২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রূপগঞ্জে অন্তিম নিটিং অন্তিমে ॥ গ্রেফতার পাঁচ


নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ৫ সেপ্টেম্বর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চক্রান্তকারী ভুত আতঙ্কের গুজব ছড়িয়ে দেয়ায় রফতানিমুখী একটি পোশাক কারখানা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বরপা এলাকার অন্তিম নিটিং ডাইং এ্যান্ড কম্পোজিট পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ এ বন্ধ ঘোষণা করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে মালিকপক্ষ থেকে ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইয়াছিন মিয়া, ইয়ার হোসেন, লালন মিয়া, জুম্মন ও হাছিনুর রহমান হাছান। মালিকপক্ষের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গিয়াস উদ্দিন জানান, বরপা এলাকার অন্তিম নিটিং ডাইং এ্যান্ড কম্পোজিট পোশাক কারখানায় প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত এক মাস আগে কারখানার এজিএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও নাদির হোসেনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই চাকরিচ্যুতকৃত এজিএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও নাদির হোসেনের অনুসারী শ্রমিকরা পোশাক কারখানায় বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

সাগরে ইলিশের ছড়াছড়ি

নদীতে আকাল

নাব্য সঙ্কট ও দূষণ

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ সাগরে ইলিশ আছে। কিন্তু সাগর মোহনার চ্যানেলগুলোতে নেই। তাই আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, কাজল ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্ভরশীল পটুয়াখালী ও ভোলার পাঁচ উপজেলার অন্তত ২০ হাজার জেলে পড়েছে চরম পেশাগত সঙ্কটে। দিনের পর দিন নদ-নদীতে জাল ফেললেও মিলছে না ইলিশ। অভ্যন্তরীণ বাজারগুলোও ইলিশ শূন্যতায় খা-খা করছে। ভরা মৌসুমে মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে না। ইলিশ সঙ্কটের কারণ হিসেবে স্থানীয় মৎস্য দফতর ও জেলেরা নদ-নদীর নাব্য সঙ্কটকে দায়ী করছে।

স্থানীয় মৎস্য দফতর ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ পানপট্টির আগুনমুখা নদী থেকে শুরু করে চরমোন্তাজের বুড়াগৌরাঙ্গ নদ পর্যন্ত এবং চরমোন্তাজের দক্ষিণে সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অসংখ্য ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আগুনমুখা থেকে দক্ষিণ চরবিশ্বাস পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার নদীতে নাব্য সঙ্কট সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভরা জোয়ারেও ৮-১০ ফুটের বেশি পানি থাকে না। ভাটার সময়ে কোথাও কোথাও পানির প্রবাহ থাকে মাত্র ২-৩ ফুট। যা দিয়ে লঞ্চ-ট্রলার দূরের কথা নৌকা চলাচলও করতে পারে না। মৎস্য দফতরের কর্মকর্তারা জানান, ইলিশ গভীর পানির মাছ। চরের কারণে পানির স্রোতধারা কমে যাওয়ায় গভীর সাগর থেকে মোহনার চ্যানেলগুলোতে ইলিশ আসছে না। এ মুহূর্তে গভীর সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, কাজল ও তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের নদ-নদীগুলোতে একেবারেই ইলিশ ধরা পড়ছে না। গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, আগুনমুখা থেকে চরবিশ্বাস পর্যন্ত চ্যানেলটি জরুরী ভিত্তিতে খননের জন্য আরও ৪-৫ মাস আগে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এসব নদ-নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলেরা চরম পেশাগত সঙ্কটে পড়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোসলেমউদ্দিন জানান, চরমোন্তাজের দক্ষিণে সাগরের কিছু অংশ জরুরী ভিত্তিতে খনন করা প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব নদ-নদীর ওপর পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা ও বাউফল এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একাংশের অন্তত ২০ হাজার জেলে নির্ভরশীল। সারা বছর এ সকল জেলে ইলিশ মৌসুমের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু নদ-নদীগুলোতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে নানামুখী সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। কেবলমাত্র চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৫-৬ হাজার জেলে এসব নদীর ওপর নির্ভর করে বহু বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এদের মধ্যে সঙ্গতিপন্ন জেলেরা বাধ্য হয়ে সাগরমুখী হয়ে পড়েছে। বাকিরা ইলিশ সঙ্কটে দেনায় হাবুডুবু খাচ্ছে। আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত শহিদ খান, মালেক সরদার ও খালেক সিকদারসহ কয়েকজন জেলে জানান, চরের কারণে সাগর থেকে নদীগুলোতে একেবারেই ইলিশ আসছে না।

পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে বরিশাল

যাত্রা

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে ডে সার্ভিস শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারী কোম্পানির এমভি গ্রীন লাইন নামের দুটি জাহাজ। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান-এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজ দুটির উদ্বোধন করবেন। দিবা সার্ভিসের জন্য গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজের আধুনিক জাহাজ দুটি বরিশালের যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রীন লাইন ওয়াটারওয়েজ বরিশালের ইনচার্জ বাদশা মিয়া জানান, প্রতিটিতে ৬শ’ যাত্রী বহনে সক্ষম এ জাহাজ একদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে বরিশাল গিয়ে আবার ঢাকায় ফেরা সম্ভব। বৃহস্পতিবার বরিশালে পরীক্ষামূলক সার্ভিস দিয়েছে জাহাজ দুটি। তিনি আরও জানান, এমভি গ্রীন লাইন-২ ও এমভি গ্রীন লাইন-৩ আগামী ৮ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হবে। বিমানের আদলে গড়া এ জাহাজ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এতে দুই ক্যাটাগরির আসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইকোনোমি ক্লাসের ভাড়া ৭০০ টাকা এবং বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ১০০০ টাকা। এ ভাড়ার মধ্যেই রয়েছে খাবারের আয়োজন। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সকাল ৮টা ও বিকেল তিনটায় জাহাজ চলাচলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঢাকার উপ-পরিচালক কবির হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে নৌ-পথের যাত্রীসেবা টিকিয়ে রাখতে দ্রুত গতিসম্পন্ন এ ধরনের জাহাজ চলাচলের কোন বিকল্প নেই। সূত্রমতে, প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এমভি গ্রীন লাইন-২ ও এমভি গ্রীন লাইন-৩ জাহাজ দুটি ক্যাটাম্যারান টাইপের ব্রিটিশ এয়ারলাইনসের বিমানের মতো চেয়ার সিট। এর নিচের অংশ স্টিল আর উপরের অংশ ফাইবারের তৈরি। যে কারণে ডুববে না বরং উল্টে গেলেও ভাসমানই থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

প্রেমিকার অপছন্দে নায়ক

হলো খলনায়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল, ৫ সেপ্টেম্বর ॥ ভালবেসে বিয়ে করে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার ডৌয়াতলা গ্রামের ইমরান হোসেন (২২)। ভেবেছিলেন নিজের ভালবাসার মানুষকে নিয়ে সারাজীবন একসঙ্গে থাকবেন। কিন্তু ভালবাসার জন্য তাকে জীবন দিতে হলো নৃশংসভাবে। প্রেমিকা যুঁথী খানমের বাড়িতেই যে তাকে খুন হতে হবে এটা হয়ত তিনি কখনই ভাবেননি। অন্য প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার নতুন স্বপ্ন নিয়ে প্রেমিক ইমরান হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করল প্রেমিকা যুঁথী খানম ও তার সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ আগস্ট রাতে নড়াইল সদর উপজেলার সীমাখালী গ্রামে। নিহত ইমরান হোসেনের ভাই আসলাম হোসেন জানান, নড়াইল সদর উপজেলার সীমাখালী গ্রামের মৃত বাশার মিনার মেয়ে যুঁথী খানমের সঙ্গে তার ভাই ইমরান হোসেনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। এ বিষয়টি কমবেশী সকলেই জানত।

আগামী ঈদের (ঈদ-উল-আযহা) পর তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তাদের বিয়ের ব্যাপারে যুঁথীর মায়ের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে যুঁথী তার খালাত ভাই ছানি মল্লিকের প্রেমে পড়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে ইমরানের সঙ্গে প্রেমিকা যুঁথীর মনোমালিন্য হয়। বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেমিকা যুঁথীর খালাত ভাই ছানি ও মামাত ভাই রফিকুলসহ অজ্ঞাত দুইজন ইমরানকে মোটরসাইকেলে নিয়ে প্রেমিকা যুঁথীদের বাড়িতে আসে। ওই রাতে যুঁথীর নতুন প্রেমিক খালাত ভাই ছানি মল্লিক, মামাত ভাই রফিকুল, রাজু, ইমরানের প্রেমিকা যুঁথী খানম, তার ভাই নাসিম মিনা ও মা নাছিমা বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন ইমরানকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে যুঁথীদের বাড়ির পাশে মেহগনি গাছে ঝুলিয়ে রাখে।