২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর


অনলাইন রির্পোটার॥ ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড়ের যমুনা হাসপাতাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ভাঙচুর করেছেন রোগীর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার মধ্যরাতে মিলি বেগম নামের (২৪) সন্তান প্রসবা এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রওশন আরা পারভীন (৪৯), ডা. মনিরুজ্জামান (৩৭), ওয়ার্ড বয় সাইদুল ইসলাম ও দুই নার্সকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

এ ঘটনার সত্যতা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রণজিৎ।

তিনি জানান, মৃত রোগীর মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় অভিযোগকারী স্বজন এবং প্রাথমিকভাবে আটকৃতরা রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় এলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

সন্তানপ্রসবা মৃত মিলি বেগমের বড় ভাই বাবুল আলম খান অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মিলি সন্তান প্রসব করে। তবে, জন্মের পরই সন্তান মারা যায়। এর কয়েকদিন পর ঢামেকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মিলিকে সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন।

তিনি আরও বলেন, ঢামেক থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এলেও অস্ত্রোপচারের সেলাই কাটা ও তত্ত্বাবধায়নের জন্য মিলিকে যাত্রাবাড়ীর যমুনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখানে তার তত্ত্বাবধায়নে থাকেন ডা. রওশান আরা পারভীন।

বড় ভাই বাবুল বলেন, আমার বোনকে প্রায় সুস্থ অবস্থায় যমুনা হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু চার দিনের মাথায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মারা যায় আমার বোন। সে মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও আমি তার সঙ্গে কথাবর্তা বলি। আমি দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার দাবি করছি।

তিনি বলেন, মিলির স্বামীর নাম শাহীন কাজী। এ দম্পতির ঘরে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ছোট এই ভাগনে তার মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেলো।

এ ঘটনায় যেন থানায় মামলা না করা হয়, সেজন্য হাসপাতালের লোকজন ভূক্তভোগী পরিবার-স্বজনদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি থানা পুলিশও মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে মিলির স্বজন রুবেল মিয়া বলেন, রাতে ঘটনার পর থেকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত আমরা থানায় অপেক্ষা করছি মামলা করবো বলে। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে। এছাড়া, থানায় আটককৃতের স্বজনরা এসে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছে।

ভূক্তভোগীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাইনুল হাসান বলেন, অভিযোগকারীরা থানায় রয়েছেন, বিষয়টি আমি দেখছি। অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।