২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দেশের উন্নয়নে অর্থনীতির খুঁটিনাটিও চিন্তা করতেন সাইফুর রহমান


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান ব্যক্তি জীবনে ছিলেন সহজ ও সরল। দেশের উন্নয়নে অর্থনীতির খুঁটিনাটি চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন তিনি। সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও অত্যন্ত সফলতার সাথে তিনি ১২ বার বাজেট পেশ করেছেন। গৃহীতি হয়েছিলো ইতিবাচক নানা সিদ্ধান্ত। দেশের অর্থনীতিতে ফিরে আসে আর্থিক শৃঙ্খলা। আর্থিক শৃঙ্খলা সাইফুর রহমানের হাতে গড়া। আর্থিক সুব্যবস্থাপনার প্রধান স্থপতি তিনি। তাঁর গৃহীত আর্থিক পরিকল্পনা ও আর্থিক নীতি ছিল সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তিনি ছিলেন একজন সফল অর্থমন্ত্রী।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হলে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দূররে সামাদ রহমান ও সাইফুর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাঁর কর্মময় জীবনের উপর ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, যে কোন দেশে অর্থমন্ত্রীর কাজটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও চাহিদা অফুরন্ত। অর্থমন্ত্রী যে বাজেটই পেশ করেন না কেন তা নিয়ে সমালোচনা হয়। সাইফুর রহমান ১২ বার বাজেট পেশ করেছেন। তার আর্থিক পরিকল্পনা ছিল সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী ও অভ্যসন্তরীন সম্পদ সংগ্রহে ভ্যাট আরোপ সাইফুর রহমানের হাত ধরেই চালু হয়। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ খুব সহজ ছিল না, কিন্তু দেশের জন্যে যা কল্যাণ বয়ে আনবে বলে মনে হয়েছে সাইফুর রহমান তাই করতেন।

তিনি আরও বলেন, মরহুম সাইফুর রহমানের মধ্যে কোন ধরণের অঞ্চলিতা কাজ করতো না। ব্যাংকিং সেক্টরের ক্ষেত্রে তার গৃহীত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। ব্যাংকের পরিচালক পদে ওনার সময়েই পরিবর্তন আসে। সাইফুর রহমান যা করে গেছেন তা কেউ ফেলে দিতে পারছে না।

শামসুল হুদা আরও বলেন, একটি দেশের অর্থনীতি কিন্তু একদিনে দাঁড়িয়ে যেতে পারে না। আর্থিক শৃঙ্খলা সাইফুর রহমানের হাতে গড়া। আর্থিক সুব্যবস্থাপনার প্রধান স্থপতি তিনি। রাজনীতির জন্যে যা ভালো অনেক সময় তা অর্থনীতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না, কিন্তু সাইফুর রহমান এদুটোর মধ্যে ট্রেড অফ (বিনিময় হার) বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি এ সিদ্ধান্তে সম্মত ছিলেন না। ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি চালু হয়েছে এরশাদ আমলে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গেলে খেলাপী ঋণ আদায় করতে হয়। তিনি এক্ষেত্রেও সচেষ্ট হয়েছিলেন। সাইফুর রহমান ছিলেন নীরব প্রকৃতির, দেশপ্রেমে উজ্জ্বিবিত এক মহান ব্যক্তি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্বনর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাইফুর রহমান ছিলেন একজন সফল অর্থমন্ত্রী। অর্থনীতির খুুঁটনাটি বিষয় খুব ভালো ভাবে বুঝতেন। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান। আর্থিক নীতি ও দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে তিনি একটি আলাদা স্টাইল চালু করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানেও সেসব প্রথা অনুসরণ করা হচ্ছে।

দূররে সামাদ রহমান ও সাইফুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জীবনের ওপর আলোকপাত করেন সাবক অর্থ সচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক জাকির আহমেদ খাঁন, সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান, হাবিল আহমেদ মজুমদার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান নিহত হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম সাইফুর রহমান সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।