২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে সিডিও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি


স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ (সিডিও) সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও এখনও এর ধারা ২ ও ১৬.১ এর (গ) সংরক্ষণ রেখেছে সরকার। এ সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে সিডিও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীরা দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান বৈষ্যমের শিকার। নগণ্য কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা প্রকাশ্যে এলেও বড় ধরনের বৈষম্যগুলো পর্দার অন্তরালে থেকে যায়। দেশের উচ্চপদগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়নি। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব হলেও বৈষম্য টিকিয়ে রাখতে ধর্ম এখনও ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্রুত সময়ে সিডিও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিডিও দিবস-২০১৫ উপলক্ষে ‘স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজন সিডিও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, সিডিও সনদ একটি মাইলফলক। এটি একটি আন্তর্জাতিক আইন। এতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, পুরুষতান্ত্রিকতা একটি বড় ধরনের সমস্যা। আমাদের নারীরাও পুরুষতান্ত্রিকতার উর্ধে নয়। এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সমতা অর্জনও সম্ভব নয়।

সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ব্রিটিশরা নানা আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, এ আইনটি আমাদের ধর্মের সঙ্গে পরিপন্থী নয় অথচ প্রতিটি আইন সম্পর্কে ধর্মে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। নানা আইন পরিবর্তন হলেও একমাত্র পারিবারিক আইন পরিবর্তন হয়নি ধর্মের দোহাই দিয়ে। শুধু নারীর প্রতি বৈষম্য টিকিয়ে রাখার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে।

মূল প্রবন্ধ পাঠকালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সিডিও সনদে স্বাক্ষর করলেও সনদের চারটি ধারায় সংরক্ষণ আরোপ করে। নারী আন্দোলনের ক্রমাগত চাপের ফলে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করা হলেও এখনও ২ এবং ১৬.১ (গ) ধারায় সংরক্ষণ বহাল রাখা হয়েছে। মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক অদিতি রহমান ও মিথিলা ফারজানা।