২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ হজ করা কার জন্য অবশ্য কর্তব্য


পবিত্র হজ পালন করা সেই ব্যক্তির জন্য অবশ্য কর্তব্য যার মক্কা মুকাররমা গমনের দৈহিক, আর্থিক সামর্থ্য আছে। এই সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। জীবনে একবার হজ করা ফরজ হলেও একের অধিক হজ করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হয়। একবার হজ করলে হজের যে আনন্দ তা হাজীকে বারবার হজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। হজের মাস শুরু হয় শওয়াল মাস থেকে। মাহে রমাদানুল মুবারকের এক মাস সিয়াম পালনের পর শাওয়াল মাসের পহেলা তরিখে আছে ঈদ-উল-ফিতর আর এই দিন থেকে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ মাসের ৭ তারিখের যে কোন দিন হজের নিয়তে ইহ্রাম বাঁধা যায় আর হজের অনুষ্ঠানাদি পালিত হয় জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত। অবশ্য ১৩ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত প্রয়োজনে বর্ধন করা যায়। কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, হজ হয় সুবিদিত মাসসমূহে। অতঃপর যে কেউ এই মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে (সূরা বাকারা : আয়াত ১৯৭)। হজের আরকান জিলহজ মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়, তবে হজের নিয়তে ইহ্রাম শওয়াল মাস থেকে বাঁধা যায়। সেলাইবিহীন আড়াই গজ সাদা কাপড় তহবন্দ হিসেবে এবং একই রকম কাপড় চাদর হিসেবে পরিধান করতে হয়। শওয়াল মাসের পূর্বে হজের জন্য ইহ্রাম বাঁধা যায় না। হজের জন্য ইহ্রাম বাঁধা একটি প্রথম শর্ত; যেমন সালাতের জন্য অজু করা শর্ত।

মিকাত পৌঁছে ইহ্রাম বাঁধতে হয়, আমাদের দেশের জন্য ইহ্রাম বাঁধার স্থান হচ্ছে ইয়া লাম লাম পাহাড়। বর্তমানকালে প্লেনে হজে যেতে হয়, যে কারণে প্লেনে আরোহণের পূর্বেই বিমানবন্দর, কিংবা ঢাকায় বসবাসকারীগণ বাসা থেকে ইহ্রাম বাঁধতে পারেন। হজ করা ফরজ। হজের জন্য কতকগুলো শর্ত রয়েছে যেমন : সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে, পাগলের জন্য হজ ফরজ নয়, স্বাধীন হতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, সুস্থ স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে, অন্ধ-খোঁড়াদের ওপর হজ ফরজ না। যাতায়াত ও মক্কা মুকাররমা অবস্থানের জন্য এবং খাবার-দাবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকতে হবে। পথ নিরাপদ হতে হবে, হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের লোকদের ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচাদির ব্যবস্থা করে যাওয়া, মহিলা হজযাত্রীদের সঙ্গে স্বামী অথবা এমন কোন আত্মীয় সহযাত্রী থাকতে হবে যার সঙ্গে বিয়ে হারাম।

হজ ফরজ হওয়ার বছরেই অর্থাৎ হজে যাওয়ার সামর্থ্য হওয়ার বছরেই হজে যাওয়া কর্তব্য। হজে যাওয়ার সামর্থ্য ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার পক্ষে কেউ তার রেখে যাওয়া ধনসম্পদ থেকে হজ করবেন।

হজের ফরজ হচ্ছে : ইহ্রাম, ৯ জিলহজ দিবসে আরাফাত ময়দানে অবস্থান (উকুফে আরাফা) তওয়াফে যিয়ারা বা তওয়াফে ইফাদা তরতীব অনুযায়ী সবকিছু করা।

ওয়াজিবের মধ্যে রয়েছে সাফা মারওয়া পাহাড় সায়ী করা, ১০ জিলহজ রাতে মুয্দালিফায় অবস্থান করা। এখানে উল্লেখ্য যে, এই মুয্দালিফাতে এসে প্রায় ৩৫০ বছর পর রাত্রিযাপন করেছিলেন (হজরত আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ)। মিনাতে শয়তানকে পাথর মারা, কোরবানি করা, মাথার চুল কর্তন করা অথবা ছাঁটা ইত্যাদি। হজে বেশ কয়েকটি সুন্নত রয়েছে। হজের বিধান বলবত করেছিলেন আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম। সেই বিধান মোতাবেক হজ পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু কালক্রমে হজ অনুষ্ঠানে অনেক শিরক, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস কুফরি অনুপ্রবেশ করে। প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট হজ বিধান নাজিল হয় নবম হিজরীতে। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : তোমরা একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের মিল্লাতের অনুসরণ করো। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত না। নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাতো বাক্কায় (মক্কার প্রাচীন নাম বাক্কা) তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে, রয়েছে মাকামে ইব্রাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশে ওই গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য (সূরা আল ইমরান, আয়াত ৯৫-৯৭)।

লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরীফ,

উপদেষ্টা, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.),

সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ