২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অমর নায়ক সালমান শাহ স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি


সাজু আহমেদ ॥ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন অভিনেতা ছিলেন প্রয়াত সালমান শাহ। দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, দ্যুতিময় শিল্পীর নাম সালমান শাহ। অথচ সালমান শাহ বিহীন ঢালিউডে কেটে গেল ১৯ বছর। আজ ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভা অমর নায়কের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের আজকের দিনে দেশের কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে অনেকটা অভিমান করে চলে যান পরপারে। যার অকাল প্রয়াণ আজও সবার কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। অমর নায়ক সালমান শাহ স্মরণে নামকা ওয়াস্তে আলোচনা অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হলেও তার স্মৃতি রক্ষার্থে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার যে অবদান তা তার জন্ম ও মৃত্যু দিনের ছোটখাটো আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ মাত্র সাড়ে তিন বছরে সালমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যা দিয়ে গেছেন তা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্পদ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন তথা দর্শকদের হলমুখী করতে তার নিরন্তর প্রচেষ্টা ছিল অতুলনীয়। শুধু তাই নয় চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতি তার যে দরদ ও ভালাবাসা ছিল তা অন্য অভিনেতা অভিনেত্রীর মধ্যে খুব কম দেখা যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উৎকর্ষতায় সালমানের অবদান অনস্বীকার্য। চলচ্চিত্র শিল্প এবং শিল্পীদের জন্য সালমান একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। অথচ এই ১৯ বছরেই সালমান হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাস থেকে। তবে কেউ মনে না রাখলেও সালমানের জেলা শহর সিলেটের দারিয়া পাড়ার মানুষ ভোলেনি সালমানকে। তাই তো সিলেটের মানুষ আজও তার শোকে মুহ্যমান। এখনও সালমানকে খুঁজে ফেরে এলাকার মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ স্মরণে সালমান শাহ ভবনে আজ বিশেষ আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী, মামা আলমগীর কুমকুম এবং সালমানের আত্মীয় স্বজন। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের সংশ্লিষ্টরা অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে জানা গেছে।অকাল প্রয়াত জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সালমান শাহর প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। জনপ্রিয় এই নায়ক নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের চরম দুঃসময়ে ১৯৯৩ সালে এসে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। চলচ্চিত্রে তার নাম হয় সালমান শাহ। চলচ্চিত্র জীবনে সবার কাছে সালমান শাহ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন সালমান শাহ। প্রথম চলচ্চিত্র তুমুল জনপ্রিয় হওয়ায় এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবন শুরু এবং ‘বুকের ভেতর আগুন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাপ্তি। এই অভিনেতা সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্র অভিনয় করেন। এছাড়াও টেলিভিশনে তার অভিনীত গুটি কয়েক নাটক প্রচার হয়। সালমান এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যিনি যে কোন কাহিনীর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেন। তার সাবলীল অভিনয়, চমৎকৃত নৃত্য, গল্প অনুযায়ী পোশাক আশাক নির্বাচন এবং তা উপস্থাপনের ধরন ছিল আলাদা। চলচ্চিত্রে নিজেকে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্টাইল প্রতিষ্ঠা আর নান্দনিক সৌন্দর্য্যরে কারণে সহজেই দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন সালমান। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার সদ্ব্যবহারের কারণে অতি দ্রুত সবার সঙ্গেই নিজেকে মানিয়ে নিতেন। যে কোন অভিনেতা অভিনেত্রী তার সঙ্গে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত। বিশেষ করে শাবনূর-মৌসুমী থেকে শুরু করে শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, বৃষ্টি, শ্যামা প্রত্যেকেই সালমানের বিপরীতে কাজ করেছিলেন। সালমানের মৃত্যুর পর তারই অনুসারী হয়ে চলচ্চিত্রে পরবর্তী সময়ে দাপটের সঙ্গে কাজ করে গেছেন ফেরদৌস, রিয়াজ ও শাকিল খান। অভিনেত্রীদের মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বোঝাপরা ছিল। এ কারণে সর্বাধিক ১৪টি চলচ্চিত্রে সালমানের বিপরীতে শাবনূর অভিনয় করেছিলেন। রূপালী পর্দার উজ্জ্বল নক্ষত্র, নন্দিত অভিনেতা সালমান শাহ মাত্র সাড়ে ৩ বছরের অভিনয় জীবন শেষে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে লাখো দর্শককে কাঁদিয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৯ বছর পার হলেও ক্ষণজন্মা এই চিত্রনায়ককে ভোলেনি চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষ। তার মৃত্যু আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সালমান শাহ অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুজন সখী’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্নেহ’, ‘বিচার হবে’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘বিক্ষোভ’, ‘আশা ভালবাসা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘আঞ্জুমান’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘প্রিয়জন’, ‘শুধু তুমি’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘দেনমোহর’, ‘প্রেম পিয়াসী’ ও ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। এই ২৭টি চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই সালমান বেঁচে থাকবেন দেশের কোটি কোটি ভক্ত দর্শকদের হৃদয়ে।