২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরও কয়েক হাজার সিরীয় শরণার্থী নেবে ব্রিটেন


ব্রিটেন ইউরোপকে গ্রাস করে ফেলা অভিবাসী সঙ্কটে সাড়া দিয়ে কয়েক হাজার সিরীয় শরণার্থীকে গ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শীঘ্রই এ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করবেন। এদিকে সিরীয় গৃহযুদ্ধ থেকে পালানো যে ৪০ লাখের মতো লোককে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো আশ্রয় দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পশ্চিমা দেশ তাদের সে সঙ্কট মোকাবেলায় যথেষ্ট দৃষ্টি দিচ্ছে না বলে যেমন সমালোচনা করা হচ্ছে তেমনি সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগর সন্নিহিত স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সম্পদশালী দেশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে, যারা নিশ্চিতভাবেই শরণার্থী সঙ্কট লাঘবে অনেক কিছু করতে পারত। খবর টেলিগ্রাফ ও ওয়াশিংটন পোস্টের।

অবস্থানের লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধন করে ব্রিটিশ সরকার তার ‘নৈতিক দায়িত্ব’ গ্রহণের প্রচেষ্টায় আইএস জঙ্গীদের কবল থেকে পলায়নপর সিরীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। কর্মকর্তারা ‘অরক্ষিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন স্কিম’-এর অধীনে সিরীয়দের আশ্রয় দিতে একটি ‘বিশদ প্যাকেজ’-এর ওপর কাজ করছে। এই স্কিমের আওতায় এ পর্যন্ত ২১৬ জনকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপ ক্যামেরনের নীতিভঙ্গির দিক পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে। বুধবার তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটেন আরও অধিকহারে অভিবাসী গ্রহণ করবে। ক্যামেরনের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর তুরস্কের একটি সৈকতে পড়ে থাকা ৩ বছরের একটি প্রাণহীন শিশুর ছবি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। সিরিয়া থেকে আসা নৌকাডুবিতে আয়লান কুর্দি নামে ওই শিশু ও তার পরিবারের সদস্যরা মারা যায়। যুক্তরাজ্যে আরও শরণার্থী গ্রহণের তার সিদ্ধান্ত যে সময় আসল তখন সঙ্কট উপশমের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হাঙ্গেরিতে ট্রেনে আরোহণ করা প্রায় ১ হাজার অভিবাসীর আতঙ্কজনক দৃশ্য দেখা গেছে। তারা যখন দেখতে পায় যে, পশ্চিম ইউরোপে যাত্রার পরিবর্তে তাদের আটক শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন তারা চিৎকার করে সে প্রচেষ্টায় বাধা দেয়।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঙ্কার আগামী সপ্তাহে যে নতুন অভিবাসী কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করার কথা তার অধীনে ইইউকে হাঙ্গেরি, ইতালি ও গ্রীসের ১ লক্ষ ৬০ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশীকে গ্রহণ করতে বলবেন। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি উল্লেখ করেছে যে, ছয়টি উপসাগরীয় দেশ-কাতার, ইউএই, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন সিরীয় শরণর্থীদের পুনর্বাসনের কোন প্রস্তাবই দেয়নি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ ওই দাবির প্রতিধ্বনি করে টুইটার বার্তায় বলেছেন, সিরিয়ার সঙ্গে ওইসব দেশের তুলনামূলক নৈকট্য এবং তাদের কাছে অবিশ্বাস্য বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এই ভূমিকা পীড়াদায়ক। দুবাইভিত্তিক রাজনৈতিক ভাষ্যকার সুলতান সুআউদ আল কাসেমী যেমনটি বলেছেন, এসব দেশের মধ্যে আরব বিশ্বের কয়েকটি দেশের বৃহত্তম সামরিক বাজেট, সর্বোচ্চ জীবনমান এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যেমন সংযুক্ত আরব আমীরাতের কথা বলা যায়। দেশটি অন্যান্য আরব দেশ থেকে অতীতে অভিবাসনকামীদের স্বাগত জানিয়েছে ও পরে তাদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছে।

উপরন্তু এসব দেশ একেবারে নিরীহ দর্শকমাত্র নয়। বিভিন্ন মাত্রায় সৌদি আরব, কাতার, ইউএই ও কুয়েতের মহলবিশেষ সিরীয় সংঘাতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। তারা সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন বিদ্রোহী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীকে তহবিল ও অর্থ জোগানোর প্রকাশ্য ভূমিকা পালন করছে।