মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পার্বতীপুরে ২৫ পরিবারের বাঁশ-বেতনির্ভর জীবিকা

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, পার্বতীপুর, ৪ সেপ্টেম্বর ॥ বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ সমৃদ্ধ করেছে গ্রামবাংলার লোকজসংস্কৃতি। চিরায়ত বাংলার সংস্কৃতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এসব উপকরণ। গ্রামাঞ্চলে বাঁশের ডালি, কুলা, চালনীসহ অন্যান্য সামগ্রী নিত্যদিনের গৃহস্থালী ও দেড়ু, দাড়কি, পলই, হেংগা ইত্যাদি মাছ শিকারে ব্যবহার হয়ে আসছে। পার্বতীপুরে মনম্মথপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামে বাঁশের কারিগরদের বাস। এ গ্রামে গেলে প্রফুল্ল, প্রমথকুমার ও পুলিন এই তিন কারিগর জানান, গ্রামের ২৫ পরিবার এই কাজে নিয়োজিত। তারা বংশানুক্রমে বাঁশের কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের বাঁশের সামগ্রী নির্মাণে তারা দক্ষ। আদিবাসীরা সৌখিন ও মনোমুগ্ধকর সামগ্রী তৈরিতে আরও একধাপ এগিয়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র, শস্য রাখার ও বহনের ঝুড়ি তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করে। কাঠের তৈরি বাক্স বা সিন্দুকের পরিবর্তে ঢাকনাযুক্ত ঝুড়ি (বারেং) তৈরি করে বাঁশ ও বেত দিয়ে। সাধারণত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও কাপড়-চোপড় রাখার জন্যই এই বারেং ব্যবহৃত হয়। দিংগিরা : শষ্য রাখার বড় পাত্র বিশেষ। প্রধানত ডুলু বাঁশ দ্বারা তৈরি করা হয়। চাস্মো : বাঁশের তৈরি। পানসুপারি রাখার পাত্র। ডুল : গোলা জাতীয় পাত্র বিশেষ। প্রায় ৭-৮ মণ খাদ্য-শষ্য ডুলে রাখা যায়। লেই : ধান-চাল রাখার পাত্র। সাধারণত ডুলু বাঁশের তৈরি। লেই ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। মারাল্ল্যা : ডুলু বাঁশের তৈরি ঝুড়ি বিশেষ। এতে সাধারণত তরিতরকারি রাখা হয়। দলং : তুলা ও কাপড় রাখার জন্য দলং ব্যবহার করা হয়। ফুলের ঝুড়ি : বিভিন্ন পুজো-পার্বনে ও বাড়িতে ফুল সাজিয়ে রাখার জন্য হাতলযুক্ত কারুকার্যখচিত ফুলের ঝুড়ি। এই ঝুড়ি তৈরিতে আদিবাসীদের শৈল্পিক দক্ষতার প্রকাশ পায়। হাতা/আদা : হাট-বাজার করার জন্য হাতলযুক্ত ঝুড়ি। তৈরি করা হয় বাঁশ ও বেত দিয়ে। মজরা : গল্লাক, বাদরী ও মরিচা এই তিন ধরনের বেত দিয়ে তৈরি আদিবাসীদের বসার মোড়া। মেজাং : মিতিংগা বাঁশের তৈরি খাওয়ার টেবিল। ধুলোন : শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য বাঁশের তৈরি দোলনা। মাতাল : রোদ-বৃষ্টি থেকে মাথাকে রক্ষার জন্য বাঁশ ও বেত দিয়ে নির্মিত টুপি বিশেষ। ইছাধুপ/ইছামুছি : নদী ও খাল বিলে ছোট ছোট মাছ ও কাঁকড়া ধরার যন্ত্র। তৈরি করা হয় বাঁশ দিয়ে। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের বারকোনা, নবাবগঞ্জের কৈপুরচাঁদ, জয়পুর আমড়াকাঠাল ও ঘোড়াঘাটের কালুপাড়া, গুলাতীপাড়া আদিবাসী বসতিতে গেলে তাদের জীবন-যাপনসহ এসব সামগ্রী, উপকরণ চোখে পড়ে।

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৫/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: