২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি করার প্রতিবাদ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা দুটি থেকে কমিয়ে একটি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ট্রাইব্যুনালের বর্তমান সংখ্যা ও বিচার প্রক্রিয়া অক্ষুণœ রেখে দল হিসেবে জামায়াত ও সহযোগীদের বিচার এবং শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত আরম্ভের জন্যও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি মোহম্মাদ গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরি, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমানোর প্রতিবাদ ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার আরম্ভের আহ্বান জানান।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সংখ্যা দু’টি থেকে কমিয়ে একটি করার সিদ্ধান্ত আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সংবাদ আমাদের অত্যন্ত ক্ষুব্ধ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ন্যুরেমবার্গ থেকে কম্বোডিয়া পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের জন্য যত ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়েছে একাধিক কারণে বাংলাদেশের ‘আইসিটি’ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিটির সংখ্যা প্রথম থেকে আমরা আরও বাড়াতে বলেছি। দক্ষ জনশক্তি ও রসদের অভাবে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা হয়ত বাড়ানো যাবে না। কিন্তু গত সাড়ে পাঁচ বছরে যে দক্ষতা দু’টি ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবী, তদন্ত সংস্থা ও অন্যান্য কর্মকর্তা অর্জন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করতে পারে সেটি বিঘিœত হলে নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জামায়াত তখন এ কথা আরও জোরের সঙ্গে বলবে যে, তাদের নেতাদের বিচারের পর ট্রাইব্যুনাল সরকারের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে গেছে অথচ সমগ্র বিশ্বে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোর মধ্যে ঢাকার আইসিটি একমাত্র ট্রাইব্যুনাল যা গঠিত হয়েছে গণদাবির কারণে।

আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিচারপ্রত্যাশী গোটা জাতির চার দশকের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল আইসিটি। গত সাড়ে ছয় বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের বহু সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার যে সাফল্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করবে সেটি হচ্ছে একত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি। একাত্তরের গণহত্যাকারীদের প্রধান দল জামায়াত এবং তাদের দেশীয় সহযোগী ও আন্তর্জাতিক প্রভুদের শত প্রতিবন্ধকতা ও হুমকি মোকবেলা উপেক্ষা করে এ বিচারের মাধ্যমে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সাহস, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন, যে বিচারের সাফল্যজনক সমাপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে গণহত্যার শিকার বিচারবঞ্চিত বহু জাতি ও দেশ, সেই বিচার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বিরতি সর্বত্র সমূহ হতাশার সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী জামায়াত ও অন্য বিচারযোগ্য গণহত্যাকারীরা এতে উল্লসিত হবে।

বিবৃতি নির্মূল কমিটির নেতারা বলেন, যে গতিতে দু’টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এসব বিচার সম্পন্ন করতে হলে আরও ২০ বছর লাগবে। দুটির পরিবর্তে ট্রাইব্যুনাল একটি হলে একাত্তরের অবশিষ্ট গণহত্যাকারী, মানবতাবিরোধীদের বিচার কোনদিনই করা যাবে না। কারণ, বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভের আগেই তারা শাস্তি ভোগ না করে ধরাধাম ত্যাগ করবেন। তাই এ ট্রাইব্যুনাল কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের বিচার শুরু করতে হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: