১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খুব খারাপ সিনেমাটিও টিভি সিরিয়ালের চেয়ে ভাল


খুব খারাপ সিনেমাটিও টিভি সিরিয়ালের চেয়ে ভাল

মোরসালিন মিজান

ঢাকার মঞ্চে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বড় ঘটনা তো বটেই। এই বয়সে তাঁর যে অভিনয়, দর্শক দেখে অভিভূত! শুক্রবার রাতের অভিনয়ের পর শনিবার সকালে কথার যাদুতে তিনি মুগ্ধ করেন ভক্তদের। এখানেও তাঁর তুলনা কেবলই তিনি। যা বলেন, যে ভাব ভাষা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তিনি প্রকাশিত হন, সত্যি অসাধারণ। গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন সেক্টরের শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এই আলাপচারিতার আয়োজন করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের বর্ণাঢ্য জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন কলকাতার কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁকে একান্তে পাওয়ার দুর্লভ সুযোগ কাজে লাগাতে যারপরনাই ব্যস্ত ছিলেন ভক্তরা। সব মিলিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর একটি আয়োজন।

উৎসবের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছের সঞ্চালনায় বেলা ১১টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসার জবাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, সত্যি আপনাদের এখানে এসে মনটা ভাল হয়ে যাচ্ছে। এমনি ছোটখাটো আলোচনাসভাতেও আপনারা এসে ভরিয়ে দেবেন, ভাবিনি। হয়ত এ কারণেই আমরা শিল্পীরা টিকে থাকি। এগিয়ে যাই। মূল আলোচনা কোথা থেকে শুরু হতে পারে সে সম্পর্কে ভূমিকাতেই বলে রেখেছিলেন সঞ্চালক। সে অনুযায়ী, পেছন ফিরে তাকানো। যেন এক ঝলক অতীত দেখে নেন জনপ্রিয় অভিনেতা। বলেন, আমার বেড়ে ওঠার প্রাথমিক পরিবেশটা খুব অনুকূল ছিল। বাবা পেশায় উকিল হলেও, অভিনয় খুব ভালবাসতেন। প্রতি শুক্কুরবার কলকাতা থেকে কৃষ্ণনগরের বাসায় আসতেন। রাতে চমৎকার আবৃত্তি করতেন তিনি। আমাদের দেখিয়ে দিতেন, কীভাবে ওটা করতে হয়। সেখান থেকে কিছু না কিছু তো নেয়া হয়েছেই। তবে অভিনয়ে আসার দ্বিতীয় কারণটি খুব মজার। সৌমিত্র বলেন, নিজেকে আড়াল করতেই অভিনয়। ছোটবেলায় আমাকে নিয়ে পরিবারে অনেক কথা হতো। অনেকেই বলতেন, এরকম একটা ছেলে কোত্থেকে এলো আমাদের বাড়িতে? গায়ের রং কালো। নাক চোখ নেই। যথেষ্ট রুগ্নও ছিলাম। টাইফয়েড জ্বরে ৬৩ দিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছিল। সেইসমস্ত কারণে ভেতরে এক ধরনের হীনম্মন্যতা জায়গা করে নিয়েছিল। মনে হচ্ছিল কিছু হবে না আমাকে দিয়ে। তবে যখনই অভিনয় করতাম, লোকে প্রশংসা করত। সেই প্রশংসা আর নিজেকে আড়াল করার উপায় খুঁজে পাওয়া অভিনয়ে আসার বড় কারণ। সৌমিত্র জানান, কলকাতায় আসার পর তাঁর থিয়েটার দেখা শুরু। এ প্রসঙ্গে আসে শিশির কুমার ভাদুরীর কথা। বলেন, বিখ্যাত এই শিল্পীর অভিনয় দেখে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা হলো আমার। পরবর্তীতে তিন বছর ধরে ওঁর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার চিন্তাভাবনার ভিতগুলো ওখানে তৈরি হয়। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি ছিলাম ঘোষক। অপেক্ষা করে বসে থাকতে হতো, কখন একটি গান শেষ হবে। তার পর নতুন ষোষণা দেব আমি। বেশ বিরক্তির ছিল এ কাজ। তবে কাজটি করতে গিয়ে আমার ধৈর্য শক্তিটা বাড়ে। তার চেয়ে বড় কথা, ভাল করে মাইক্রোফোন ব্যবহার করাটা শিখি রেডিও থেকে। এভাবে প্রস্তুতিটা চলছিল।

সিনেমায় কীভাবে শুরু হলো? সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কেমন কেটেছে? প্রশ্নগুলো অনিবার্যভাবেই চলে আসে। উত্তরে সৌভাগ্যবান অভিনেতা বলেন, সিনেমায় অভিনয়ের তো ভীষণ তৃষ্ণা ছিল। তবে সুযোগটি এসেছিল অপ্রত্যাশিতভাবে। তখন ‘পথের পাঁচালী’ হয়ে গেছে। সত্যজিৎ রায়ের নামে রব উঠছে সর্বত্র। ঠিক তখন পরবর্তী ছবির জন্য কলেজে পড়ুয়া একজন ছেলে খুঁজছিলেন পরিচালক। তো, আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করার প্রস্তাব পেলাম আমি। কিন্তু প্রথম দেখাতেই তিনি বললেন, এ হে, আপনি যে বড্ড বড় হয়ে গেলেন! তবে এখানেই সব চুকেবুকে দিলেন না। আমার সঙ্গে প্রচুর কথা হলো সেদিন। আমাকে দিয়ে বলালেন তিনি। অনেক পরে বুঝেছি আমার কথা বলার ঢং, উচ্চারণ, ব্যক্তিত্ব কেমন ওসব বোঝার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। নির্মাণের ধারাবাহিকতায় ‘অপরাজিতা’ সিনেমাটির পর ‘অপুর সংসার’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিশ্ব সংসার অর্থেই অপুর সংসার ভেবেছিলেন তিনি। আমার তখন চিকেনপক্স। ডাক পেয়ে ওই অবস্থায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। এবার প্রথম দেখায় বললেন, সবাই যে বলল মুখে দাগটাগ হয়ে গেছে! তার পর প্রশ্নÑ অভিনয়ের ইচ্ছে আছে? একটু যোগাযোগ রাখুন। দরকার হতে পারে। সত্যজিৎ রায় তখন দুটো ছবি একসঙ্গে করছেন। ‘জলসাঘর’ ও ‘পরশপাথর’। আমাকে গিয়ে শূটিং দেখতে বললেন। আমার ডর ভয় কাটতেই হয়ত বলা। তো, একদিন ‘জলসাঘর’ এর শূটিং দেখে ফেরার পথে বললাম, মানিক বাবু আমি কি এবার যাব? জবাব না দিয়ে তিনি বললেন, আসুন ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। প্রখ্যাত সেই অভিনেতার সামনে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে হঠাৎই তিনি বললেন, ছবি দা, এই আমার অপুর সংসারের অপু! আমার তখন কী অবস্থা বলে বোঝাতে পারব না। সিনেমায় এভাবেই শুরু। সৌমিত্র অবশ্য যোগ করেন, কথা শুনে আমার শুরুটা যত সুগম মনে হচ্ছে অতটা নয়। ‘অপুর সংসার’ করে টক অব দ্য টাউন হয়ে গিয়েছিলাম। নাম ধাম হয়েছিল। এরপরও অভিনয়ে দীর্ঘকাল ধরে থাকা মানে, বিপুল লড়াই। অনেক কিছু ছাড়তে হয়। দিতে হয়। সে তো এখনও অব্যাহত।

মাঝখানে আরও কিছু কথা হলো। তার পর ফের সত্যজিৎ রায় ও যুগল পথচলার খুঁটিনাটি। সৌমিত্র বলেন, প্রতিভার বিপুল পার্থক্য সত্ত্বেও মানিক বাবুর সঙ্গে আমার দারুণ একটা সম্পর্ক হয়েছিল। মহান শিল্পীর কাছ থেকে প্রথম পদক্ষেপগুলো শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম আমি। আমাদের মধ্যে বোঝাপরাটা বেশ ছিল। মৌলিক বিষয়গুলোতে সহমত ছিল। ফলে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে সুবিধে হতো। তিনিও হয়ত কিছু সুবিধে আমার কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তা না হলে ১৫টার মতো ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আমাকে নেবেন কেন? এ পর্যায়ে অভিনেতার রসবোধের পরিচয়টি পাওয়া যায়। বলেন, তিনি হয়ত ভাবতেন আমাকে নিলে গাদা পিটিয়ে মানুষ করতে হবে না। সত্যজিতের অনেক ছবিতে অভিনয় যেমন করেছেন, তেমনি কোন কোন চরিত্রে অভিনয়ের আবদার করেও পাননি বলে জানান তিনি। তাঁর এই বলা যে সত্যজিৎকে আরও স্পষ্ট করার স্বার্থে তা বোঝতে কারও বাকি থাকে না। প্রিয় পরিচালকের বিনয়ের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ছবিতে আমাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে মানিক বাবু বলেছিলেন, চরিত্রটির মাত্র কুড়িটা সংলাপ। তুমি কি করে দেবে? সত্যজিতের প্রতি প্রেমের সবটুকু প্রকাশ ঘটিয়ে শক্তিমান এই অভিনেতা বলেন, আমাকে মানিক বাবুর ঘরের ছাতা রাখার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বললেও ‘হ্যাঁ’ বলতাম। চরিত্রটি করতেও ‘হ্যাঁ’ বললাম। তারও পরে একদিন আমাকে ডেকে বললেন, তোমাকে আমি প্রচুর স্বাধীনতা দিয়েছি। যা করতে চেয়েছ, করেছ। এই ছবিটা দুজনে মিলে ভাববো। এভাবে দীর্ঘকাল আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। সৌমিত্র জানান, কোন ছবিতে তিনি না থাকলেও সে ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন সত্যজিৎ।

আলোচনায় একটু আগেভাগেই চলে আসে কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গটি। কবিতার সঙ্গে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবিতা আসলে আমার নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছিল। ইশকুলে পড়ার সময় থেকেই কবিতা লিখতাম। বলতেই লজ্জা করছে। কারণ, ওই বয়সে মেয়েদের প্রতি ভাললাগার একটা ব্যাপার শুরু হয়। তার পর বিশেষ কোন মেয়েকে ভাললাগার দিন আসে। যার জন্য প্রথম কবিতা লেখা, সে প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলেও জানান তিনি। সহাস্যে যোগ করেনÑ তখন একটা মেয়ের হাত ধরতে অনেক সময় লাগত। যাই হোক, এই প্রেমানুভূতি কবিতা লেখায় উৎসাহ যুগিয়েছে। তখন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসটা ছিল। সেই প্রেক্ষিতে নিজেকে খোঁজাও কবিতা লেখার একটা কারণ। অনেকে বলেন কবিতা ও অভিনয় সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি ধারা। আমি মনে করি সব শিল্পের মধ্যে নানা রকম বন্ধন ছিল। আছে। অনুষ্ঠানে আবৃত্তির প্রসঙ্গ তোলেন বাচিক শিল্পী গোলাম সারওয়ার। তাঁর প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানের মধ্যমনি বলেন, আবৃত্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভীষণ দরকার। কণ্ঠ দিয়ে জিহ্বা দিয়ে কাজ করা তো অভিনেতার প্রথম শর্ত। একদম প্রাথমিকটা তো কথা বলা। অভিনেতা আবৃত্তি চর্চা না করলে চর্চা পূর্ণ হয় না। আমি নিজে রোজ সন্ধ্যায় জোরে জোরে আবৃত্তি ও গান করতাম। আবৃত্তির এই শিক্ষা রবীন্দ্রনাথ থেকে গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

আড্ডায় ড. ইনামুল হক নাট্যকার সৌমিত্রের কথা জানতে চান। উত্তরে তিনি বলেন, আমার যে বন্ধুরা নাটক লিখত তাদেরটা অন্যরা নিয়ে যেত। আমি যাদেরটা পেতাম, ভাল লাগত না। এই অভাব পূরণ করতেই নাটক লেখা। বাইরের নাটক প্রচুর পড়তাম। সেটা সাহায্য করেছে। সব মিলিয়ে গোটা তিরিশেক নাটক লেখার তথ্য দেন সৌমিত্র। এর পর অবাক না হয়ে পারা যায় না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ষাটের দশকের সিনেমায় সৌমিত্র ছিলেন আমাদের স্বপ্নের নায়ক। পরে তাঁর নাটক দেখেছি। গতকালকের অভিনয় দেখেও মন্ত্রমুগ্ধ। আমরা আপনার আশীর্বাদ চাই। জবাবটাও ছিল চমৎকার। সৌমিত্র বলেন, আশীর্বাদ দেয়ার কিছু নেই। আসলে অভিনয় না করার বিকল্প নেই। অভিনয়ে না থাকা মানে বসে যাওয়া। বসে যাওয়া মানে শুয়ে যাওয়া। শুয়ে যাওয়া থেকে চিরতরে শুয়ে যাওয়া। সেটা চাইছি না। এজন্যই অভিনয়টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি।

আলোচনায় ওঠে আসে গ্রুপ থিয়েটার ও পেশাদার থিয়েটার প্রসঙ্গ। নাট্যকার্মীরা বলেন, পেশাদার থিয়েটার কলকাতায় খুব একটা বিকাশ লাভ করল না। এখানেও নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে। হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এর ভবিষ্যত কী? জবাবে মঞ্চ তারকা বলেন, কলকাতার পেশাদারি মঞ্চের ইতিহাস ১০০ বছরের বেশি। একসময় চমৎকার বিকাশের মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু যখনই প্রফেশনালিজম ও কমার্শিয়ালিজম এক হয়ে গেল তখনই ক্ষয় শুরু। তিনি বলেন, যে কোন কাজ প্রফেশনালি করলে দায় আরও বেশি নেয়া যায়। মনে হয়, যাদের সামনে অভিনয় বা গান করছি আমার প্রতি তাদের দাবি বেড়ে গেল। সর্বোচ্চ দিয়ে তাদের তুষ্ট করতে হবে।

বাংলাদেশের নাটক সিনেমা এখন তেমন দেখা হয় না জানালেও তিনি বলেন, এই দেশ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। অনেক মূল্য দিয়ে মুক্তি লাভ করেছে বাংলাদেশ। সেই ত্যাগ বিফলে যেতে পারে না। এখান থেকে নতুন চিন্তার উদ্বোধন হবে, আশা করি। একই আলোচনায় নিজের শহর কলকাতার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ঠিক উল্টো দেখি কলকাতায়। সবই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সকলেই অনুকরণপ্রিয়। বাজে কিছু ভ্যালুজ ওরা আঁকড়ে ধরে আছে। তরুণ-তরুণীরা যে ভাষা বলছে সেই ভাষা এতটাই মিশ্র, বাংলা কতটুকুন বুঝতে অসুবিধা হয়। এর পর বাংলাদেশের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাঙালী জাতিসত্তাটাকে আপনারা ধরে রেখেছেন। ধরে রাখবেন আশা করি।

কলকাতায় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল দেখা যায় না। পুরনো এ অভিযোগটিও তোলা হয় তাঁর সামনে। জবাবে প্রবীণ অভিনেতা বলেন, দুই বাংলার মধ্যে কমিউনিকেশনটা জরুরী। অত্যন্ত জরুরী। আপনাদের পক্ষে যতটা জরুরী, তারও বেশি জরুরী পশ্চিম বঙ্গের জন্য। কলকাতার নাটকে সিনেমায় বাংলাদেশের ভাষাকে বিকৃত করা হয়Ñ এমন অভিযোগ নিয়েও জমে উঠেছিল আলোচনা। এ প্রসঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, কলকাতায় ভাল বাঙাল অভিনেতাই তো নেই আর। তারা ভাল করে বাংলা ভাষা বলতে পারেন না। কারা এগুলো করে তা জানি না। এ পর্যায়ে টিভি সিরিয়ালের সবচেয়ে কঠিন সমালোচনাটি করে বসেন তিনি। বলেন, টিভি সিরিয়ালকে নাটক বলবেন না। ওটা থিয়েটারের পরিচয় না। নাটকের পরিচয় না। সব থেকে খারাপ যা কাজ, এগুলো তা-ই। টিভি সিরিয়াল খুব খারাপ সিনেমাটির চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ফিল্মের আদি অন্ত মধ্য থাকে। টিভি সিরিয়ালের কিচ্ছু নেই।

এভাবে নানা বিষয়ে এগিয়ে চলে আলোচনা। শেষ হয় না। শেষ করতে হয়। সবার কাছে আবারও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: