১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ধ্বংস হচ্ছে মৎস্যভাণ্ডার


স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনে মহোৎসব চলছে। বন সংলগ্ন এলাকার এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার আশায় হতদরিদ্র জেলেদের দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণের নামে মৎস্যভা-ার ধ্বংস করছে।

মৌসুমের শুরুতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নদী ও খালে চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ আহরণ শুরু করে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। বন সংলগ্ন এলাকার একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী স্থানীয় হতদরিদ্র জেলেদের মোটা অংকের দাদন দিয়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ আহরণে বাধ্য করে। ছয় মাস যাবত বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল পেশাজীবীরা। পরবর্তীতে বন সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ি ও ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জেলেরা। এক শ্রেণীর প্রভাবশালী চক্রের প্ররোচনায় সুন্দরবনের নদী ও খালে কীটনাশক বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণের প্রতিযোগিতা শুরু করে তারা। দিন দিন এর প্রবণতা বেড়েই চলছে। কিছুতেই যেন ওই চক্রের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

বন সংলগ্ন উপজেলার শরণখোলা, তেরাবেকা, বগী, উত্তর রাজাপুর, সোনাতলা, ধানসাগর, রসুলপুর, বান্ধাঘাটা ও বটতলা এলাকায় ওই সকল বিষ মিশ্রিত চিংড়ি মাছের ছড়াছড়ি চললেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেউ। জেলেরা সুন্দরবনের দুধমুখী, বাদামতলা, হরিন টানা, মরাভোলা, কৈয়ারখাল, দাশের ভারানী, মৃগীমল, তেতুল বাড়িয়া, চাতরা, কস্তুরা, কটকা, কচিখালী ও সুপতিসহ বিভিন্ন এলাকার খাল ও নদীতে মরণঘাতী বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি গোনে হাজার হাজার টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুটে নিচ্ছে।

এ বিষয় শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান পান্না আকন বলেন, বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে কিছু অসাধু জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বিষ প্রয়োগ করে মৎস্যভা-ার শূন্য করে ফেলছে।

এ বিষয় শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষ মিশ্রিত মাছ দীর্ঘদিন খেলে মানব দেহে জটিল ও কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, বিষ মিশ্রিত মাছ শনাক্তের জন্য তাদের নিকট কোন মেশিন না থাকায় তথ্য প্রমাণের অভাবে অপরাধীদের যথাযথ আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাছাড়া লোকবল সঙ্কটসহ নানা সমস্যার কারণে গোটা সুন্দরবনে কঠোর নজরদারি করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবুও অপরাধীদের দমনে বন বিভাগ সর্বদা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।