২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা


স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পরিষদের নানা সমস্যার কথা প্রায়ই শোনা যায়। বিশেষ করে এমপির প্রভাব, নির্বাহী কর্মকর্তার দাপট এবং চেয়ারম্যানদের মধ্যে ক্ষমতার সুষম বণ্টন, সবকিছু মিলে এক ধরনের সমস্যা বিরাজমান। আইনগত ও প্রশাসনিক নানা বাধা দূর করে স্থানীয় সরকারের অন্যতম স্তম্ভ উপজেলা পরিষদ কার্যকরের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে স্তিমিত হয়ে আছে। বাধার কারণে প্রতিষ্ঠা থেকেই অনেকটা অকার্যকর স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষদটি। বলা যায়, এমপি ও আমলাদের মতো দুটি শক্তিশালী স্বার্থের বিরোধিতা মোকাবেলা করে জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না। আশার কথা, সরকার উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সকল দফতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নথি উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার পর এখন হস্তান্তরিত ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপজেলাভিত্তিক দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাও পরিষদের হাতে ন্যস্ত হচ্ছে। আইনে উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আয়-ব্যয় উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত করার কথা; কিন্তু তা না করায় এসব বিভাগের কোন নথি চেয়ারম্যানের কাছে এতদিন যায়নি।

আশির দশকে এরশাদ সরকারের শাসনামলের পর ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২২ জানুয়ারি প্রথম দফায় এবং মেয়াদ শেষে গত বছর দ্বিতীয় দফায় কয়েক ধাপে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা থেকেই পরিষদ আইনের ২৫ ধারায় স্থানীয় এমপিকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়। পরিষদের কার্যাবলী সম্পাদনে এমপির ক্ষমতা পরামর্শকের। উপজেলা পরিষদ গঠনের পূর্বে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্ম সম্পাদন কমিটি ছিল ইউএনওর অধীনে। পরিষদ গঠনের পর এসব কমিটির প্রধান হবার কথা চেয়ারম্যানদের। কিন্তু বেশিরভাগ কমিটি আগের অবস্থায় রয়ে গেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সাত দফা আইনী সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এমপিদের উপদেশ দানের অবারিত সুযোগ। দেখা যায়, প্রকল্প প্রণয়নে এমপিরা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদকে এমপির মতামত নিতে হয়। পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমপির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এই ক্ষেত্রে এমপিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার সুপারিশ করেছে টিআইবি। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এ্যাসোসিয়েশনও উপজেলা পরিষদের ছয়টি আইনী সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেছে। বিষয়গুলো লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। অবশেষে এই বাধা দূর হওয়ার পথ সুগম হলো। এতে উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার পথটিও নিশ্চিত হতে পারে।

এমপিরা হচ্ছেন আইন প্রণেতা। তারা সংসদে যাবেন, জাতীয় এবং আঞ্চলিক সমস্যা চিহ্নিত করবেন, সমাধানের পথও নির্ধারণ করবেন। আর উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করবেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিধিরা। অতীতে দেখা গেছে, দুটো কাজে এমপিরা যুক্ত থাকলে কাজের সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। কার্যকর উপজেলা পরিষদ চাইলে এমপির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনী যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা জানে। এসব আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া জরুরী। এ ক্ষেত্রে পরিষদের গঠন প্রক্রিয়ায় যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে তারও মার্জন-পরিমার্জন জরুরী।