২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সাকার ছেলে হুম্মাম গ্রেফতার, জেলে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দ-াদেশপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে হুসাম উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজধানীর গুলশান থানায় দায়েরকৃত ২০০৮ সালের জুলাইতে দায়েরকৃত একটি মারামারির মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানম-ি থেকে হুসাম উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ধানম-ি থানা পুলিশ। তবে তিনি হুম্মাম কাদের চৌধুরী হিসেবেই পরিচিত। ধানম-ি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আযম মিয়া জনকণ্ঠকে জানান, ২০০৮ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর গুলশান মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার আসামি হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে ঢাকার সিএমএম আদালত। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ওয়ারেন্টে আসামির নাম ঈমাম কাদের চৌধুরী লেখা ছিল। ঈমাম কাদের চৌধুরীই যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী এটি নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়। আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মেহের নিগার সূচনার আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গুলশান থানার মামলাটি ঢাকা মহানগর হাকিম-৫ নম্বর আদালতে বিচারাধীন। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়িতে অবস্থান করছে, এমন তথ্যে ভিত্তিতে ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ ও ধানম-ি থানা পুলিশ। অভিযানকালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক হাঙ্গামা ও মারামারি হয়। তল্লাশিকালে হাতাহাতিতে ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। ওই সময় তার পরিবারের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযানকালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ির দামি মালামাল তছনছ ও লুটপাট করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর রাতে গুলশানের একটি বাড়ি থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাকা চৌধুরীর বড় ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী ওরফে ফায়াজ পিতার অপকর্ম, যুদ্ধাপরাধী হিসাবে কুখ্যাতি এবং নানা ধরনের অশালীন মন্তব্য করে বিতর্কিত হওয়ার কারণে ১১ বার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পিতার হিংস্র মানসিকতার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। নতুবা ছেলের জীবনও বিপন্ন হতে পারত। সাকা চৌধুরীর মতো স্বভাব তার ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর। সাকা চৌধুরী গ্রেফতারের পর হুম্মাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামে বসে দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির নীলনকশা তৈরি করছিল। এজন্য সাকা চৌধুরী গ্রেফতারের পর থেকেই হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ওপর সর্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। গ্রেফতারের পর বিএনপির তরফ থেকে বড় ধরনের কোন কর্মসূচী ঘোষণা না করায় চরম ক্ষুব্ধ ছিল সাকা চৌধুরী। পরবর্তীতে সাকা চৌধুরীকে ডিবি পুলিশ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখায়। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রায় ঘোষণার আগে রায়ের প্রায় পুরোটাই ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ১৭২ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে ১৬৫ পৃষ্ঠাই ফাঁস হয়ে যায়। এমন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে আসে রায় ফাঁসের সঙ্গে সাকার স্ত্রী ও ছোট ছেলে ছাড়াও সাকার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফকরুল ইসলাম, তার সহকারী এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী নয়ন আলী, ফারুক হোসেন ও সাকার ম্যানেজার মাহবুবুল আহসান জড়িত। এ মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে মেহেদী হাসান ব্যতীত অন্য ৪ জন গ্রেফতার হয়। আসামিদের মধ্যে এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান পলাতক। গ্রেফতারকৃত কর্মচারী নয়ন আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তাতে রায় ফাঁসের জন্য নতুন সীমকার্ডসহ মোবাইল ফোন, মোটা অঙ্কের নগদ টাকা পায়। প্যানড্রাইভের মাধ্যমে কপি করে রায়ের কপি ফাঁস করে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: