২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ওরে সাপ খেলাই সাপুড়ের মেয়ে নামেতে জরিনা


কুষ্টিয়া তৎকালীন নদীয়া জেলার অন্যতম প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতিসমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলা দীর্ঘকাল থেকে লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যের আসনে অধিষ্ঠিত। বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের গান এ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে করেছে ব্যাপক প্রভাবিত। লোকজসংস্কৃতির অন্যতম বাহক এই বাউল। ভাষা : কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রচলিত ভাষার সঙ্গে এ দেশের যে কোন অঞ্চলের ভাষার রয়েছে ব্যবধান। এ জেলার ভাষা শ্রুতিমধুর, সুস্পষ্ট ও চলিত। নবান্ন উৎসব : পহেলা অগ্রহায়ণ বাঙালীর চিরায়ত নবান্ন উৎসবের দিন। কৃষকের ঘরে ওঠে নতুন ফসল। ঘরে ঘরে পড়ে যায় পিঠা তৈরির ধুম। উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে কুষ্টিয়ার গ্রামগঞ্জ। বিয়ের গীত : বিয়ের গীত শুরু হয় বর ও কন্যাপক্ষের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর থেকে। এতে বর ও কনেপক্ষের দাদি, নানি, সম্পর্কিত ভাবিরা নানা সাজে সেজে নাচে আর গীত গায়। নাট্যচর্চা : পরিমল থিয়েটারের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার নাট্যচর্চার রয়েছে দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য। ভাসানগান : কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গ্রামে ভাসানগানের প্রচলন এখনও রয়েছে। জারিগান : এ গান মূলত ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সৃষ্টি। সারিগান : এ অঞ্চলে সারিগান আজও বিদ্যামান। পাকা ঘরের জলছাদ পেটানো বা কোন ভারি কাজ করার সময় মনে জোর সৃষ্টির জন্য সারিগান গাওয়া হয়ে থাকে। পালা বা যাত্রাগান : এই গান কুষ্টিয়ার সর্বত্র এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসংস্কৃতি হিসেবে বিদ্যামান। ভাটিয়ালীগান : এক সময় ভাটিয়ালী গানের ব্যাপক প্রচলন ছিল এ অঞ্চলে। গরুর গাড়ির গাড়োয়ান, নৌকার মাঝি এবং মাঠের রাখাল ভাটিয়ালি গানের গায়ক হিসেবে আজও এই প্রাচীন লোকসংস্কৃতিকে ধারণ করে রেখেছে। পুঁথিগান : গরমের দিনে জোৎস্না রাতে গ্রামের রাস্তার মোড়ে বাদকগণ গোল হয়ে বসে আর তাদের চতুর্দিকে ঘুরে ঘুরে গাওয়া হয় এ গান। পুঁথিগান হলো, ‘ওরে ভাই বলি তাই আজব ঘটনা, ওরে সাপ খেলাই সাপুড়ের মেয়ে নামেতে জরিনা, জরিনার মা নাই বাপ নাই দাদির কাছে থাকে।’ পুতুলনাচ : এক সময় কুষ্টিয়া অঞ্চলে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষের কাছে পুতুলনাচ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়।

Ñএমএ রকিব, কুষ্টিয়া থেকে