মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বন্যা ॥ ৪ জেলায় পাঁচ শতাধিক ॥ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ উজানের ঢল আর টানাবর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বেশিরভাগ নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় পৌঁছেনি পর্যাপ্ত ত্রাণ। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

জামালপুরে ৩৫ ইউনিয়ন প্লাবিত

জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই জেলার ৭টি উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত লক্ষাধিক মানুষের মাঝে রান্নাকরা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে শনিবার দুপুরে যমুনার পানি বিপদ সীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জামালপুরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সারা জেলায় ক্রমেই বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইসলামপুরের ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলাসমূহের ৩৫টি ইউনিয়নের শতকরা ৮০ ভাগ রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধায় নতুন করে ৬৭ গ্রামে পানি

ভারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি তৃতীয় দফায় আবারও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি ১২ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৪৮ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ১ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে করতোয়ার পানি ২০ সে.মি. ও তিস্তার পানি ২৪ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এখন জেলার ৭টি উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়নের ৩শ’ ৬৭টি গ্রামের নতুন নতুন এলাকা এখন বন্যাকবলিত।

কুড়িগ্রামে সাড়ে তিন

লাখ মানুষ পানিবন্দী

জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার সকালে ধরলা নদীর পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেলার ৯টি উপজেলার ৬৩টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে আরও নতুন নতুন এলাকা। জেলার দুই শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যায় পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

যাত্রাপুর, পাঁচগাছি, বেরুবাড়ী, সাহেবের আলগা, নুনখাওয়া, রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারীসহ কয়েকটি এলাকায় বেশকিছু ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

শেরপুরে ফের বন্যা

তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ফের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। সোমেশ্বরী, কালঘোষা ও মহারশি নদীর ঢলের পানিতে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে ধানশাইল, আয়নাপুর, বাগেরভিটা, বিলাসপুর, দুপুরীয়া, কোচনীপাড়া, কালিনগর, সারিকালিনগর, কান্দুলী, চতল, সুরিহারা, হাসলিগাঁও, হাসলিবাতিয়াসহ প্রায় ১৫টি গ্রাম। ওইসব গ্রামের পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ দ্বিতীয় দফায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

টাঙ্গাইলে ত্রাণ বিতরণ

যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় পানিবন্দী দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে জেলার ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সাড়ে চারশ’ পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে বন্যাদুর্গতদের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লায়ন স্বদেশ রঞ্জন সাহা, শরিফুল ইসলাম রিপন, আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, জাহিদ মাহমুদ, ডাঃ শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৬/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: