২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কবিতা


আমাদের খোকা

মাকিদ হায়দার

[জাতির জনকের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধায়]

ভুলে যেতে চায় যেজন, সে জন

কাক আর কোকিলের জাতি।

চিঠিতে দিয়েছি লিখে, বাড়ির ঠিকানা,

এমনকি কোন নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হবে

খোকাদের বাড়ি

লিখেছি নদীর নাম,

মধুমতি।

যেতে, যেতে দেখবেন, একটি কিশোর বসে আছে

নৌকোর গলুইজুড়ে

খুব চেনা মনে হবে আপনার।

কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই জানবেন,

এই খোকা একদিন সাঁতার দিয়েছে

অকুতোভয়ে, মধুমতির এপাড় ওপাড়।

নদীর দক্ষিণ পাড়ে তাকালেই দেখবেন, একটি

স্কুল মাঠে খেলছে ফুটবল খোকার নিজস্ব দল।

হয়তোবা এমনও হতে পারে

গলুইয়ের বাঁধ থেকে লাফিয়ে

নিজেই নামবেন খেলার মাঠে

হলো ঠিক তাই।

হঠাৎ যখন খেলতে নেমেছে আমাদের খোকা।

জয় আজ হবে আমাদের।

ঠিক, তাই হলো, সে খেলায়।

সোনালি স্মরণ

কামাল মাহমুদ

হই হই করে নেমে পড়লো ছেলেদের দল

কলকল করে গড়িয়ে গেল কিশোরীর ঝাঁক

নিমেষেই গোটা পিকনিক স্পট ভালোলাগা কোলাহলে

লাল নীল গোলাপী হলুদে সেজে উঠলো

যেন বসন্ত মেলার সকাল ...

প্রাতঃরাশে সকাল ফুরালো

গুরুপাকে রান্না হলো আমিষ দুপুর

চুমুকে চুমুকে লাল বিকেল পান করলো তরুণ সকল

আলাপে প্রলাপে গানে কলহে কথায়

লেখা হলো মহাকাব্যই-

আনন্দ নদী বয়ে গেল ধ্রুপদ কল্লোলে

দিন শেষে ধীর পায়ে নেমে আসে শেষ শীতের সন্ধ্যা

বনভোজনের দল গায়ে পায়ে রাঙা ধুলো মেখে

লঘু অরণ্য থেকে জনারণ্যে ফিরে যায়

বনবাড়ি সুনসান পড়ে থাকে ভাঙা হাট

উঠোনের কোণে, কলপাড়ে, পুকুরের ঘাটে

পড়ে থাকে সোনালি স্মরণ ...

তার থেকে বহুদূরে বহুদিন পরে

ঘাসফুল নদীর উজানে

বহুতল নাগরিক গাঁ’র মেঘÑছোঁয়া ছাদের আঁধারে

একদিন জ্বলে ওঠে সেই বিস্মরণের দিন

সন্ধ্যামালতীর ঘ্রাণ, বিষণœ মাধবী আর

আনমনা গোলাপের পাশে

দীর্ঘশ্বাসে দুলে ওঠে স্মৃতির সবুজ

অতীত কিশোরী এক পরম যতেœ তাকে ছুঁয়ে থাকে কিছুক্ষণ।

কারণ দর্শানো অনুভূতি

বদরুল হায়দার

রেড এ্যালার্টের আওতায় রেখেছি তোমার ডিগবাজি। তুমি

সাশ্রয়ী সুযোগে বিস্তারিত আবেগে লগোর বিপরীতে

সিলেক্ট আউটলেটে করো কারসাজি।

চিয়ার্স গার্লের রিভার্স নোটিসে হৃদয়বিদারক

দুঃখের সাথে আমি খলনায়কের দোষে

পেয়েছি তোমার নিমরাজি।

হ্যাপি ওয়াচের আন্তঃডটকমে তুমি মন বেচাকেনা করো।

অবিশ্বাস্য দুঃসাহসে পাইরেটের শীর্ষে হৃদয়ারণ্যের দেশে

করো মনের দস্যুতা। আমি একতরফা প্রেমের সৌজন্য সাক্ষাতে

মিথ্যা বক্তব্যের কাছে মাতকরা দৃষ্টিভঙ্গির রক্ষার্থে

ভুলতে বসেছি তোমার স্বার্থপরতা।

বিরহের চার্জশিটে বাধ্যতামূলক আস্থার সঙ্কটে তুমি

ডাকসাইটে রঙিন ভেলকিবাজিতে কাপল ইয়ারে যোগ দাও।

আমি ধন ধান্যের সবুজে শান্তির বিহারে টানি

অভিন্নের নীরবতা।

আন্তঃবহির্ভূত পরিকল্পনা শুমারী শেষে বিকল্প বৈরীতে

চালু করো কারণ দর্শানো অনুভূতি।

পথ চলেছে ...

আহমদ সাইফ

পথ চলেছে সরলরেখায় কিংবা বক্র হয়ে

স্মৃতির বাড়ি খুঁজে ফিরি যায় তো সময় বয়ে।

দিনের পরে দিনের মিছিল যাচ্ছে গত হয়ে

সুখ বেদনা পার হয়ে যায় স্মৃতির মতো ক্ষয়ে।

কতকাল আর হাঁটবো বলো সুখ বেদনা খুঁজে

আঁখিজলে ছবি আঁকি ক্যানভাসে চোখ বুজে।

হাতড়ে বেড়াই কিশোর বেলা পুতুল খেলা দিন

চড়ুই পাখি তিড়িংবিড়িং নাচতো সারাদিন।

ঝিলের জলে নাও ভাসিয়ে শাপলা শালুক খুঁজে

দিনের শেষে কেচ্ছা শুনে আঁখি যেত বুজে।

সোনায় গড়া দিনগুলো আর ফিরে পাবো না

পথের শেষে পথের শাখা শেষ তো হবে না।

বেভুল সময়ের নির্জনতা

রাহমান ওয়াহিদ

কেউ একজন গুছিয়ে দিচ্ছে সুটকেসে

জামা-কাপড়, টুথব্রাশ, প্রয়োজনীয় ওষুধ-বিষুদ

গুছিয়ে দিচ্ছে শয্যা ও বালিশ, এলোমেলো শব্দগুচ্ছ,

বেভুল সময়ের নির্জনতা, বেলুনের ব্যর্থ বাতাস।

পড়ে নেই কোথাও পোড়া রোদ, পাড় ভাঙ্গা নদী,

মিহি কাঁচা জোছনা, ট্রেনের আর্ত হুইসেল।

শুধু শরীর থেকে নিঃশব্দে নেমে যাচ্ছে যে

মায়াবী অসুখ-বিসুখ, বেহুদা দুঃখের পলিজ বসতি,

বিমূর্ত ভালোবাসার মাকড়সা জাল ও সুতো-

কোন সুটকেসেই বন্দী করা যাচ্ছে না সেইসব,

যাচ্ছে না।