২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রবালের রংধনু


লোহিত সাগরের গভীরে রয়েছে এক জাদুর জগত। সে এমন এক জগত যেখানে প্রবালরা আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করে দেয়। তাদের শরীর থেকে আলো বেরোয়, আর তা দিয়ে পানির নিচে তৈরি হয় রঙধনু বা অপরূপ এক বর্ণময় জগত।

অগভীর জলরাশিতে জ্যোতির্ময় বা প্রভাময় প্রবালের অস্তিত্বের কথা আগে থেকেই জানা আছে। তবে সাগরের গভীর তলদেশে নতুন প্রভাময় প্রবাল প্রাচীরের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়েছে। ৫০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে পাওয়া এ ধরনের বর্ণময় প্রবাল প্রাচীর একই জায়গার অগভীর জলরাশিতে এর আগে দেখতে পাওয়া যায়নি। এসব প্রবালের কোন কোনটির স্বাভাবিক সবুজ রঙ অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে লোহিত বর্ণ ধারণ করে। আরও বড় কথা, গভীরতর সাগরের এই প্রবালগুলোর জ্যোতি কমলা ও লাল। অপেক্ষাকৃত অগভীর পানিতে এমন রঙ আগে দেখতে পাওয়া যায়নি। এত গভীরে থাকার ফলে এই প্রবালগুলো প্রাপ্ত যৎসামান্য আলো শুষে নেয় বলে তাদের প্রভাটা আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনের কোরাল রিফ ল্যাবরেটরির জর্গ ওয়াইডেনম্যানের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, এই রঙিন প্রভা বা আলো প্রকৃতপক্ষে হলো প্রোটিন। ওরা নীল বা অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা আলোকিত হলে অধিকতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো ফিরিয়ে দেয়, যেমন লাল বা সবুজ। তা গভীর পানির প্রবালের কোষের রঞ্জকগুলো তাদের আলোর ধকল বা খুব বেশি সংস্পর্শ লাগার সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এগুলো প্রবালের জন্য এক ধরনের সানস্ক্রিন বা সূর্যের আলো ঠেকানোর পর্দা হিসেবে কাজ করে এবং তাদের ট্যিসুর ভেতর বসবাসকারী মিথোজীবী এ্যালজিকে রক্ষা করে।

এই এ্যালজিগুলো মিথোজীবী। কারণ প্রবাল ও এ্যালজির মধ্যে দারুণ পারস্পারিকতা পূর্ণ ও সমন্বয়মূলক সম্পর্ক আছে। এ্যালজি তৈরি করে সুগার বা শর্করা, যা প্রবালকে ইন্ধন বা শক্তি জোগায়। অন্যদিকে প্রবাল তৈরি করে সমৃদ্ধ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস বর্জ্য, যা এ্যালজির জন্য সার হিসেবে কাজ করে।

সাগরের গভীরতর ও অন্ধকারতর অঞ্চলে যেখানে আলো কদাচিৎ পৌঁছে সেখানে প্রভাময় প্রবালের উপস্থিতি গবেষকদের রীতিমতো ধাঁধায় ফেলেছে। ৫০ মিটার বা তারও গভীরে প্রবালরা খুব বেশি আলোয় কষ্ট পাবে বা সমস্যায় পড়বে, তা মনে করার কোন কারণ নেই। বরং এ্যালজির আলোকসংশ্লেষণ কাজের জন্য প্রবালরা পর্যাপ্ত আলো পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রবালের শরীরে যে প্রভা থাকে, তা আরও বেশি করে আলো শুষে নিতে তাদের সাহায্য করতে পারে, যে আলো এ্যালজির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন।

এই আলোর প্রভা থাকার কারণে প্রবালরা বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় প্রয়োজনীয় উপকরণেও পরিণত হতে পারে। জীবন্ত কোষগুলোর অবস্থা ভালভাবে তুলে ধরার জন্য এগুলোকে ব্যবহার করা যেতে পারে। জীবন্ত কোষগুলোর ভেতরে প্রভাময় প্রোটিন ঢুকিয়ে দিলে কোষগুলোর ভেতরটা আলোকিত হয়। তখন কোষের ভেতরকার প্রক্রিয়াগুলো ক্রিয়াশীল অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় কিংবা যেসব জিন সম্পর্কে কৌতূহল আছে, সেগুলোর ক্রিয়াকলাপের সন্ধান বের করা যায়।

ওয়াইডেনম্যান বলেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে রঙের একটা আলাদা জগত আছে দেখে আশা জাগে যে, এর মধ্যে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। এক সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন জৈবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য এগুলোর উদ্ভব হয়েছে।

সূত্র : ন্যাচার সায়েন্স

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক