচার্ড জয় পেয়েছেন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কোন ব্যতিক্রম নেই। প্রতিপক্ষ পরিবর্তন হলেও বিজয়ী সেই সেরেনা উইলিয়ামস। রেকর্ড ২২তম গ্র্যান্ডসøাম হাতে তোলার পাশাপাশি ক্যালেন্ডার সøামের মিশনে নেমেছেন তিনি এবার ইউএস ওপেনে। সেই মিশনে বেশ দ্রুতবেগেই এগিয়ে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকা। উঠে গেছেন চতুর্থ রাউন্ডে। এবার অবশ্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হয়েছিল তাকে। কিন্তু শেষ স্বদেশী অবাছাই বেথানি ম্যাটেক-স্যান্ডসকে ঠিকই হারিয়েছেন আর্থার এ্যাশ স্টেডিয়ামে। তবে একইদিনে উদীয়মান তারকা বেলিন্ডা বেনচিচ বিদায় নিয়েছেন। কিছুদিন আগে রজার্স কাপে তিনি সেরেনাকে হারিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন। ছোট বোনের সেই হারের প্রতিশোধ তুললেন বড় বোন ভেনাস। এছাড়া তৃতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানাস্কাও। ঘাম ঝরানো জয়ে আরেক ধাপ অগ্রসর হয়েছেন কানাডিয়ান সুন্দরী ইউজেনি বাউচার্ডও। আর্থার এ্যাশ স্টেডিয়াম গত তিন বছর নতুন কিছু দেখেনি। সেরেনা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইউএস ওপেনে। এ বছরও যেমন ফর্মে আছেন তাকে ঠেকানোই দায়। ইনজুরির কারণে অন্যতম প্রতিপক্ষ মারিয়া শারাপোভা নেই, বিদায় নিয়েছেন আনা ইভানোভিচ ও ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। তাই শক্ত প্রতিপক্ষের সংখ্যাটা কমছে, তবে দাপট আগের মতোই ধরে রেখেছেন বিশ্বের এক নম্বর এ তারকা। যদিও তৃতীয় রাউন্ডে বিশ্বের ১০১ নম্বর তারকা বেথানি তাকে চমকে দিয়েছিলেন প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে জিতে গিয়ে। দ্বিতীয় সেটেও তুমুল লড়াই করেছেন এ অবাছাই তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭-৫ গেমের জয় তুলে নিয়ে সমতা ফেরান সেরেনা। প্রথমদিকে বল সার্ভিস নিয়েও সমস্যায় ভুগছিলেন এ মার্কিন তারকা। এছাড়া ম্যাচে করা ২৮ আনফোর্সড এরোরের অর্ধেকই তিনি প্রথম সেটে করেন। আর সে কারণে বেথানি সুযোগ পেয়েছেন তাকে চাপে ফেলার। কিন্তু তৃতীয় সেটে আসল সেরেনা ফেরেন। কোন সুযোগই পাননি বেথানি। ৬-০ ব্যবধানে আত্মসমর্পণ করে ম্যাচ হারেন। এবার ফাইনালের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে সেরেনার জন্য। বেশ কয়েকজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিদায় এবং শারাপোভার না থাকাটা ফাইনাল পর্যন্ত মসৃণ একটি রাস্তাই পেতে যাচ্ছেন তিনি।

ইভানোভিচ, ওজনিয়াকির পর এবার বিদায় নিয়েছেন সুইস তরুণী বেনচিচ এবং পোলিশ সুন্দরী রাদওয়ানাস্কাও। বিশ্বের দ্বাদশ র‌্যাঙ্কিংধারী বেনচিচ অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন এবার ইউএস ওপেনে। কারণ রজার্স কাপের সেমিফাইনালে সেরেনাকে হারিয়ে বিদায় দেয়ার পর শিরোপা জিতেই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিলেন। কিন্তু তাকে থেমে যেতে হলো তৃতীয় রাউন্ডেই। সেরেনার বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামস বর্তমান ২৩ নম্বর টেনিস তারকা। তিনি বেনচিচকে হতাশায় ফেলেন সরাসরি ৬-৩, ৬-৪ সেটে হারিয়ে। সবমিলিয়ে শীর্ষ ১২ তে থাকা কোন খেলোয়াড়কে মোকাবেলা ব্যতীতই এই প্রথম কোন গ্র্যান্ডসøামের ফাইনালে পৌঁছার সুযোগ সেরেনার। একই দিনে রাদওয়ানাস্কাকে বিদায় নিতে হয়েছে। তিনি মার্কিন উঠতি তারকা ম্যাডিসন কিসের কাছে হেরে গেছেন সরাসরি ৬-৩, ৬-২ সেটে। তবে জয় পেয়েছেন ২৫ নম্বরে নেমে যাওয়া বাউচার্ড। তিনি ডোমিনিকা সিবুলকোভাকে হারিয়েছেন অবশ্য তিন সেটের দীর্ঘ লড়াই শেষে ৭-৬ (১১-৯), ৪-৬ ও ৬-৩ ব্যবধানে। এছাড়াও জয় পেয়েছেন রবার্টা ভিঞ্চি। তিনি চতুর্থ রাউন্ডে ওঠেন ডুকু ম্যারিনোকে ৬-১, ৫-৭ ও ৬-২ সেটে হারিয়ে।