১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমান ফিডে পুঁজিবাজারে ছন্দপতন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচক, বাজার মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। সেই সঙ্গে দর হারিয়েছে মৌল ভিত্তিসম্পন্ন তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি। নতুন কোম্পানি আমান ফিডের শুরুতেই অস্বাভাবিক লেনদেন শুরুর কারণে গত সপ্তাহে বাজারে ছন্দ হারিয়েছে, যার কারণে বাজার কিছুটা অস্থির আচরণ করতে থাকে। ফলে কিছুটা হলেও লেনদেনে মন্দাবস্থা দেখা দেয়। এমনকি এক কার্যদিবসে দুই মাসে সর্বনিম্ন লেনদেনের ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। তবে শেষ দুই কার্যদিবসে এসে আমান ফিডের দর হারাতে থাকে। এর বিপরীতে স্বল্প মূলধনী বা জাঙ্ক কোম্পানিগুলোর দর বাড়তে থাকে। ফলে সূচকে এই দরবৃদ্ধি কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পরে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেলেঙ্কারির ঝুলে থাকা মামলাগুলোর কার্যক্রম শুরু এবং রায় ঘোষণার কারণে একশ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে বসে আছেন। যার কারণে বাজারে কিছুটা গতিশীলতা কমে গেছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারও আগের তুলনায় মন্দাবস্থা চলছে। যদিও আমাদের বাজারে তার সরাসরি কোন প্রভাব নেই তবুও আতঙ্কে অনেকেই বিনিয়োগ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৩৯৪ কোটি ৫ লাখ টাকা করে, যার পরিমাণ এর আগের সপ্তাহে ছিল ৪৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪১ কোটি টাকা বা ৯.৪৯ শতাংশ। আর এর আগের সপ্তাহে কমেছিল ২২.৭৯ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৭০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যার পরিমাণ এর আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৪.২১ শতাংশ হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে। ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে ৪.৪০ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে ১০.৩৭ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে ১.০২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইতে ছিল ৪ হাজার ৮১২.৮২ পয়েন্টে। সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৬৫.৭২ পয়েন্টে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে সূচক কমেছে ৪৭.১০ পয়েন্ট বা ০.৯৮ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে কমেছিল ২৭.৩৪ পয়েন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭০৯ কোটি টাকায়। বাজার মূলধন কমার হার ০.৬৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৮৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আমান ফিডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৬০ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৮.১২ শতাংশ। ৮৯ কোটি ৯১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে স্কয়ার ফার্মা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৪.৫৬ শতাংশ। লেনদেনের তৃতীয় স্থানে থাকা শাহজিবাজার পাওয়ারের ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে- লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, ন্যাশনাল ফিড মিলস, ইসলামি ব্যাংক, ফার কেমিক্যাল ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : এআইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, সিনো বাংলা ইন্ড্রাস্টিজ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, মিরাকল ইন্ড্রাস্টিজ, জেমিনি সী ফুড, আইপিডিসি, বিডি ওয়েল্ডিং, বিচ হ্যাচারি ও দেশ গার্মেন্টস।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : সাইথ ইস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনআই ১ মিউচুয়াল ফান্ড, তসরিফা ইন্ড্রাস্টিজ, আইসিবি এমপ্লয়ীজ ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, ইসলামী ব্যাংক, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী গ্রোথ মিউচুয়াল ফান্ড ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড।