২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মধ্য-আয়ে বাংলাদেশ জয়তু শেখ হাসিনা


সরকারের দৃঢ় ও সুষ্ঠু নীতি এবং কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা গত অর্থবছরের শেষে ১১২৬৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে । বুধবারের চতুরঙ্গ পাতার পর আজ পড়ুন শেষাংশ...

দ্রুত প্রসারণশীল অর্থনীতির স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। এই লক্ষ্যে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, সড়ক ব্যবস্থার প্রসারণ ও সংরক্ষণ এবং বন্দর সুবিধার উন্নয়ন অবশ্য পূরণীয় শর্ত। এই ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রয়োজনের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব এখনও অপর্যাপ্ত। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো, পায়রা সমুদ্র বন্দর সত্বর কার্যক্ষম করা এবং উপকূলের অদূরে মহেশখালী বা কুতুবদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ দেশে-বিদেশী বাণিজ্য প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রক্ষেপিত হয়েছে। দেশের সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নের সঙ্গে এদিকে বাস্তবায়নের দ্রুততা বাড়ানো আবশ্যক। পদ্মা সেতু নির্মাণ যথাসময়ে সম্পূর্ণকরণ এবং যমুনার ওপরে ২য় সেতু নির্মাণ, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর অতিরিক্ত সেতু সমাপ্তকরণ জরুরীভাবে হাতে নিতে হবে।

সাম্প্রতিককালে রফতানি আয় আশাপ্রদভাবে বেড়েছে। উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হলে রফতানি আয় বাড়াতে হবে এবং সেই আয়ের সবচাইতে বড় অংশ মূলধন দ্রব্যসামগ্রী বা অববায়িত প্রযুক্তি আমদানিতে প্রযুক্ত করতে হবে। রফতানি ও আমদানি প্রক্রিয়া এভাবে প্রয়োগ করার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অধিকতর উদারীকরণ, প্রতিযোগিতার প্রসারণ এবং বাণিজ্য প্রতিকূল বাধা ও সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। রফতানি আয় বাড়ানো ও তার উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের কাঠামো সৃষ্টি করা সঙ্গত হবে।

আমাদের বিদেশী আয়ের একটি বিরাট অংশ প্রায় ১২৫০০ মিলিয়ন ডলার এখন বিদেশ থেকে শ্রমিক প্রেরিত আয়ের অবয়বে আসে। সমকালে প্রায় ১ কোটি শ্রমিক বিদেশে কাজ করেন। কেবলমাত্র ১৬-৬০ বছর বয়স্ক পুরুষ লোকবলকে যদি বিদেশে প্রেরণীয় বলে আমরা ধরে নেই তাহলে আমরা দেখব যে, দেশের প্রতি ৪ জন সক্ষম পুরুষের মধ্যে ১ জন বিদেশে কর্মরত আছেন। স্বদেশে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে সম্ভবত বিদেশে প্রেরণীয় এ লোকবল আর বাড়ানো সঙ্গত হবে না। এই নিরিখে অধিকতর দক্ষ শ্রমশক্তি বিদেশে প্রেরণ করার লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এদিকে আমাদের কার্যক্রম জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী অধিকতর শাণিত করতে হবে। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রত্যাগত শ্রমিকরা যাতে আহরিত প্রযুক্তি ও মূলধন দিয়ে দেশে শিল্প উৎপাদনে ব্রতী হতে পারে তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দিতে হবে।

সাম্প্রতিককালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাঁর দৃঢ় ও দূরদর্শীমূলক সিদ্ধান্ত কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে প্রাথমিক শিক্ষার আবরণে ৪ থেকে ১৪ বয়োবর্গের প্রায় সকল শিশুকে আনা সম্ভব হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করা হয়েছে এবং সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা বাংলাদেশে পৃথিবীর এই এলাকার আপেক্ষিকতায় সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত বা নিবিড় হয়েছে বলা চলে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অবকাঠামোমূলক বিস্তৃতিকে ভিত্তি করে এখন প্রয়োজন হবে সকল পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন ও লাগসই গবেষণা বিস্তৃতকরণ। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে গুরুত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সে অনুযায়ী শিক্ষক, গবেষক, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকলকে এগিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এককালের মহামারী কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, এমনকি সাম্প্রতিককালের পোলিও বাংলাদেশ থেকে তিরোহিত হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা সকল বিভাগীয় নগরে স্থাপিত হয়েছে। দেশে গড় জীবন প্রত্যাশা ৮০ বছর ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার এ বিস্তৃতি দেশে দক্ষ জনশক্তির সৃজন ও সংরক্ষণের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।

সবচেয়ে বড় কথা, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশ যুদ্ধ অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে, সন্ত্রাস দমন করে, স্বৈরতান্ত্রিকতাকে দূরে সরিয়ে এবং গণতন্ত্রের মৌল নীতি অবলম্বন করে সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন সত্তায় সকল নাগরিকের জন্য সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক এবং বিচার বিভাগীয় কাঠামো ও পদ্ধতি সংস্কার করে জনস্বার্থে সকল কার্যক্রম প্রযুক্ত করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সরকারই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র সরকার যা শুদ্ধাচার নীতি ও কৌশলকে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে প্রতিপালিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।

২০১৫ সালের শেষাংশে যখন ইতোমধ্যে অনুসৃত নীতি ও কার্যক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ নি¤œ মধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে তখন সেইসব নীতি ও কার্যক্রম আরও তীক্ষè, বস্তুনিষ্ঠ ও সূক্ষ্মভাবে প্রসারিত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের সূত্র ধরে কদিন আগে সাংবাদিক ও কলাম লেখক আনিসুল হক এ সকল দিক বিবেচনা করে বলেছেন যে, তার ২৬ বছর সাংবাদিক ও লেখক জীবনে তিনি দেশের দরিদ্রতম এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মঙ্গা জয়ের হাসি দেখেছেন। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, সব ছেলেমেয়ের স্কুলে যাওয়া, সবার স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করা, সব বাড়িতে টিউবওয়েল দেখছেন। আরও দেখছেন গ্রামে কুঁড়েঘরের জায়গায় টিনের ঘর হচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মিলেমিশে দুর্ভিক্ষ দূর করেছে, মানুষের আয় বাড়িয়েছে, নারী-পুরুষের সমমর্যাদা নিশ্চিত করে জীবনের মান উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এসব অববায়িত সূত্র ধরে তার মতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ (আনিসুল হক, অরণ্যে রোদন, প্রথম আলো ২৮ আগস্ট ২০১৫)। তার মতের সঙ্গে মিল রেখে আমরা বলি, আর অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে এসব বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে নি¤œ মধ্য-আয়ের দেশের মর্যাদা পাবে বাংলাদেশ, অচিরেই এগিয়ে যাবে উন্নত দেশ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে। এ ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ এবং প্রয়োগযোগ্য নীতি, সূত্র ও কার্যক্রম প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতা শেখ হাসিনার সরকারের আছে বলে প্রতীয়মান। বঙ্গবন্ধু যে দেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং যে দেশের মানুষকে ভালবেসে জীবন দিয়েছিলেন সে দেশে তাঁর যোগ্যতম উত্তরসূরি হয়ে শেখ হাসিনা নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। জয়তু শেখ হাসিনা।

লেখক : সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ