মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সাবধান! নকল মোবাইল সেট

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

নকল মোবাইল সেট ও মোবাইল যন্ত্রাংশে সয়লাব বাজার। ১ হাজার ৪শ’ থেকে ১ হাজার ৬শ’ টাকা মূল্যের এসব মোবাইল ফোন সেট বিক্রির সময় কোন গ্যারান্টি কিংবা ওয়ারেন্টি দিচ্ছে না বিক্রেতারা। এই ফোন সেটগুলোর হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারের কোন সমস্যা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেরামতের কোন উপায় থাকে না। কোন কোন ক্ষেত্রে মেরামত করা সম্ভব হলেও তা বেশিদিন টেকসই হয় না। নিম্নমানের এই মোবাইল ফোন সেটগুলো আসছে চায়না থেকে। এসব মোবাইল ফোন সেট কিনে রীতিমতো ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নমানের মোবাইল ফোন সেট বিক্রির ধুম। বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার ও নামকরা ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে এবং লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এসব মোবাইল ফোন সেট। ১৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে এফএম রেডিও, ক্যামেরা, অডিও, ভিডিও, ইন্টারনেট, ডাবল সিম কার্ড, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, ব্লুটুথসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামযুক্ত মোবাইল ফোন সেট। বিক্রি হওয়া এসব ফোন সেটের প্রায় সবই চায়নার বিভিন্ন বেনামি কোম্পানির। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যÑ ফ্যাশন, ব্লুটুথ, এমপি ফোর, এলকাটেল, টেকনো, এইচটিসি, ফর মি, সি ফাইভ, উইয়িং, লি ফোন, ডিস্পিল, গিলভ, এমটিভি, ডিডাব্লুএস, কিংসটেল, কুয়িক শেয়ার, ভিএস এ্যান্ড মিসহ অর্ধশতাধিক ভুয়া ব্র্যান্ড। এছাড়াও নকিয়া, স্যামসাং, আইফোন, সনি এরিকসন, সনি, সিম্পনিসহ বেশ কয়েকটি নামকরা ব্র্যান্ডের নকল মোবাইলে সয়লাব বাজার।

স্টেডিয়াম মার্কেটের মোবাইল ব্রিক্রেতা জানান, বাজারে এখন নকল মোবাইলের ছড়াছড়ি। এসব মোবাইল ফোন কিনে সাধারণ মানুষ রীতিমতো প্রতারিত হচ্ছে। এসব নিম্নমানের মোবাইল কিনে সাধারণ মানুষ খতিগ্রস্ত হচ্ছে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার নতুন মোবাইল কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন এবং ভারতীয় মাইক্রোম্যাক্স অনেকগুণে ভাল। রাজধানীর গুলিস্তান আন্ডারপাসে মোবাইল ফোন মেরামত করতে আসা সুজন জানান, দু’মাস আগে ফার্মগেটের একটি শোরুম থেকে নকিয়া এন-৮ মডেলের একটি চায়না মোবাইল ফোন সেট কিনেছেন তিনি। এরপরই মোবাইলটি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা করতে শুরু করে। আর তিন মাসের মাথায় এটি সার্ভিসিং সেন্টারে আনেন তিনি। সার্ভিসিং সেন্টার থেকে তাকে জানানো হয়, এই মোবাইল ফোন সেটের সমস্যার কোন সমাধান নেই। ঠিক করতে গেলে এটি আর নাও চালু হতে পারে। ফলে এটি ঠিক করার থেকে না করাই ভাল। সুজন জানান, এই ধরনের মোবাইল ফোন সেট ব্যবহার করা মানে অনিশ্চয়তায় ভোগা। যে কোন মুহূর্তে এগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে এগুলো ব্যবহার করার থেকে না করাই ভাল। মোবাইল ফোন সেট মেরামতকারীরা জানান, চায়না কোম্পানিগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশি সমস্যা হয় স্ক্রিন টাচ মোবাইলের। দু’তিন মাসের মাথায়ই এগুলোর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অন্যান্য মোবাইল অত্যধিক গরম এবং স্পীকার নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশ মোবাইল ফোন বিজনেসমেন এসোসিয়েশনের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর বিক্রি হচ্ছে ১ কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন সেট। চীন, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে এই সেটগুলো। প্রতি মাসে যে সব মোবাইল ফোন সেট বিক্রি হয়, এর মধ্যে ২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন বিক্রি হয় প্রায় ৬০ শতাংশ, ২ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪০ শতাংশ এবং ৫ হাজার টাকার ওপরে প্রায় ১০ শতাংশ মোবাইল ফোন সেট বিক্রি হচ্ছে। দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগ রক্ষার জন্য সব চেয়ে বেশি ব্যবহার করেন ২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন সেট। তারাই বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। প্রতিবছর বিদেশ থেকে নিম্নমানের মোবাইল ফোন আমদানি করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র।

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৫/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: