মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বিচিত্র ভয়!

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • নাঈম রায়হান ভূঁইয়া

ডিনারে ভয়

রাতের খাবারকে বলে ডিনার। আর ডিনারে ভয় ডিপনোফোবিয়া। সাধারণত রাতের খাবার একা খেতেই পছন্দ করেন ডাইনোফোবিয়ায় আক্রান্তরা। কারণ তারা খাওয়ার সময় কথা বলা বা কথা বলতে বলতে খাওয়াকে ভয় পান। অন্যদের সঙ্গে খাওয়ার সময় ডাইনোফোবিয়ার রোগীরা চান কেউ যেন কথা না বলে।

রান্নায় ভয়

রান্না করতে ভয় পাওয়ার নাম ম্যাগিরোকোফোবিয়া। এ ফোবিয়ায় আক্রান্তরা ঠিকমতো খাবার তৈরি করতে পারবে কি না, পরিবেশন ঠিক হচ্ছে কি না, খাবার খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে কি না এ ধরনের নানা আজগুবি ভয়ে ভুগতে থাকেন। গ্রিক শব্দ ম্যাগিরোকোস থেকে ম্যাগিরোকোফোবিয়া শব্দের উৎপত্তি। ম্যাগিরোকোস মানে দক্ষ রাঁধুনি।

ব্লেডফোবিয়া

ব্লেডকে ভয় পাওয়ায় দোষের কিছু নেই। তাই বলে ছোট্ট জিনিসটাকে হাতে নিতেও মানা? এই বুঝি কেটে গেল! এই বুঝি খুলে পড়ল আঙ্গুল। এমনকি হিটলারেরও ছিল ব্লেডফোবিয়া। শক্তপোক্ত লোকটা ব্লেড এতটাই ভয় পেতেন, যে দাড়ি কামানোর সময় নাপিতের হাতে ব্লেড দেখেও মুষড়ে পড়তেন।

পুতুল ভীতি

ছোটবেলায় পুতুল খেলতে পছন্দ করে অনেকে। কিন্তু বড় হতে হতে অনেকের মধ্যে জন্ম নেয় পুতুল ভীতি। পুতুলের চেহারায় একটু এদিক-সেদিক হলেই ভয় পান তারা। পুতুলের ভয়ে আক্রান্ত হওয়াকে বলা হয় পেডিওফোবিয়া। রোবট কিংবা জামাকাপড়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা পুতুল দেখেও ভয় পান এরা।

শাশুড়ি ভীতি

শাশুড়িকে নিয়ে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভীতি যেন খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। দেশ-কালভেদে এ ভীতির তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দেখা যায়, শাশুড়ির ভয়ে তটস্থ থাকেন বহু উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও। আর এটাও যে একটা ফোবিয়া সেটা হয়ত তারা জানেনই না। এ ভয়ের নাম পেনথেরাপোবিয়া। বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় এ রোগের খুব একটা প্রকোপ খুব একটা দেখা যায় না। তুলনামূলকভাবে পশ্চিমা দুনিয়ায় এই ফোবিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

রাস্তা পারাপার

রাস্তা পার হওয়ার সময় অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই বুঝি গাড়ি চাপা দিল। এ ফোবিয়ার নাম ড্রোমোফোবিয়া। মূলত এরা যে কোন খোলা জায়গায় গেলেই অস্বস্তি বোধ করে। দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে বসে থাকতে পারলেই তাদের শান্তি।

ভূতের ভয়

ভূতপ্রেতে কে না ভয় পায়? তাই বলে সারাক্ষণ কি এই ভয় কাজ করে? যাদের করে তারা পেজমোফোবিয়ায় আক্রান্ত। এরা সব সময় সবকিছুতেই ভূতপ্রেতের আক্রমণের আশঙ্কায় থাকে। এই বুঝি একা পেয়ে হামলে পড়ল!

আয়না ভীতি

এ ফোবিয়ার বিদঘুটে নামটা হলো আইসোপট্রোফোবিয়া। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ভয় পান কেউ কেউ। নিজের চেহারা নয়, আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখা যাওয়াটাই তাদের ভয়ের কারণ।

এ ফোবিয়ায় আক্রান্তরা অনেকেই ভয়ে অজ্ঞান বা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই আবার কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তারা মনে করে, আয়না ভেঙে ফেলাটা অমঙ্গল ডেকে আনে।

বিড়াল ভীতি

যুদ্ধ চলছে। মহাবিক্রমে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নেপোলিয়ন। শত্রুপক্ষকে এক মুহূর্ত দম ফেলার সুযোগ দিচ্ছেন না। তার তরবারির সামনে কেউ দাঁড়াতেই পারছে না। কচুকাটা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে শত্রুপক্ষের সেনারা। নেপোলিয়ানের সাহসিকতা তার নিজের সেনাদলের মনোবল বাড়িয়ে তোলে বহুগুণ। তারাও যুদ্ধ করে পরাক্রম নিয়ে। ভাবে, আমাদের নেতা দুনিয়ার কোন কিছুকেই ভয় পান না। তাই আমরাও শত্রুকে ভয় পাব না। বিজয় আমাদের হাতের মুঠোয়।

যুদ্ধ শেষে নিজের শিবিরে ফিরলেন নেপোলিয়ান। গোসল সেরে বিশ্রামের জন্য নিজের তাঁবুতে ঢুকলেন। হঠাৎ তাঁবুর ভেতর থেকে শোনা গেল আর্তচিৎকার! পাহারাদাররা তাঁবুর বাইরেই ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এল তারা। দেখা গেল অবাক করা এক দৃশ্য। মেঝেতে দাঁড়িয়ে নেপোলিয়ান ভয়ে-আতঙ্কে থর থর করে কাঁপছেন। ওদিকে তার বিছানায় আদুরে ভঙ্গিতে শুয়ে আছে একটি বিড়াল! রাজ্যের পর রাজ্য দখলকারী নেপোলিয়ানের বিছানার দখল নিয়েছে একটি ক্ষুদে বিড়াল। আর তাতেই অস্থির মহাবীর নেপোলিয়ন!

হাসপাতাল ভীতি

যুক্তরাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্রপতির ছিল হাসপাতাল ভীতি। এ ধরনের ভয়কে বলে ‘নসোকোমেফোবিয়া’। আজীবন তিনি হাসপাতালকে ভয় করে চলেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়লেও এড়িয়ে গেছেন হাসপাতালের চত্বর। তার ধারণা ছিল, একবার হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে আর জীবিত ফিরে আসা সম্ভব নয়।

ডিম ভীতি

বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক-প্রযোজক আলফ্রেড হিচককের ছিল ‘ডিম ভীতি’। ডিম খাওয়া তো দূরে থাক, দেখাও তার জন্য ছিল আতঙ্কের বিষয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের ভীতিকে বলে ‘ওভোফোবিয়া’। তিনি বিশ্বাস করতেন, ডিমগুলো সবসময় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলছে। তার সাক্ষাতকার থেকে জানা যায়, জীবনে তিনি একটিও ডিম খাননি এবং কোন ডিমকে কাছে ঘেঁষতে দেননি।

চুইংগামে ভয়

চুইংগামকে ভয় পান মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে! তার এই ভয় জন্ম নেয় ছোটবেলা থেকেই। শৈশবে দেখতেন, তার দাদি আলমারিতে চুইংগাম সাজিয়ে রাখছেন। এই দৃশ্য উইনফ্রের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তখন থেকেই চুইংগাম থেকে দূরে থেকেছেন তিনি। তার কর্মক্ষেত্রেও চুইংগামের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সহকর্মীরও বিষয়টি জানেন এবং সতর্ক থাকেন। উইনফ্রের অনুষ্ঠানের দর্শকরাও বিষয়টি নিয়ে সচেতন!

টমেটো ভয়!

‘এক থা টাইগার’ ছবিতে রীতিমতো ‘টাইগার’ সালমানের সঙ্গে প্রেম করতে একটুও ভয় পাননি ক্যাটরিনা! বাঘে যার ভয় নেই, তাকে তো সাহসীই বলতে হবে। কিন্তু এমনই সাহসী এক মেয়ের আছে এক বিচিত্র ভয়। ভূতপ্রেত বা ভয়ঙ্কর প্রাণী নয়, ‘টমেটো’কে ভীষণ ভয় পান ক্যাটরিনা! স্কুপহুপের খবর ঠিক হয়ে থাকলে আপনি ঠিকই পড়ছেন, নিরীহ সবজি- টমেটোকেই ভয় পান ক্যাটরিনা কাইফ!

‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ছবির সেই টমেটো উৎসবের দারুণ গানটির কথা হয়ত অনেকের মনে পড়তে পারে। ওই গানে তো ক্যাটরিনা ইচ্ছামতো লাখ লাখ টমেটোর স্তূপে লাফালাফি ও মাখামাখি করেছিলেন! হ্যাঁ, ক্যাটরিনা ভেবেছিলেন যে, এই গানে পারফর্ম করে তাঁর এই ‘টমেটো ভীতি’ হাওয়া হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এই গানের পর ভয়টা তার আরও চরম হয়েছে। এমনকি কয়েকদিন পর মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিকের একটি কাজের প্রস্তাব তিনি এক কথায় নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ, কাজটি ছিল একটি টমেটো কেচাপ ব্র্যান্ডের প্রচারণায় কাজ করা! অবশ্য টমেটোর চেহারা দেখে ভয় পান না ক্যাটরিনা। টমেটো খেতে হবে, সেটা ভাবতেই তিনি শঙ্কিত হয়ে উঠেন।

প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

০৪/০৯/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: