২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বন্ধ হলো রেলের ১২৫ ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্প


হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ অবশেষে আনুষ্ঠানিক বন্ধ হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১২৫টি বিজি প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পটি। কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বহু আগেই ভারতীয় ঋণ থেকেও বাদ পড়েছিল এটি। এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা এবং সঠিক দরদাতা প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও কোন অগ্রগতি না থাকায় এলওসি (লাইন অব ক্রেডিড) থেকে এ প্রকল্পটি বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষিত প্রকল্পটির বিষয়ে উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল বৃদ্ধি ব্যতীত অর্থ ছাড় বা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এরূপ শর্তে এটি চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) চলমান প্রকল্প হিসেবে এক লাখ টাকা বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ, অর্থনৈতিকভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ক্যারেজের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ভারতীয় ডলার ক্রেডিড লাইন (এলওসি) এর আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০৮ কোটি ১৩ লাখ এবং ভারতীয় ঋণের ২৪৫ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা ছিল। সেই সঙ্গে ২০১০ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১৩ সালের জুন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের পর ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান এবং ২০১১ সালের ১৯ মে দরপত্র খোলা হয়। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ব্রডগেজ কোচ তৈরি করতে না পারায় একমাত্র দরদাতা এম/এস বিইএমএল লিমিটেড ব্যাঙ্গালুর, ইন্ডিয়ার প্রস্তাব দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে নন-রেসপন্সিভ হয়।

ইতোমধ্যেই প্রকল্পটির মেয়াদকাল অতিক্রান্ত হওয়ায় এবং প্রকল্পের কোন আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পটি ভারতীয় ঋণ (এলওসি) থেকে বাতিল করা হয়। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ শীর্ষক অন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহের জন্য চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ১২৫টি ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পটির কাজ অসাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাব পাওয়ার পর পরিকল্পনা কমিশনে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রকল্পের কাজ অসাপ্ত রেখে সমাপ্ত ঘোষণার প্রস্তাব গত ২৩ জুলাই পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল অনুমোদন করেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এশিয়া উইংয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, এ প্রকল্পটির বিষয়ে বহু আগেই ইআরডির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ওই সময়ে যেটি হয়েছে সেটি হচ্ছে ভারত এখন আর মিটার গেজ কোচ তৈরি করে না। ফলে কোচগুলোর তৈরির জন্য কোন কোম্পানি পাওয়া যাচ্ছিল না। এরকম নানা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী হয়ত এখন সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। কেননা সরকারের নিয়ম রয়েছে যেহেতু প্রকল্পটি একনেক অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল। তাই এমনি এমনি বন্ধ করে দেয়া যায় না। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বন্ধ করতে হয়। বন্ধ হওয়া প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিকভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ক্যারেজ প্রতিস্থাপন, ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের স্বল্পতা নিরসন, নতুন ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ, বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা এবং সার্বিকভাবে আঞ্চলিক রেল যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা।