২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

লোকজ সংস্কৃতির নিজস্ব উদ্ভাবন খমক-খঞ্জনি


‘একটা চাবি মাইরা, দিছে ছাইরা জনম ভইরা চলতেয়াছে.., মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি, কোন মিস্ত্ররি বানাইয়াছে...” গানের সঙ্গে বাজিয়ের দল বাজালেন। একজন ঢোল, একজন তবলা, সঙ্গে বাঁশি, আর একতারা নয়ত দোতারা। পিছনে বসে কেউ একজন খঞ্জনিতে তাল তুললেন। আর তাতেই চারপাশ এত মনোরম সুরের আবেশ ছড়িয়ে পড়ল। কোথাও ড্রাম নেই, কিবোর্ড নেই। আছে শুধু খুব সাধারণ কিছু উপকরণের তৈরি বাদ্য যন্ত্র। খঞ্জনি বিক্রমপুরের উল্লেখযোগ্য লোকজ উপকরণ। এটি ঘন জাতীয় লোকবাদ্যযন্ত্র। দুটি কাঠের ফ্রেমে ছিদ্র করে লোহা বা পিতলের ছোট ছোট চাকতি লাগানো হয়। যন্ত্রটি একই হাতের বুড়ো আঙুল ও মধ্যমার সাহায্যে ধরে পরস্পরের সঙ্গে আঘাত করে বাজানো হয়। সাধারণত বৈরাগী শ্রেণীর ভিক্ষোপজীবীরা গানের সঙ্গে এ যন্ত্রটি বাজিয়ে থাকে। এছাড়া এখানে ‘খমক’ নামের আরেকটি স্থানীয় বাদ্য যন্ত্র রয়েছে। কাঠের ছোট গোল টুকরেতে চামড়ার ছাউনি দিয়ে তৈরি হয়। এর মাঝেই একটি তার। এই তারটিতেই কাঠি দিয়ে বাজানো হয়। বাম হাতে খমকটি থাকে ডান হাতে বাজানো হয়। এই জনপদে ভাটিয়ালী গান, পল্লীগীতি, জারি সারি, কুটির শিল্প, পুতুল নাচ, গ্রাম্য মেলা প্রসিদ্ধ। এ অঞ্চলের গ্রাম্য মেলার গানের আসরে দেখা মেলে এসব লোকজ উপকরণ। মুন্সীগঞ্জের প্রয়াত আবদুর রহমান বয়াতির গান বাংলাদেশের পথে প্রান্তরের মানুষ এখনও গায়। তিনি মাটির গান করেছেন। তাঁর গান গ্রাম বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি। এই সব গানের জন্য আমাদের বাউলরা নিজেরাই বানিয়েছেন নানা রকম বাদ্যযন্ত্র। শিল্পীর এক হাতে খঞ্জনি, অন্য হাতে ডুগডুগি। কারও হাতে একতারা। এই বাদ্য যন্ত্র বাজালে বেজে ওঠে আমাদের মাটির সুর। অথচ কি লাগে একটা একতারা বানাতে? একটা তার আর একটা পাকা লাউ।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে