মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কারাগারে গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

গুয়াতেমালায় অটোপেরেজ মলিনা প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তাফা দেয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। লাখ লাখ ডলারের এক শুল্ক প্রতারণার ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হবে। এ ঘটনা দেশটিতে আলোড়নের সৃষ্টি করে এবং সংলগ্ন অঞ্চল জুড়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

এপ্রিলে পেরেজ মলিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে গুয়াতেমালা জুড়ে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হওয়ার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার পদত্যাগ ও বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ চলার যথার্থই প্রতিপন্ন হয়।

গুয়াতেমালার একনায়কতন্ত্র ও সামরিক নির্যাতনময় হিংসাত্মক ইতিহাসে কোন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগে বাধ্য হওয়া, এরপর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুনতে উন্মুক্ত আদালতে বসা এবং শেষ পর্যন্ত কোন কারাগারে রাত কাটানোর দৃশ্য অকল্পনীয়ই ছিল। এসব কিছুই একদিনেই ঘটল।

এর আগেও পেরেজ মলিনা শান্তভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন বলে কোন আভাস দেননি। মাসের পর মাস ধরে হাজার হাজার নাগরিক ওই প্রতারণার ঘটনায় তার মুখ্য ভূমিকা থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কিন্তু তখনও প্রেসিডেন্ট অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে পেরেজ মলিনা তার পদত্যাগপত্র পেশ করেন। তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়ে তার ব্যক্তিগত ভূমিকা বুঝিয়ে বলবেন বলে জানান।

বৃহস্পতিবার আদালত কক্ষে প্রসিকিউটররা আড়ি পেতে রেকর্ড করা কথাবার্তার টেপ তাকে বাজিয়ে শোনান। এসব রেকর্ডিং থেকে তিনি এক বড় প্রতারক-চক্রের নেতা বলে প্রমাণিত হন বলে প্রসিকিউটররা দাবি করে থাকেন। তাকে শান্ত ও সতর্ক দেখাচ্ছিল। বিচারক, আইনজীবী ও নিউজ মিডিয়ার সামনে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাজানো টেপ থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট নোট নেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজেকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেন এবং অভিযোগের সম্মুখীন হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি টেপ করা কথাবার্তার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কোন কিছু শোনা এক কথা, কিন্তু তদন্ত করা ভিন্ন কথা। সব গুয়াতেমালানকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে এবং আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি আমি আইন ও এ প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাব।

পেরেজ মলিনাকে মাতামরস কারাগারে পাঠানো হয়। সেটি গুয়াতেমালা সিটির কেন্দ্রস্থলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো মালদোনাদো বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে কংগ্রেস পেরেজ মলিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। মালদোনাদো শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেন, যদিও অনেকেই এরই মধ্যে ইস্তফা দিয়েছেন। তার মেয়াদ জানুয়ারিতে শেষ হবে। সেই সময় রবিবার শুরু হবে বলে নির্ধারিত নির্বাচনের বিজয়ী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

পেরেজ মলিনাই (৬৪) গুয়াতেমালার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দুর্নীতির এক কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করলেন। এটি এমন এক দেশের জন্য এক লক্ষণীয় দুর্লভ ঘটনা, যে দেশটি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেয়ার জন্য দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত রয়েছে।

গুয়াতেমালা যে কতখানি এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভের দিকে পেরেজ মলিনার প্রতিক্রিয়াই এর এক আভাস হতে পারে। তিনি এক সময়ে সেনাবাহিনীর ভীতিকর গোয়েন্দা বিভাগ পরিচালনা করে থাকলেও এবং একবারেই শেষ অবধি পদত্যাগের সম্ভাবনা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিলেও তার সরকার কখনও সেই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি যা সচরাচর জনগণের ভিন্নমত দমনে কাজে লাগানো হত।

ওই নির্বাচনে প্রার্থীদের কেউই শতকরা ৫০ ভাগ বা এরচেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলে মনে হয় না। এর ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ প্রয়োজন হবে বলে সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ অক্টোবর সেই ভোট নেয়া হতে পারে।

তবে প্রতিবাদীরা তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। প্রধান প্রার্থী ব্যবসায়ী ম্যানুয়েল বালদিজেনকে নিন্দিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ বলে ব্যাপকভাবে মনে না করা হয়। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে এক পৃথক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। বালদিজেনের দলও পেরেজ মলিনা ও তার দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে।

অন্যান্য নেতৃস্থানীয় প্রার্থী হলেন কম্বোডিয়ান জিমি মোরালেস এবং অন্যতম সাবেক ফার্স্ট লেডি সান্দ্রা তরেস।

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৫/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: