মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশু সম্ভাবনা নেই, আজ থেকে বৃষ্টি বাড়বে

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ভারতে ব্যাপক অবনতি

নিখিল মানখিন ॥ আপাতত দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির তেমন সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের অনেক রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে ভারি বর্ষণ। বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিতে ওই সব রাজ্যের বন্যা ও বৃষ্টির প্রভাব পড়ছে। উজানের পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাত হ্রাস পাচ্ছে না। বরং আজ রবিবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ২৩ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর বৃদ্ধি পায় ৩৭ নদীর পানি। এভাবে দেশে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বেগে উজানের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নত হতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে যা। আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস পেতে শুরু করতে পারে। গঙ্গা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে যা আগামী ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা শহর সংলগ্ন নদ-নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে, কিন্তু বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পশ্চিমঅঞ্চলের গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, শরিয়তপুর জেলাসমূহের কতিপয় স্থানের বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। অপরদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাসমূহের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

ভারতে বন্যা ॥ ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। শুধু ভারতে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ১২ জেলায় প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সারা রাজ্যে বজ্রপাতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৮ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২ লাখ ৫ হাজার ৯০১টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যে এরই মধ্যে প্রায় ৬ হাজার গবাদি পশু মারা গেছে।

মিয়ানমারে বন্যা ॥ মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত। মিয়ানমারে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা সোমবার দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়া হাজার হাজার মানুষকে সহায়তার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছে। এই সব এলাকাগুলোতে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। অবিরাম মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার বাড়িঘর, খামার, সেতু ও রাস্তা ধ্বংস হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতের তোড়ে ত্রাণ তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আজ রবিবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৬/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: