১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে পাসপোর্ট প্রার্থীদের হয়রানি


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রার্থীদের হয়রানি কিছুতেই থামছে না। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। ১শ’ কিলোমিটার দূরে এসে ফরম জমা দিতে গিয়ে সময় ও অতিরিক্ত টাকা অপচয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম জমা দেয়ার ফুরসত থাকে না, তাই দালাল ধরে কাজ সারতে পারলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচি এখানের লোকজন। আর রোহিঙ্গা হলে কোন কথাই নেই। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দ্রুত সময়ে পেয়ে যাচ্ছে পাসপোর্ট। এডির (সহকারী পরিচালক) পদ শূন্য থাকায় এই পাসপোর্ট অফিসের ডিএডি শওকত কামাল ও উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামাল দুজনই পুরো কক্সবাজার জেলার কয়েক লাখ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজার শহরে অবস্থান, থাকা, খাওয়া ও সময় বাঁচাতে বেশিরভাগ উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার লোকজন দালাল ধরে দেড় হাজার থেকে দু’হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করে থাকে শুধুমাত্র ফরম জমা দিতে। এর বাইরে পুলিশী রিপোর্ট ঠিক সময়ে পাঠানোর ঝক্কিঝামেলা তো আছেই। কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসে দালাল বিতাড়িত হওয়ার ধোঁয়া তুলে তা বেশ প্রচার করা হলেও আসলে দালাল কমেনি। শত চেষ্টা করেও পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত থেকে বহির্গমনেচ্ছু পাসপোর্ট আবেদনকারীদের হয়রানি কমানো যাচ্ছে না। সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজেরা সাধু সাজার চেষ্টা করলেও পাসপোর্ট আবেদনকারীসহ সচেতন মানুষই জানেন ওই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আসল রূপ। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। পরে আসতে বলেন, আবেদন ফরম জমা নিলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবি তোলার জন্য আরেকটি সময় দেয়া হয়। আর টাকা দিলেই সব মাফ। তারা বলেন, হয়রানি আর বারংবার আসা থেকে মুক্তির জন্যই বাধ্য হয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিচ্ছি। তাদের মতে, এ কারবার এখন ওপেন সিক্রেট। অবাধে দুর্নীতি করার অভিযোগে পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামালের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছিল হয়রানির শিকার লোকজন। কিন্তু এর পরও বহাল তবিয়তে তারা। কারণ টপ টু বটম ম্যানেজ করেই এ দু’জন এখানে গেড়েঁ বসেছেন বলে জানা গেছে। তারা সরকারী আমলা।

দুর্নীতি করে ভাগবাটোয়ারার টাকা যোগান দেন অনেকের। এমন কথাই জানালেন পাসপোর্ট অফিসের উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামাল। কিছু কিছু গণমাধ্যমকে ম্যানেজ করেই এসব করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে ডিএডি শওকত কালাল জানান, সম্প্রতি দালাল বিতাড়িত করায় এসব মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।