১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্ব মোড়লদের ঘুম ভাঙছে ৮ লাখ অভিবাসী নেবে জার্মানি


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সমুদ্রের তীরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা আইলান কুর্দীর ছোট্ট নিথর দেহের ছবিটাই হয়ত বিশ্ব মোড়লদের ঘুম ভাঙাতে সহায়তা করেছে। এ বছর অন্তত ৮ লাখ অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে জার্মানি। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে সিরীয় অভিবাসীরা জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে। শনিবার সকালে পাঁচ হাজার অভিবাসী হাঙ্গেরি থেকে অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাদের জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউহা সিপিলা। হাঙ্গেরি থেকে বাসে চেপে অস্ট্রিয়ায় পৌঁছা অভিবাসীর বেভিরভাগই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিক। তবে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের লোকেরাও এদের মধ্যে আছে। আর এদের কাক্সিক্ষত গন্তব্য জার্মানি। এসব অভিবাসীর শরীরে দীর্ঘ ক্লান্তির ছাপ থাকলেও অস্ট্রিয়ায় পৌঁছার পর এদের মুখে দেখা যায় হাসির ঝিলিক। এদের মধ্যে কোলের শিশু থেকে শুরু করে হুইল চেয়ারে বসা বৃদ্ধরাও ছিলেন। এদের অনেককে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়।

শনিবার সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব শরণার্থী অস্ট্রিয়ায় আসে এবং আরও এক গ্রুপ পথে রয়েছেন বলে অস্ট্রিয়া পুলিশ জানায়। খবর এএফপি, বিবিসি, আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

শুক্রবার হাঙ্গেরি সরকার এসব শরণার্থীকে বাসে করে অস্ট্রিয়া সীমান্তে পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত কয়েক দিন আগে হাঙ্গেরি জার্মান অভিমুখী এসব শরণার্থীকে ট্রেনযোগে পরিবহনে অস্বীকৃতি জানালে শুক্রবার হাজার হাজার শরণার্থী হেঁটে রওনা দেয়। তারপর এদের বাসে করে পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয় হাঙ্গেরি সরকার। এদের পরিবহনে জন্য ১০৪টি বাস সরবরাহ করেছে হাঙ্গেরি। অভিবাসীদের হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় নিতে একটি বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আধ ঘণ্টা অন্তত এসব ট্রেন ছাড়ছে। শনিবার হাঙ্গেরি সরকারের মুখপাত্র জোলতান কোভাক বলেন, আমরা হয়ত অভিবাসী পরিবহনে এর চেয়ে আর বেশি বাস বা ট্রেন সরবরাহ করতে পারব না।

শনিবার যেসব অভিবাসী অস্ট্রিয়ায় পৌঁছায় তাদের স্বাগত জানিয়ে প্লাকার্ড প্রদর্শন করে অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়ার রেডক্রস কর্মীরা এদের মধ্যে কম্বল এবং চা বিতরণ করে। অস্ট্রিয়া সরকার জানিয়েছে, এসব অভিবাসী অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারে। আবার তারা জার্মানিতেও চলে যেতে পারে।

দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে শনিবার অস্ট্রিয়া পৌঁছায় সিরীয় উদ্বাস্তু আইয়াজ মোরাদ। তিনি বলেন, আমার মনে হয় আমি আবার বাড়িতে এসে পৌঁছেছি। অস্ট্রিয়ার সরকার এবং জনগণ খুবই উদার।

অস্ট্রিয়া সীমান্তে পা রাখার পর এদের মধ্যে একজন বয়সী লোক চেঁচিয়ে বলে ওঠে অবশেষে আমরা আসতে পেরেছি। আমরা হাঙ্গেরি সীমান্ত অতিক্রম করেছি। মোহাম্মদ নামে অপর একজন সিরীয় অভিবাসী বলেন, আমরা জার্মানি যেতে পারব। এটা জেনে খুব ভাল লাগছে।

জার্মানির স্থানীয় সরকারের মুখপাত্র শিমন হিলজারস বলেন, শনিবার বিকেলের মধ্যেই অনেক অভিবাসী মিউনিখে আসতে পারে। এদের পরিবহনে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অভিবাসীদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয়া। কাউকেই বেশিক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে হবে না। আমাদের ধারণা শনিবারের মধ্যেই পাঁচ থেকে দশ হাজার অভিবাসী জার্মানি এসে পৌঁছাতে পারে।

গণমাধ্যমে শিশু আইলানের ছবি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ইউরোপের দেশগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শরণার্থী নিয়ে আর এতবড় সমস্যায় পড়েনি এই মহাদেশ।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তত দুই লাখ গৃহহীন লোককে এখন আশ্রয় দেয়া উচিত ইউরোপের। এরপর ১২শ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয় ব্রিটেন। এগিয়ে আসে আয়ারল্যাল্ড। দেশটির অনেক লোক এসব গৃহহীনকে আশ্রয় দিতে নিজের বাড়ি ছেড়ে দিতে রাজি হয়। অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য নিজের বাড়ি দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইউহা সিপিলা।

শনিবার দেশটির জাতীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সিপিলা বলেন, আগামী বছরের শুরু থেকে তার উত্তর ফিনল্যান্ডের বাড়িতে অভিবাসীরা থাকতে পারেন। সিপিলা এখন সাধারণত ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে বসবাস করেন।