২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা কেজি, ৬০ টাকার নিচে কোন সবজি নেই


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকায়। টানা বৃষ্টি ও বন্যা অব্যাহত থাকলে কাঁচামরিচের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। কেবল কাঁচামরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের শাকসবজির মূল্যে উর্ধগতি দেখা গেছে শুক্রবারের বাজারে। ৬০-৭০ টাকার নিচে সবজি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা আর দেশী কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কোন কোন বাজারে ২৮০ টাকা কেজি বা আড়াই শ’ গ্রাম ৭৫ টাকাও হেঁকেছেন কোন কোন বিক্রেতা। কাপ্তান বাজারের কাঁচাবাজারে এই দামে মরিচ বিক্রি করছেন সবজি বিক্রেতা খলিল সেখ। মরিচের দাম বেশি কেন জানতে চাওয়া হলে সরল স্বীকারোক্তি, মরিচ ভাল, দামও বেশি। আমরাও বেশি দামে কিনেছি। তবে ফকিরাপুল বাজারে পাওয়া গেল দুই ধরনের মরিচÑ সাদা ও সবুজ। ওই বাজারের বিক্রেতা বাবুল জানালেন, সাদাটা ভারতীয় মরিচ। এটার দাম কেজি ১৬০ টাকা। আর এক পোয়া নিলে ৪৫ টাকা। আর এই দেশী মরিচের দাম ২২০ টাকা কেজি। আর এক পোয়া নিলে ৬০ টাকা।

কেন মরিচের দাম বাড়ছে জানতে চাইলে বাবুল মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, বন্যার কারণে দেশী মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে অল্প দেশী মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান মরিচ আছে বলেই এই দামে পাওয়া যাচ্ছে। তা না হলে আরও বেশি দাম হতো।

এদিকে পেঁয়াজ ও সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামে। বাজারে কমে গেছে ইলিশের সরবরাহ। আগের মতো ৭৫-৮০ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। তবে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও আটার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে চিনি ও রসুনের দাম।

এছাড়া কাওরানবাজারে বেগুন (লম্বা) বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, বরবটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সবজির দাম না কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতো বৃষ্টির অজুহাতকেই দাঁড় করিয়েছেন। তারা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। অনেক সবজি পঁচে গেছে। এ জন্যই সবজির দাম কমছে না।

এছাড়া ভাদ্র মাসেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে না। এ বছর নদী ও সাগরে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেদের জালে। এ কারণে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ ইলিশের স্বাদ নিতে পারছে না।

অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মধ্যে তীর (৫ লিটার) ৪৬৫ টাকা, পুষ্টি (৫ লিটার) ৪৬০ টাকা ও রূপচাঁদা (৫ লিটার) ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের মধ্যে মিনিকেট ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, নাজিরশাইল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, আটাশ ৩৩ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের মধ্যে ছোট মাঝারি আকারের ইলিশের জোড়া ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রুই কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কই মাছ ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়, মুরগির ডিম ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।