১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গিনেস বুকে নাম তোলা


গিনেস বুকের বয়স দাঁড়ালো ষাট বছর। ছয়টি দশকে পরিণত হিসেবে তার অবস্থান সুদৃঢ়। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এর নাম জানে এখন, অভ্যন্তরের চৌহদ্দীটুকু জানা না থাকলেও। বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনেও নামটি বেশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণ যা গিনেস বুকে নাম ওঠানোর জন্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাত্তোলন নিয়েও গিনেস বুকে নাম উঠানোর জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কিন্তু গিনেস বুকে নাম ওঠানোর পথ ও পদ্ধতি একটা তো রয়েছেই। সেই পথ ধরে হেঁটে গেলে তবেই তো সুযোগ ঘটে নাম তোলার। তামাম দুনিয়ার আজব সব খবরকে এক মলাটে বেঁধে ফেলাই যার কাজ; সেই ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড’-এর নাম সবারই কম বেশি জানা। কিন্তু কী ধরনের ঘটনা গিনেস বুকে ঠাঁই পায় আর কিভাবে বা এই বইতে নাম তুলতে হয়, তা অনেকেরই অজানা।

ব্রিটেনে গিনেসের সদর দফতর। প্রতিদিন সেখানে আসত হাজারে হাজারে চিঠি। এখনও আসে প্রচুর। অনলাইন সংযোগের কারণে মেইলের সংখ্যা বেড়েছে। চিঠি বা মেইল পাঠিয়ে কেউ লেখেন, রেকর্ড করেছি।’ আবার কেউ লেখেন, ‘রেকর্ড করে দেখাতে চাই।’ প্রতি মাসে তিন হাজারেরও বেশি ‘রেকর্ড যাছাই করতে হয়। এর মধ্যে কিছু রেকর্ড মনে রাখার মতো হলেও সব সময় মাথায় থাকে না কর্মকর্তাদের। গিনেসের একদা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টোফার আরউইন বলেছিলেন মজার কথা। এত হাজারও রেকর্ডের মধ্যেও তিনি আর্জেন্টিনায় যে ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন, তা জীবনেও ভোলার নয়।

ক্রিস্টোফারের ভাষ্য হচ্ছে, শুনেছিলাম আর্জেন্টিনায় নাকি লিকুইড ডিটারজেন্টের তেমন চল নেই। ওখানে ধোয়াধুয়ি, কাচাকুচির ব্যাপারটি পুরোটাই সারা হয় নাকি গুঁড়ো সাবানে। একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাকে জানালো, তারা আর্জেন্টিনার একটি নতুন লিকুইড ডিটারজেন্ট বাজারজাত করতে চায়। তা বাজারে নিয়ে আসার জন্য গিনেস বুক কর্তৃপক্ষকে ওই ডিটারজেন্টের একটা নমুনা দেখাতে চেয়েছিল। তিনি প্রথমে তা দেখতে যেতে রাজি হননি। পরে ওরা প্রায় জোর করে তাকে ব্যাপারটি দেখানোর জন্য আর্জেন্টিনায় নিয়ে গেল।

সেই ডিটারজেন্টের নাম ছিল ম্যাজিস্ট্রাল। ছোট একটা প্লাস্টিকের বোতল, তার ভেতরে সাবান আছে ১০০ মিলিলিটার। অর্থাৎ একটা সেভেন আপ বা স্প্রাইটের বোতলের তিন ভাগের এক ভাগ লিকুইড। ম্যাজিস্ট্রালের জাদু দেখতে গিয়ে আয়োজন দেখেই প্রথমেই বিস্মিত ক্রিস্টোফার। অবাক চোখ তার। বিশাল বড় একটা সমুদ্র সৈকত। চারদিকে রঙিন কাপড়ের ম্যারাপ বাঁধা। সঙ্গে বিশাল ভোজের আয়োজন। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে দেখলেন হু হু করে লোক আসছে। যাদের সবাই বিশেষভাবে আমন্ত্রিত। এবং এরা সবাই স্থানীয় মানুষ, তার সংখ্যা ১২ হাজারের মত। ঘড়িতে তখন দুপুর ১টা। ‘লাঞ্চ সার্ভ’ করা শুরু হলো। সে এক মহাযজ্ঞ যেন। খাওয়ার পর জমা হলো এটো প্লেট আর বুফের খাবার লেগে থাকা বাসন-কোসন। এরপর শুরু হলো আসল মজা। দেখা গেল, ওই একটা ম্যাজিস্ট্রালের বোতলেই সাফ করা হচ্ছে ১২ হাজার প্লেট-চামচ। একবারে ম্যাজিকের মতো একটি বোতলের সাহায্যে একেবারে ঝকমকে হয়ে ওঠল ১২ হাজার ডিশ, চামচ, স্ট্রে আর রাশি রাশি ‘সার্ভিং বোল’। ব্যাপার-স্যাপার দেখে তো ক্রিস্টোফার অবাক। বিচে উপস্থিত দর্শকরাও তাজ্জব বনে গেল। এই ধরনের ঘটনা গিনেস বুকে তোলার যোগ্য অবশ্যই।

পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যে কোন মানুষ যদি মনে করে সে এমন একটা জিনিস করেছে যা আগে কখনও হয়নি, তা হলে গিনেসের দফতরে যোগাযোগ করতে পারে। পৃথিবীর বহু দেশে গিনেসের কার্যালয় রয়েছে। ভারতেও ২০০০ সালে একটি শাখা কার্যালয় চালু করা হয়। কেউ কোন রেকর্ড গড়লে তার খবর অবশ্যই গিনেস দফতরে পাঠাতে পারেন। তবে সেই রেকর্ড যেন সত্যিই রেকর্ড হিসেবে গণ্য করার মতো হয়।

তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে গিনেস সদর দফতরের। পাকিস্তান থেকে একবার তাদের দফতরে খবর পাঠানো হলো; সে দেশে নাকি পৃথিবীর সব থেকে ক্ষুদে মানুষ থাকে। খবরটা পেয়ে গিনেস বুকের পক্ষ থেকে বলা হলো ভিডিও রেকর্ডিং পাঠাতে। কিন্তু সরজমিনে গিনেস টিম গিয়ে দেখল, সেই ক্ষুদে মানুষটি নিজের পা-টাকে মুড়ে রেখেছে। ব্যাপারটা তক্ষুণি বাতিল হয়ে যায়।

গিনেস বুকে নাম তুলতে হলে সত্যিকারের রেকর্ড গড়তে হবে। বাংলাদেশেরও অনেকের নাম রয়েছে গিনেসবুকে। এজন্য যোগাযোগ করতে হবেÑ গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড, ৩৩৮ ইস্টন রোড, লন্ডন। এন ডব্লিউ ১.৩ বিডি। কিংবা ওয়েবসাইট : িি.িমঁরহহবংং পযধষষবহমব.পড়স.